সর্বশেষ আপডেট : ৭ মিনিট ৪১ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কানাইঘাটে পকেট মারতে এসে জনতার হাতে ধরা ইউপি সদস্য ও তার স্ত্রী

কানাইঘাট প্রতিনিধি:: কানাইঘাট বাজারে এক ইউপি সদস্যের স্ত্রী পকেট মারতে এসে জনতার হাতে ধরা পড়ায় ঐ চোর চক্রের বিরুদ্ধে রুখে দাড়িয়েছে স্থানীয় এলাকাবাসী। শুক্রবার জকিগঞ্জ উপজেলার বারহাল ইউপির কোনাগ্রামের কয়েক শতাধিক মানুষ এদের বিরুদ্ধের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। পরে এলালাকার যুব সমাজ ইউপি সদস্য ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দিয়ে মিছিলও করে।

জানা যায়, গত মঙ্গলবার বারহাল ইউপি’র ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুস ছালাম সোবহান ও তার স্ত্রী রোকেয়া আক্তার লিলি তাদের একটি চক্র নিয়ে কানাইঘাট বাজারে অভিনব পন্থায় চুরি ও পকেট মারতে যান। এতে তার স্ত্রী রোকেয়া বেগম লিলি জনতার হাতে ধরা পড়ে জেল হাজতে চলে গেলে এলাকার লোকজন মেম্বার আব্দুস ছালামকে ধিক্কার জানিয়ে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবীতে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে। এতে এলাকার বিশিষ্ঠ মুরব্বী সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান তালুকদার মিসবাহ জামানের সভাপতিত্বে ও ছাত্রনেতা মাহফুজ আহমদের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট মুরব্বী মাষ্টার এখলাছুর রহমান, চুনু মিয়া, মুজিবুর রহমান,আব্দুস সবর, হাজী লুক্কুর মিয়া, আব্দুস শুক্কুর, শাহাব উদ্দিন, জলিল মিয়া, হারিছ মিয়া, জামাল উদ্দিন, কামরুল ইসলাম, শরীফ আহমদ,বিলাল হোসেন হিরো, আব্দুর রহিম, আব্দুল মালিক, সাহেদ আহমদ, নুরাই মিয়া, নুর মুহাম্মদ, সাবেক ইউপি সদস্য জামাল উদ্দিন,হাফিজ শামীম আহমদ, আব্দুল মালিক মলই মিয়া, যুব সমাজের পক্ষে বক্তব্য রাখেন পারভেজ আহমদ, কোনাগ্রাম ইউথ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সহ-সভাপতি মুমিন আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম ইকবাল, ছাত্রনেতা মেহদী হাসান উপস্থিত ছিলেন ছাত্র নেতা রেজাউল করিম, জুনেদ আহমদ, আরিফ আহমদ, তারেকুল হাসান, হুসেন আহমদ, দেলোয়ার হোসেন, তুহিন আহমদ, তারেক শিকদার, মাসুদ আহমদ, স্বপন আহমদ, লুকমান আহমদ, সাদিক আহমদ, রাজু, আফতাবুজ্জামান, তারেক আজিজ, ছাব্বির আহমদ, সুহেল আহমদ, রাজন, আবু সুফিয়ান, ফরিদ আহমদ, জাকির আহমদ, মনজুর আহমদ, দুলাল আহমদ, কামাল আহমদ প্রমূখ। এ সময় কয়েক শতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে এলাকার নেতৃবৃন্দ বলেন তারা আজ সমাজের কাছে লজ্জ্বিত যে, ইউপি মেম্বার হিসেবে তারা একজন চোর পেয়েছেন। যার গোটা পরিবারের লোকজন চুরির সাথে জড়িত। তারা দাবী করে বলেন ইউপি সদস্য আব্দুস ছালাম সোবহান ও তার স্ত্রী রোকেয়া বেগম লিলি আন্তঃজেলা চোর ও প্রতারক চক্রের সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে এলাকায় চুরি ডাকাতি, জুয়া ও মাদক সহ নানা অভিযোগ রয়েছে। তারা শুধূ কানাইঘাটে নয় সিলেটের বিভিন্ন উপজেলা সহ বিশেষ করে গত কয়েক মাস পুর্বে গোলাপগঞ্জ বাজরের একটি শপিংমলে পকেট মারতে গিয়ে জনতার হাতে অনুরূপ ধরা পড়ে। তাই অবিলম্বে চোর সোবহানের ইউপি সদস্য পদ বাতিল করে ৬নং ওর্য়াডের সুনাম ফিরিয়ে এনে এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা বজার রাখতে তারা প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান।

এবং এ ব্যাপারে আব্দুস ছালাম সোবহানের ইউপি সদস্যে পদ বাতিল ও তার গ্রেফতারকৃত স্ত্রী রোকেয়া আক্তার লিলি সহ চোর চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবীতে আগামী বুধবার এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে স্থানীয় বারহাল ইউপি কমপ্লেক্সের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য গত সোমবার পবিত্র ঈদ-উল আযহা সামনে রেখে বারহাল ইউপি’র ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুস ছালাম সোবহান ও তার স্ত্রী ৩ সন্তানের জননী রোকেয়া বেগম লিলি অভিনব কায়দায় পকেটমারতে একদল চোর নিয়ে কানাইঘাট বাজারে আসেন। এ সময় তাদের নবম শ্রেণী পড়–য় এক মেয়ে সহ অপর দুই মেয়ে সঙ্গে ছিল। এতে কানাইঘাট উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউপি’র কান্দলা গ্রামের হারুন রশিদের স্ত্রী মিনারা বেগম তার শ^াশুড়ী মায়ারুন নেছাকে সাথে নিয়ে কানাইঘাট সোনালী ব্যাংক থেকে মুক্তিযোদ্ধার ভাতা বাবদ ১৯ হাজার টাকা উত্তোলন করে একটি কাপড়ের ব্যাগে করে হাতে নিয়ে পাশের একটি মোদির দোকানে জিনিস পত্র কিনতে যান। এ সময় আন্তঃজেলা চোর চক্রের সদস্য রোকেয়া বেগম লিলি অভিনব কায়দার ঐ দোকানে কেনাকাটার ভান করে ঢুকে মিনারার হাতে থাকা ব্যাগ ব্লেড দিয়ে কেটে টাকাগুলো নিয়ে ছিটকে পড়ার চেষ্টা করে। এতে মিনারার ব্যাগের দিকে নজর পড়লে সে চিৎকার করে বলতে থাকে ঐ মহিলা তার টাকা নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। ততক্ষনে চতুর পকেটমার রোকেয়া আশপাশে উৎপেতে থাকা তার সহযোগীদের সাথে হাত বদল করে নেয়। এতে মিনারার চিৎকারে বাজারের লোকজন রোকেয়া আক্তার লিলি পালিয়ে যাওয়ার সময় ধাওয়া দিয়ে আটক করে ফেলে। খবর পেয়ে কানাইঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে জনতার কবল থেকে পকেটমার রোকেয়াকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। সেখানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে চতুর রোকেয়া নানা অভিনয়ে টালবাহনা মিথ্যা তথ্য দিতে থাকে। একপর্যায় বিয়ানীবাজার উপজেলার একটি গ্রামের ঠিকানা দিয়ে বলে সে ঐ গ্রামের সৌদীপ্রবাসী আব্দুস ছালামের স্ত্রী। তার নাম শিমু। তার ৩ মেয়েকে নিয়ে সে কানাইঘাটের একটি বাসায় এসেছে। কখনো বলছে তারা কেনাকাটা করতে এখানে এসেছেন।

এতে কানাইঘাট থানা পুলিশ তথ্য নিয়ে জানতে পারে তার দেওয়া তথ্য সঠিক হয়েছে কিন্তু সে সেই সৌদীপ্রবাসী আব্দুস ছালামের স্ত্রী শিমু নয়। সে জকিগঞ্জ উপজেলার বারহাল ইউপি’র ৬নং ওর্য়াডের বর্তমান সদস্য কোনাগ্রামের আব্দুস ছালাম সোবহানের স্ত্রী। তার আসল নাম রোকেয়া আক্তার লিলি। সে পুলিশের চোখকে ফাকিঁ দিয়ে বেরিয়ে যেতে চেয়েছিল। এ ঘটনায় মিনারা বেগম বাদী হয়ে পকেটমার রোকেয়া আক্তার লিলি, তার স্বামী ইউপি সদস্য আব্দুস ছালাম সোবহান, তাদের চক্রের সদস্য কোনাগ্রামের মৃত মড়া মিয়ার পুত্র নিজাম উদ্দিন সহ ৪জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আইনে কানাইঘাট থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার প্রেক্ষিতে ঐদিন বিকালে কানাইঘাট থেকে আসামী নিজাম উদ্দিনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পর দিন মঙ্গলবার তাদের আদালতে সোর্পদ করা হয়। এ ব্যাপারে কানাইঘাট থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ নুনু মিয়া জানান ইউপি সদস্য আব্দুস ছালাম সোবহান ও তার স্ত্রী রোকেয়া আক্তা লিলির বিরুদ্ধে জকিগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জ থানায় চুরির মামলা রয়েছে।

এমনকি ইউপি মেম্বারের উপর ডাকাতি মামলাও রয়েছে। তারা আন্তঃজেলা প্রতারক ও পেশাদার চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য। তাদের চক্রের সদস্যেদের চিহিৃত করে আইনের আওতায় আনা হবে।




এ বিভাগের অন্যান্য খবর




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: