সর্বশেষ আপডেট : ৫২ মিনিট ১২ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌলভীবাজারের খামারীরা

মুবিন খান, মৌলভীবাজার:: মৌলভীবাজারে দেশি গরুর চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশীয় পদ্ধতিতে জেলার চাষিরা গরু রিষ্টপুষ্ট করায় এই এলাকায় দেশি গরুর চাহিদা বেশি। তাই প্রতি বছর কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে জেলার খামারি ও কৃষকেরা গরু-ছাগল রিষ্টপুষ্টকরণে ব্যস্ত থাকেন।
গত বছর ভারত থেকে মৌলভীবাজারে কোরবানির হাটে পশু কম আমদানি করায় দেশি গরুর চাহিদা ছিল বেশি। খামারিরা ভালো লাভও করেছিল। তাই এ বছরও কোরবানিকে সামনে রেখে দেশি গরু ও ছাগল রিষ্টপুষ্টকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, এ বছরও ভারতীয় গরু না আসলে বেশ লাভবান হবে এমনটাই আশা তাদের।

জেলা প্রাণীসম্পদ অফিস সূত্র জানায়, জেলায় ছোট বড় মিলিয়ে খামার রয়েছে ৩১০টি। এছাড়া কুরবানিকে সামনে রেখে জেলায় মৌসুমী খামার গড়ে উঠেছে। মৌসুমী খামারগুলোর মধ্যে রয়েছে সদর উপজেলায় ২৫৬টি, রাজনগরে ১৬৫টি, কমলগঞ্জে ১৩৬টি, শ্রীমঙ্গলে ২৩৯টি, জুড়ীতে ৪০টি ও বড়লেখায় ১৭৫টি। খামারগুলোতে গরু, মহিষ ও ছাগল-ভেড়া রয়েছে ৮৯০৬টি।

বিগত বছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী জেলায় কুরবাণির চাহিদা রয়েছে গরু ৫৫৩২৩টি, মহিষ ১০৬৫টি, ছাগল-ভেড়া ৪২৪৬১টি। তবে বর্তমানে জেলায় গরুর সংখ্যা রয়েছে ৭০০৫৬৪টি, মহিষ ৬৯৫৮৬টি, ছাগল ১৮২৯২১টি ও ভেড়া ২৫৫৬৬টি।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাজনগর উপলোর দাসপাড়া, দত্তগ্রাম, গ্রাম রাজনগর, ক্ষেমসহ¯্র, মজিদপুর, দাশটিলা, দেবীপুর, করিমপুর, রাজনগর চা বাগান, ইলাশপুর, কামারচাক, মহলাল, সোনাটিকি সহ বিভিন্ন গ্রামের কৃষক ও খামারিরা অন্যন্য এলাকার তুলনায় গবাদীপশু রিষ্টপুষ্টকরণ বেশি করছে।
জেলায় ৫৫ ভাগ গরু রিষ্টপুষ্টকরণ করছে খামারিরা আর বাকি ৪৫ ভাগ করছে সাধারণ কৃষকেরা। এ ছাড়া কোরবানিকে সামনে রেখে প্রতিটা কৃষকের গোয়াল ঘরে তাদের হালের গরু পাশাপাশি একটি দু’টি গরু রিষ্টপুষ্টকরণ করছে।

রাজনগর উপজেলার সৈয়দ সিজান জানান, সাধারণত কোরবানি ঈদের ৬-৭ মাস আগে দেশি প্রজাতির ১৫-২০ হাজার টাকার বাছুর ক্রয় করে পালন করতে থাকে। সারা বছর পড়ালেখার ফাঁকে ফাঁকে পতিত জমি থেকে ঘাস কেটে এনে খাওয়ানো হয় এবং ঈদের ২ মাস আগে খড়, খৈল, কুড়া, ও ভুসি খাওয়ানো হয়। বছরে যে খাবার প্রয়োজন অধিকাংশ খাবারই ঘাস। তাই খরচ কম। একটি বাছুর ১৫-২০ হাজার টাকায় ক্রয় করে ৬-৭ মাস পোষার পর ঈদের সময় আকার ভেদে ৫০-৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করা যায়। আকার ভেদে ৩০-৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ করে।

মৌলভীবাজার জেলায় ২৯টি হাটে গরু বেচাকেনা হয়। স্থানীয় গরুর মালিকেরা এ সকল হাটে নগদ টাকায় গরু বিক্রয় করেন। ২৯টি হাটের মধ্যে মৌলভীবাজার স্টেডিয়াম পশুর হাট, দিঘীরপাড় বাজার, ভৈরববাজার, রাজনগরের টেংরাবাজার, মুন্সিবাজার সবচেয়ে বড়। এখানে বিভিন্ন জেলার বেপারিরা এসে গরুর ক্রয় করে সিলেট, ফেঞুগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায়, উপজেলায় নিয়ে বিক্রয় করে। এ ছাড়া স্থানীয় বেপারিরা এলাকায় কৃষকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে গরু ক্রয় করে তা বিভিন্ন জেলায় বিক্রয় করে।

এনামুল হক নামের একজন খামারি জানান, খৈল, ভূষি, ভুট্টা, খড় ও কুড়ার দাম অনেক বেশী। তারপরেও গরু রিষ্টপুষ্টকরণ করছি। আশাকরি ভারত থেকে যদি গরু না আসে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর ভালো লাভ হবে।
জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ বি এম সাইফুজ্জামান বলেন, জেলায় কুরবানী গরুর চাহিদা রয়েছে অনেক। সে তুলনায় গরু, মহিষ ও ছাগল-ভেড়ার উৎপাদন কম। আশাকরি অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর কুরবানীর পশু আমদানি কমবে।


এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: