সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

‘পত্রিকায় অযাচিত লেখালেখিতে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হয়’

নিউজ ডেস্ক:: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ২০২৫ সালের মধ্যে রাজধানীতে আধুনিক পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য একটি মহাপরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেছি। আজকের দাসেরকান্দি পয়োশোধনাগার নির্মাণ পরিকল্পনা তারই একটা অংশ। কেউ যদি কোনো প্রকল্পের কাজ না পায়, সেটা নিয়ে পত্রপত্রিকায় অযাচিকভাবে লেখালেখি হয়। এ কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হয়। তা ছাড়া কিছু পত্রিকা আছে, যারা একটু খুদ পেলেই উন্মুখ হয়ে বসে থাকে সেগুলো ছাপানোর জন্য। এতে জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ অকারণে পিছিয়ে যায়।

রোববার সকালে প্যান প্যাসেফিক সোনারগাঁও হোটেলে ঢাকা ওয়াসার দাসেরকান্দি পয়োশোধনাগার প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

এসব বিতর্কে বছর তিনেক পেছানোর পর ২০১৬ সালের ২৬ জুন উদ্বোধন হয় মেট্রোরেলের কাজ। ২০২১ সালের মধ্যে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত যাত্রী বহন শুরু হবে। অথচ এ নিয়ে বিতর্ক না হলে এরই মধ্যে কাজ প্রায় শেষ হয়ে যেতে পারত। স্বপ্নের পদ্মাসেতু প্রকল্পও পিছিয়েছে দুর্নীতি চেষ্টার ভুয়া অভিযোগের কারণে। যে সেতু দিয়ে এখন যান চলাচলের কথা, সেটি চালু হতে হতে আগামী বছরের মাঝামাঝি সময় লেগে যেতে পারে।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব জাফর আহমেদ খান, ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসকিম এ খান প্রমুখ বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে প্রকল্প এলাকার একটি রেপ্লিকা দেখানো হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দাশেরকান্দি পয়োশোধনাগার প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে হাতিরঝিল, গুলশান, বনানী, বারিধারা, সেনানিবাস এবং সংসদ ভবন এলাকায় জলাবদ্ধতার সমস্যার যেমন সমাধান হবে তেমনি বাসিন্দারা একটি উন্নত পয়োনিষ্কাশনের সুবিধা পাবে।

শেখ হাসিনা বলেন, যে কোনো ধরনের প্রকল্পের কাজ করতে গেলে আমাদের নানা ঝামেলার সম্মুখীন হতে হয়। এমনকি পাইপে আধা ইঞ্চির সমস্যা নিয়ে আমাদের অনেক দিন সময় নষ্ট হয়ে গেল।

PM-1

এসব বিতর্ক কেন তোলা হয়, তা বর্ণনা করে সরকারপ্রধান বলেন, কারণটা আমি জানি। কারণটা আর কিছুই না, কাজটা কে পেল না পেল। কেউ যদি না পেল, ওমনি দিল একখানা পত্রিকায় লিখে। আর কিছু পত্রিকা তো উন্মুখ হয়ে বসে থাকে, ওটা লিখবেই। তারপর সেটা নিয়ে আবার নানা জল্পনা-কল্পনা, তারপর আবার মাপামাপি, তার ওপর আবার রিপোর্ট দেন। অনেক ঝক্কি ঝামেলা, খামাখা সময়টা নষ্ট। অথচ হাতিরঝিল করেছি, হাতিরঝিলের পানি প্রায়ই পচে যায়। এই ট্রিটম্যান্ট প্লানটা যদি আমরা না করি, তাহলে হাতিরঝিলকে রক্ষা করা সম্ভব হবে না, এটা হলো বাস্তবতা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরের অনেক পুকুর ভরাট হয়ে বিল্ডিং হয়ে গেছে। পুকুর ভরাট করা চলবে না, সব ধরনের জলাধার সংস্কার, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করতে হবে। ঢাকায় এখন হাতেগোনা কয়েকটা পুকুর। এই পুকুরগুলো সব সংরক্ষণ করতে হবে। আর যেন কেউ পুকুর ভরাট না করে সে দিকে সতর্ক থাকতে হবে।

রাজধানীর পাশাপাশি জেলা, উপজেলা শহর এবং ইউনিয়ন পর্যায়েও পানি ও পয়োসেবা নিশ্চিত করতে উদ্যোগী হওয়ারও নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমাদের সুপেয় পানি সরবরাহ, পয়োনিষ্কাষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, এই তিন পদক্ষেপ নিতে হবে এই কারণ যে, আমরা প্রত্যেকটা প্রামকে শহরে উন্নীত করতে চাই, গ্রামের মানুষ যেন শহরের মতো একটা উপযোগী ব্যবস্থা পায়।

শেখ হাসিনা বলেন, রাজধানীর প্রধান নদী বুড়িগঙ্গার তলদেশে থাকা বর্জ্য অপসারণ, বর্জ্য শোধনাগার স্থাপন করে নদীটিতে পুরোপুরি দূষণমুক্ত করার পরিকল্পনাও নেই আমরা। বুড়িগঙ্গা তো প্রায় পচে দুর্গন্ধ। প্রচুর ময়লা দেখান থেকে বের করতে হয়েছে। কিন্তু তারপরও এখনও সেভাবে হয়নি। ওখানেও কতগুলো স্যুয়ারেজ সিস্টেম তৈরি করতে হবে।

বালু, তুরাগ, ধলেশ্বরীও ড্রেজিং করার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নদী ড্রেজিং করলে প্রচুর জমি আমরা উত্তোলন করতে পারি। কোথাও আমরা ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন করব, কোথাও আমরা চাষের উপযোগী জমি ব্যবহার করব, কোথাও আমরা শহর গড়ে তুলব।

‘জাতির পিতা এ দেশ স্বাধীন করে দিয়ে বলেছিলেন, বাংলাদেশ হবে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ। এ দেশের শোষিত-বঞ্চিত ভাগ্যহারা মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতেই বঙ্গবন্ধু সারাজীবন কাজ করেছেন। গভীরভাবে এ দেশের মানুষকে ভালোবেসেছেন। আমরা সন্তান হয়ে বাবার কাছ থেকে সে সময়টুকু পাইনি। দেশ স্বাধীনের ৪৭বছরে আমরা যা না পেয়েছি বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে ১০ বছরে এ দেশ উন্নত-সমৃদ্ধ হতো। যখনই বাংলাদেশের মানুষ একটু সুখের মুখ দেখতে শুরু করেছিল তখনই হত্যা করা হয় জাতির জনককে।


নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: