সর্বশেষ আপডেট : ৭ মিনিট ৮ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বিশ্ববিদ্যালয় খোলা রাখার নির্দেশ শিক্ষামন্ত্রীর

নিউজ ডেস্ক:: আন্দোলনের ভয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ না রাখার নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। কোনো উসকানিতে যাতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে যুক্ত না হতে পারে সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে সতর্ক থাকতে বলেছেন তিনি।

বুধবার আন্তর্জাজিত মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্যদের সঙ্গে জরুরি মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এমন নির্দেশনা দিয়েছেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন যৌক্তিক ছিল। আমরা তাদের দাবিকে সমর্থন করি। যৌক্তিকভাবে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে, দাবি জানিয়েছে, আন্দোলন করে গেছে। এতে করে আমরা অনেক অজানা কিছু জানতে পেরেছি। অনেকে ট্রাফিক আইন মেনে চলেন না, রাস্তায় ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলানো হচ্ছে, ভিআইপিরা আইন অমান্য করছেন, অনেকে লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালাচ্ছেন। আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের যেসব সমস্যা রয়েছে তারা তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।

নাহিদ বলেন, শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবি মেনে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বর্তমানে তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নতুন সড়ক আইনের খসড়ার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। দ্রুতই এটি বাস্তবায়ন করা হবে। তাই আর ছাত্রদের রাস্তায় নামার কোনো অবকাশ নেই। আমরা স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরাতে রাজধানীর সব প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে নিয়ে মতবিনিময় সভা করেছি। এরপর তারা আর রাস্তায় না নামলেও শেষের দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামে। তৃতীয় পক্ষ এতে সুবিধা নিচ্ছে। তাই আন্দোলনের ভয়ে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখবেন না। এতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। শিক্ষার্থীদের মটিভেট করে তাদের ক্লাসে ফিরিয়ে নিতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বাড়ানো হচ্ছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা বেশি, আমাদের উদ্বেগও বেশি। কিছু বিশ্ববিদ্যালয় এখনো ব্যবসা করছে, আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। এখনো যারা ব্যবসা করে যাচ্ছে তাদের তো ছেড়ে দেয়া হবে না।

একাধিক উপাচার্য গ্রেফতার হওয়া শিক্ষার্থীদের মুক্তির দাবি জানালে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ক্ষমা করার দায়িত্ব আমাদের নয়, যারা বিনাকারণে ক্ষতিগ্রস্ত হবে তাদের জন্য আমরা পাশে রয়েছি। আর যারা সত্যিকারের অপরাধী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের বিচার করবে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপন করতে নতুন করে একটি সেন্টার তৈরি করা হবে। যাতে কোনো জরুরি অবস্থায় সকলে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে। এটি ইউজিসি ( বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন) নিয়ন্ত্রণ করবে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও সর্তক হতে হবে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে। ক্লাস, পরীক্ষা, সংস্কৃতিসহ নানা কাজে ব্যস্ত রাখতে পারলে কোনো শিক্ষার্থী আন্দোলনে যুক্ত হবে না। শুধু বই পড়ে, সিলেবাস দিয়ে মাথা ভর্তি করলেই হবে না। জঙ্গিবাদ, অপরাধ থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে রাখতে হবে। অভিভাকদের সম্পৃক্ত করতে হবে।

শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা দিয়ে, স্নেহ-মমতা দিয়ে ক্লাসে ফেরাতে হবে। তাকে দিখে বেব, ব্যবস্থা নেব- এমন মনোভাব থেকে সরে আসতে হবে। গত ৬ আগস্টের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই আমাদের কাছে কাম্য নয়, তাদের কেউ উসকানি দিয়েছে, বা কেউ তাদের রাস্তায় নামিয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা সচিব মোহাম্মদ হোসরাব হোসাইন বলেন, মিথ্যা গুজবে বিচার বিশ্লেষণ না করে প্রতিবাদ করা উচিত নয়। কোনো শিক্ষার্থী যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে গুরুত্ব দিতে আমি পুলিশ প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। এ বিষয়ে আমরাও সজাগ রয়েছি।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নানের সভাপত্বিতে রাজধানীসহ দেশের ১০৩টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, বোর্ড অব ট্রাস্ট্রিজ চেয়ারম্যান, সদস্য, শিক্ষকসহ অনেকে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন। তারা নিজ নিজ সমস্যা তুলে ধরেন।

উল্লেখ্য, গত উল্লেখ্য, গত ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে এমইএস বাসস্ট্যান্ডে জাবালে নূর পরিবহনের দুই বাসের চালকের রেষারেষিতে এক বাসের চাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। আহত হয় আরও ১০-১৫ শিক্ষার্থী। ঘটনার দিনই নিহত দিয়া খানম মিমের বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। মামলা নং ৩৩ (৭) ১৮।

জাবালে নূর বাসের মালিক শাহাদাত হোসেন বর্তমানে রিমান্ডে আছেন। এ ছাড়া জাবালে নূর পরিবহনের অপর দুই বাসের চালক সোহাগ আলী ও জুবায়ের এবং হেলপার এনায়েত হোসেন ও রিপন রিমান্ডে আছেন। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন।তদন্ত করছেন গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক কাজী শরিফুল ইসলাম।

এই দুর্ঘটনার দিন থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন শুরু করে কলেজটির শিক্ষার্থীরা। এরপর ৯ দফা দাবিতে টানা নয়দিন রাজপথে আন্দোলনে ছিল দেশের বিভিন্ন স্কুল-কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী।

সোমবার (৬ আগস্ট) আফতাব নগরে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বহিরাগতদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়টি দুদিন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। অপরদিকে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ও এক দিনের জন্য বন্ধ দেয় কর্তৃপক্ষ।

গত শনি ও রোববার তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে হামলা চালানো হয়। এই আন্দোলনের সংবাদ ও ছবি সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন অন্তত ২০ জন সাংবাদিক। ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতায় ১৬টি থানায় মোট ২৯টি মামলা করা হয়েছে।

পুলিশের ওপর হামলা, কাজে বাধা দেয়া ও ভাঙচুরের পৃথক দুই মামলায় মঙ্গলবার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রেফতার ২২ ছাত্রের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে দুইদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: