সর্বশেষ আপডেট : ১৫ মিনিট ৪২ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১৯ অগাস্ট ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

অগ্রগামী স্কুলে ‘কৈশোর তারুণ্যে বই’-এর বইমেলা

মারুফ হাসান ::

দুরন্ত দুর্বার চঞ্চল মন
ফুটন্ত উড়ন্ত চলন্ত সারক্ষণ,
নাই ভয় হারাবার
লক্ষ্য শুধু এগিয়ে যাবার।

হ্যাঁ এগিয়ে যাবার লক্ষ্যে কৈশোর থেকে তারুণ্য পা রাখেন যারা তাদের জন্যই সিলেটে আয়োজন হয়েছে এক ব্যতিক্রমধর্মী বইমেলা। নাম কৈশোর তারুণ্যের বইমেলা। সিলেট সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজে শুরু হওয়া এই মেলাটি আয়োজন করেছে ‘কৈশোর তারুণ্যে বই’। তাদের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে শিক্ষার্থীদের জন্য এই আয়োজন শুধু সুস্থ্য মানসিকতার চর্চাই নয়, পাশাপাশি বিকাশ সাধন করে উন্নত মানবিকতা।

নিজের স্কুলে প্রিয় লেখকের বইয়ের বিপুল সমাহার শিক্ষার্থীরা এর আগে কখনো দেখেনি। দেখেনি এমন আয়োজনও। সব মিলে এই বই মেলা হয়ে উঠেছে তাদের প্রাণের মেলা। তাই মেলায় বই কিনতে ভিড় করেন হাজারো শিক্ষার্থী। তাঁরা হয়তো উপলব্ধি করতে পেরেছেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সেই উক্তি –
“বই পড়াকে যথার্থ হিসেবে যে সঙ্গী করে নিতে পারে,
তার জীবনের দুঃখ কষ্টের বোঝা অনেক কমে যায়।”

”অন্তত ষাট হাজার বই সঙ্গে না থাকলে জীবন অচল।” ইউরোপ কাপানো নেপোলিয়ানের এই উক্তিকে যথার্থই মানেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বাবলী পুরকায়স্থ। বই পড়তে এবং উপহার পেতে তিনি ভিশন ভালবাসেন, নিজের সংগ্রহে আছে উল্লেখযোগ্য সংগ্রহশালা। মেলা নিয়ে বাবলী বলেন, মেলাটা একেবারেই ব্যতিক্রমী। আয়োজকদের উদ্দেশ্য বই বিক্রি নয়, শিক্ষার্থীদেরকে বইয়ের সাথে পরিচিত করা। শিক্ষার্থীরা প্রচুর বই কিনছে। আমাকেও উপহার দিচ্ছে। প্রতিটি স্টলে মান সম্পন্ন ও শিশুতোষ বই থাকায় ভাবছি এখান থেকে স্কুলের জন্যও কিছু বই কিনে রাখবো।

ডিজিটাল পৃথিবীর শিশু-কিশোরদের বইয়ের প্রতি আগ্রহী করে তোলাই যাদের লক্ষ্য সেই ‘কৈশোর তারুণ্যে বই’ এর বইমেলার উদ্যোক্তা সভাপতি লেখক তুষার আব্দুল্লাহর চিন্তা-চেতনায় আছে মানসিক উৎকর্ষতা সাধনের আপ্রাণ চেষ্টা। তরুণ প্রজন্ম বই পড়ে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে এমনটাই স্বপ্ন দেখা অন্যায় মনে করেন না পাঠকপ্রিয় এই লেখক।

শনিবার সকালে বিদ্যালয়ের আর্ট গ্যালারীতে শুরু হওয়া এই বইমেলায় রাজধানীর বিখ্যাত প্রকাশনীগুলো অংশ নিয়েছে। ইকরিমিকরি, দ্যু, বাবুই, কথাপ্রকাশ, কাকলী, সময়, জাগৃতি, তাম্রলিপি, প্রথমা, অনন্যা ও অ্যাডর্ন এবং সিলেটের চৈতন্য প্রকাশনীর নাম উল্লেখ না করলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশে কার্পণ্য করা হবে বোধ করি।

স্কুল শুরুর পর থেকে ছুটির আগ পর্যন্ত শুধুমাত্র সরকারী অগ্রগামী বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মেলায় বই কেনার সুযোগ পাচ্ছেন। এ সুযোগ পেতে স্কলার্সহোম শাহী ঈদগাহ ক্যাম্পাস ও দি এইডেড হাই স্কুলকে অপেক্ষা করতে হবে আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত। ৭ জুলাই থেকে তিনদিনের জন্য তাদের ভাগ্যেও শিকে ছিড়বে।

একটি তথ্য না জানালেই নয়, সারাদেশে এটি ‘কৈশোর তারুণ্যের বইয়ের ৪৩তম মেলা। ২০১৬ সালের ২৩ জুলাই ঢাকার রাজউক কলেজ থেকে শুরু হয় ‘কৈশোর তারুণ্যে বইমেলা’।

পুণ্যভূমি সিলেটের পর হাওরের দেশ সুনামগঞ্জের স্কুলেও বইমেলার পরিকল্পনা রয়েছে উদ্যোক্তাদের।

পবিত্র কোরআনের মাধ্যমে মানুষের প্রতি সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহর প্রথম নির্দেশ-পড়। পড়ার সবচেয়ে প্রাচীন, জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য মাধ্যম হচ্ছে বই। বই জ্ঞানের আধার। পৃথিবীর সকল জ্ঞান বইয়ের পাতায় ঘুমিয়ে থাকে। জ্ঞানের আলো তখন পাঠককে আলোকিত করে, পাঠকের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বিশ্ব চরাচরে। কবি জসিমউদ্দীন যথার্থই বলেছেন, বই জ্ঞানের প্রতীক, বই আনন্দের প্রতীক। মনীষী লিও টলস্টয় শুধু এতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। তিনি বলেছেন, পৃথিবীতে মানুষের তিনটি জিনিস প্রয়োজন, বই, বই, বই।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: