সর্বশেষ আপডেট : ২২ মিনিট ৫৫ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

এমিটেশন গহনার দোকান বেড়েছে, কমেছে ব্যবসা

জীবন পাল:: একটা সময় বিয়ের অনুষ্ঠানে কিংবা জন্মদিনে মেয়েদের সাজসজ্জায় সোনা,রুপা ছাড়া অন্য কোন অলংকারের কথা চিন্তায় করা যেতনা। সময়ের সাথে সাথে সেই জায়গাটি দখল করে নেয় এমিটেশন গহনা। একদিনের অনুষ্ঠানে নিজেকে সাজাতে সারা দেশের মত সিলেটের নারীদের চাহিদা দিনে দিনে বাড়তে থাকে এইসব এমিটেশন,গোল্ড প্লেটেড জুয়েলারীর উপর। বিশেষ করে সিলেটের লন্ডর প্রবাসীরা বিভিন্ন অনুষ্ঠান মানেই এমিটেশন গহনার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় একচেটিয়া ব্যবসা করতে থাকে অ্যমিটেশন,গোল্ড প্লেটেড জুয়েলারী ব্যবসায়ীরা। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে দোকান বাড়লেও ইদানিং কমে যাচ্ছে অ্যামিটেশন, গোল্ড প্লেটেড জুয়েলারীর ব্যবসা।

কম দামের জিনিসের প্রতি মানুষের চাহিদা বেড়ে যাওয়া,সিমিলার জিনিস বিভিন্ন জায়গায় পাওয়া এবং এক দিনের জন্য বেশি দাম দিয়ে এমিটেশন,গোল্ড প্লেটেড জুয়েলারীর শো-রুম থেকে জুয়েলারী জিনিসপত্র কেনার প্রতি আগ্রহ না থাকাটাকেই ব্যবসা কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে দেখছেন সিলেটের প্রথম অ্যামিটেশন, গোল্ড প্লেটেড জুয়েলারী শো-রুম অ্যারাবিয়ান্স এমিটেশন জুয়েলারী সিলেট ব্রাঞ্চের ম্যানেজার দুলাল তালুকদার।

দুলাল জানান,দেশের বাইরে বেশ কয়েকটি দেশেই আমাদেও অ্যারাবিয়ান্স এমিটেশন জুয়েলারীর শো-রুম আছে। ২০০৮ সালে সিলেট ব্রাঞ্চের যাত্রা শুরু করে। শুরুর দিকে এমিটেশনের ব্যবসাটা ভাল ছিল। কিন্তু ২০১৩ সালের দিকে ব্যবসায় মন্দা ভাবটা শুরু হয়। যে মন্দা ভাবটা এখনো রয়েছে।

জেমস গ্যালারী,অ্যারাবিয়ান্স এমিটেশন জুয়েলারী ও পার্ল ফেয়ার জুয়েলারী ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, জেমস গ্যালারী পূর্বে যেখানে সর্বনিম্ন ৪৫ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৭০ হাজার টাকা নিয়মিত বিক্রি ছিল সেখানে এখন হচ্ছে সর্বনিম্ন ১০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা। ঈদ সিজনে যেখানে বিক্রি ছিল সর্বনিম্ন ৮০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৯০ হাজার টাকা সেখানে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে সর্বনিম্ন ২৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা।
অন্যদিকে অ্যারাবিয়ান্স এমিটেশন জুয়েলারীর যেখানে নিয়মিত বিক্রি ছিল সর্বনিম্ন ৩০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা সেখানে হচ্ছে ১৫-২৫ হাজার টাকা। আর ঈদ সিজনে যেখানে ছিল লক্ষাধিক টাকার মত সেখানে হচ্ছে নিয়মিত দৈনিক ব্যবসার মতই।

অপরদিকে,পার্ল ফেয়ার জুয়েলারীতে আগে যেখানে নিয়মিত বিক্রি ছিল ৩০-৫০ হাজার টাকা সেখানে নিয়মিত ব্যবসার পাশাপাশি ঈদেও মত সিজনেও বিক্রি হয়ে থাকে হচ্ছে ১০-১৫ হাজার টাকা। সিলেটের প্রায় অধিকাংশ অ্যামিটেশন জুয়েলারীর শো-রুমের চিত্র প্রায় একই ।

কনিকা আক্তার নামের এক ক্রেতা জানান,আগের তুলনায় দাম বেশি তাই পছন্দ হলেও কেনার প্রতি আগ্রহ হারাতে হচ্ছে। আগে যেখানে কেনাকাটা করতে আসা মানেই অনেক জুয়েলারী পন্য ক্রয় করা হত,এখন সেখানে অনেকটার জুয়েলারী পন্যের জায়গায় একটা জুয়েলারী পন্য কেনার জন্য অনেক ভাবতে হচ্ছে।
শিলা বেগম নামের আরেক ক্রেতা জানান, আগে সব ধরনের অ্যমিটেশন জুয়েলারীতেই নারীদের সবাই আকৃষ্ট ছিল। এখন ষ্টনের কাজ করা অ্যামিটেশন জুয়েলারীতে আমার মত অধিকাংশ মেয়েরা বেশি আকৃষ্ট হতে দেখা যায়। কেননা,বিয়েসহ বিভিন্ন অন্ষ্ঠুানে এখন লেহেঙ্গা,কাজ করা শাড়ির সাথে ষ্টনের কাজ করা অ্যামিটেশন জুয়েলারীগুলো ভাল মানায়। এসব কারণে হয়তো ব্যবসায়ীদেও ব্যবসা কমে যাওয়ার উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে সিলেটে এমিটেশন জুয়েলারীর বেশিরভাগ কাষ্টমার প্রবাসী বলে জানা গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এমিটেশনের ব্যবসাটা মূলত নভেম্বর-ডিসেম্বরের বেশি হয়ে থাক। এই সময় প্রবাসীরা সিলেট আসেন। কিন্তু বর্তমানে দেশের বাইরে থেকে নিজের চাহিদা মত কিনতে পারার ফলে দেশে এসে প্রবাসীরা জুয়েলারী কেনার প্রতি তেমন একটা আগ্রহ এখন দেখাচ্ছেন না।

তাছাড়া, প্রচুর পরিমানে দোকান বেড়ে যাওয়া, ব্যবসা কমার কারণ হিসেবে বলছেন অধিকাংশ ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, একটি মার্কেটে আগে যেখানে স্বর্ণসহ অ্যামিটেশন জুয়েলারীর ২৫-৩০টি দোকান ছিল এখন সেখানে দেখা যাচ্ছে পুরো মার্কেটে ৭০-৮০টি দোকান হয়ে গেছে। কালেকশন প্রায় সকল দোকানেই একই রকম। দোকান ভাড়া,সার্ভিস চার্জসহ অন্যান্য কারনে পণ্যেও দাম বাড়াতে হচ্ছে। যার ফলে কাষ্টমারের কাছে আগের তুলনায় দামটা বেশি মনে হচ্ছে।
এরমধ্যে নগরীর বন্দরবাজার,মহাজন পট্টি,শুকরিয়া মার্কেট,মিতালী মার্কেটসহ ফুটপাতের দোকানগুলোতেও আজকাল নি¤œমানের কম মূল্যেও অ্যামিটেশন জুয়েলারী পাওয়া যাওয়ায় এক শ্রেণীর ক্রেতারা সেদিকে ঝুকেছে।

পার্ল ফেয়ার এমিটেশন জুয়েলারীর সেলসম্যান আতিকুর রহমানের মতে, লন্ডন প্রবাসী কাষ্টমারদেও চাহিদা আছে। তবে লোকাল কাষ্টমারদেও চাহিদা কমে গেছে। লোকাল কাষ্টমাররা কোয়ালিটি না বুঝেই শো-রুমের বাইওে থেকে কম দামের পণ্য কিনতে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে এখন।

অন্যদিকে ব্যবসা কমে যাওয়ায় এমিটেশনের পাশাপাশি কসমেটিক্স,বেগসহ অন্যান্য পন্য দোকানে তুলেছেন সিলেটের এক সময়ের জনপ্রিয় অ্যামিটেশন জুয়েলারীর শো-রুম জেমস গ্যালারী। ব্যবসা কমে যাওয়ায় নিজেদেও পুষিয়ে নিতেই এমিটেশনের পাশাপাশি অন্যান্য প্রোডাক্ট তুলতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান জেমস গ্যালারী ব্লু-ওয়াটার ব্রাঞ্চের ম্যানেজার বিশ্বজিৎ তালুকদার।

বিশ্বজিতের মতে, কাষ্টমার ঠিক আছে। দোকান বেড়েছে।  যার কারণে ব্যবসা কমে গেছে।


এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: