সর্বশেষ আপডেট : ৩০ মিনিট ৮ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

অবশেষে বড়লেখায় সাপের কামড়ে মৃত কলেজছাত্রীর সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে পুলিশ

আবদুর রব, বড়লেখা:: বড়লেখায় সাপের কামড়ে নিহত কলেজছাত্রী শিবানী রানী দাসকে গত ৩ দিন ধরে জীবিত করার খেলায় মেতে উঠে ভন্ড ওঝাঁরা। চিকিৎসকের মৃত ঘোষিত শিবানীকে বাঁচিয়ে তোলার আশ্বাসে ওঝাদের একগ্রুপ সটকে পড়ে আরেক গ্রুপ ঝাড়ফুঁক শুরু করে। বুধবার বিকেলে আগত নারী ওঝা নিজেকে বিষরী (সনাতন সম্প্রদায়ের দেবী) পরিচয় দিয়ে লাশের সৎকার না করে নদীতে ভাসিয়ে দিতে ভয়ভীতি প্রদর্শন করায় নিহত শিবানীর পরিবারের লোকজন দুটানায় পড়েছে। বুধবার রাত সাতটা পর্যন্ত তারা কোন সিদ্ধান্ত নিতে না পারলেও সুরতহাল প্রস্তুত করতে পুলিশ কর্তৃপক্ষ বরাবরে আবেদন করেছেন।

এদিকে সাপেকাটা কলেজছাত্রীর বাড়িতে হাজার হাজার উৎসুক জনতার ভিড় অব্যাহত রয়েছে। শিবানী রানী দাস উপজেলার দাসেরবাজার ইউনিয়নের সুনামপুর গ্রামের মনোরঞ্জন দাসের মেয়ে। তিনি সিলেট এমসি কলেজের মাস্টার্সের ছাত্রী এবং স্থানীয় একটি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন।

জানা গেছে, রোববার রাতে নিজ বাড়িতে সাপের কামড়ে আহত হন শিবানী দাস। ওই রাতেই আহত তাকে সিলেট এমএজি ওসামনী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সোমবার সকাল ৮টায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বিকেলে শিবানীর লাশ বাড়িতে নেয়া হলে বিভিন্ন স্থান থেকে ওঝারা জড়ো হয়ে তাকে জীবিত করার আশ্বাসে রাতেই শুরু করে ঝাড়ফুঁক। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে লোকজন ভীড় করতে থাকে ওই বাড়িতে। ভীড় সামলাতে শেষ পর্যন্ত ঘটনাস্থলে অবস্থান করতে হয় থানা পুলিশকে।

সরেজমিনে বুধবার বিকেলে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, নিহত কলেজছাত্রীর লাশ আগের মতই বাড়ির উঠানে রয়েছে। নেই কোন দুর্গন্ধ কিংবা ফোলা ভাব। সোমবার রাতে ঝাড়ফুঁক শুরু করা ওঝারা ইতিমধ্যে বিদায় নিয়েছে। নতুন আগত ওঝা নারী ওঝা নিজেকে বিষরী (সনাতন সম্প্রদায়ের দেবী) পরিচয় দিয়ে মৃত শিবানীর লাশ নদীতে ভাসিয়ে দিতে নির্দেশ দেয়। সৎকার করলে পরিবারের বড়ধরণের ক্ষয়ক্ষতির ভয়ভীতি প্রদর্শন করায় নিরীহ পরিবারটি দুটানায় পড়েছে।

এদিকে বুধবার বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশের একটি দল। অবশেষে ধর্মীয় রীতিতে সৎকারের জন্য শিবানীর পরিবার আবেদন করায় পুলিশ লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। প্রস্তুতকারী এসআই মাজহারুল ইসলাম ‘লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরীর সত্যতা স্বীকার করেছেন।

নিহত শিবানীর দাদা প্রনথ চন্দ্র দাস বলেন, ‘ডাক্তার মৃত ঘোষণার পর ওঝারা ঝাড়ফুঁকে জীবিত করার আশ্বাস দেন। গত ৩ দিনেও তারা আমার বোনের জ্ঞান ফেরাতে পারেনি। এক নারী ওঝা নদীতে ভাসিয়ে দিতে বলছেন। সৎকার করলে পরিবারের নানা ক্ষতির ভীতি দেখাচ্ছেন। এ অবস্থায় ভাসিয়ে দিবেন না ধর্মীয় মতে সৎকার করবেন এ নিয়ে দুটানায় পড়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ সোহেল মাহমুদ জানান, চিকিৎসকের মৃত ঘোষিত ব্যক্তিকে ঝাড়ফুঁকে জীবিত করার নজির নেই। ধর্মীয় রীতি অনুসারে নিহত কলেজছাত্রীর লাশের সৎকার করতে পরিবারের সদস্যদের বলা হয়েছে।




এ বিভাগের অন্যান্য খবর




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: