সর্বশেষ আপডেট : ৮ মিনিট ২১ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ২২ অক্টোবর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

তিনি ‘জনতার ইউএনও’

মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান:: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক। একজন সরকারী কর্মকর্তা। আর দশজন ইউএনও মতো নন তিনি। একজন কর্মকর্তার সকল গুনাবলীকে পুজিঁ করে যেন মাঠে নেমেছেন তিনি। ২০১৬ সালের ৫ মে এ উপজেলায় যোগদান করেই নানা মুখী কর্মতৎপরতা ও বলিষ্ট ভূমিকায় উপজেলায় জুড়ে পরিচিত পেয়েছেন“ জনতার ইউএনও” হিসাবে। ইতি মধ্য নানা প্রশংসা কুড়িয়ে পুরস্কৃুত হয়েছেন জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে। শিক্ষা, বাল্য বিবাহ, মেধাবৃত্তি, ড্রপ আউট, আউটসোসিংসহ নানা কাজে নিজেকে জড়িত করায় জনপ্রশাসন পদকও লাভ করেছেন মোহাম্মদ মাহমুদুল হক।

সরকারী দ্বায়িত্বের বাইরে গিয়েও অনেক সৃজনশীল কাজ করে সাড়া জাগিয়েছেন জেলা জুড়ি। উপজেলার মেয়ে শিক্ষাথীিদের বাই সাইকেল প্রদান, দরিদ্র চা জনগোষ্টির সুখ দুখের ভাগিদার, এলাকাবাসীর সাথে কোদাল হাতে মাটি কেটে রাস্তা মেরামত, বাঁধ মেরামত, অন্ধকার শিক্ষার্থীর ঘরে সোলার,, বই প্রদান, গরীব দের ঢেউ টিন প্রদানসহ অনেক কাজে আলোচনার স্থান করে নিয়েছেন তিনি। এতে করে অনেকে মনে করেন নারী শিক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে সামাজিক দৃষ্টি ভঙ্গি পরির্বতন হচ্ছে। জনতার ইউএনও দরকারে সকাল হতেই বিকাল পর্যন্ত মানুষের অবাদ যাতায়াত। ইসলামপুর পুর হতে রহিমপুর তথা সকল পর্যায়ের অসহায় দরিদ্র মানুষজন ছুটে আছেন তার কাছে সহযোগীতার জন্য। তিনিও নিরাশ করেন না কখন। যখন যেখানে দরকার তা করে সমাধানের চেষ্টার ফলেই কমলগঞ্জের মানুষের কাছে একজন প্রিয় অফিসার। কমলগঞ্জের যে বিষয়টি আলোচনায় এনে মাহমুদুল হক জনপ্রশাসন পদক লাভ করেছেন তা হলো নারীর জাগরণ। বিশেষ করে বাইসাইকলে। এই বাইসাইকেল চালু করার পিছনে ইতিহাস রয়েছে। তখন সদ্য যোগদান করেছেন মাহমুদুল হক কমলগঞ্জে। একদিন বিকালে সীমান্তবর্থী চাম্পারায় চা বাগান যান। সেখানে দেখেন দল বেধে পায়ে হেটেমেয়েরা যাচ্ছে। তিনি গাড়ি থামিয়ে ছাত্রীদের হাটার কারন জানতে চান । জানতে পারলেন তাদের কষ্টের কথা। কিভাবে পাঁচ কিলো মিটার হেটে তারা স্কুলে লেখাপড়া করে। আবার বাড়িতে ফেরে। তখন বাই সাইকেলে আইডা মাথায় আসে। পরিষদের মিটিং কথা বললেন। সবাই সম্মতি দেন। নিজেরই প্রধান শিক্ষকদের সাথে কথা বলে দুরবর্তী ও দরিদ্র ৬ষ্ট শ্রেনী হতে দশম শ্রেনির ছাত্রীদের বাছাই করেন। কেনা হয় ৮০টি বাই সাইকেল। শিক্ষা মন্ত্রীর হাত ধরে শিক্ষার্থীদের বাইসাইকেল দেয়া হলো পাল্টে গেল চিত্র। যতদিন স্কুলে থাকবে তত দিন সাইকেল তাদের। চলে গেলে শিক্ষা প্রতিষ্টানে রেখে দিতে হবে এই শর্তে চলছে সাইকেল। বর্তমানে কমলগঞ্জে দুই শতাধিক ছাত্রীরা সাইকেল চালিয়ে স্কুলে আসে। পাল্টে গেছে চিত্র। শুধু তাই নয় ইউএনও মাহমুদুল হক বিশাল চা জনগোষ্টির কাছে হয়ে উঠেছেন আপনজন। বাক্তিগত চেষ্টায় সিলেট এর ৪৯ টি উপজেলার মধ্যে শিক্ষায় পর পর দুই বছর সবচেয়ে কম ঝরেপড়া উপজেলা র্নিবাচিত হয়েছে কমলগন্জ উপজেলা। সমাপনী,জেডিসি,জেএসসি,এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা যেন স্কুল বাদ না দেয় তার জন্য তৈরী করেছেন রেজিষ্টার খাতা।

স্কুল বাদের খবর আসলেই ইউএনও মাহমুদুল হকের কাছে কৈফত দিতে হয় ওই বাদ দেয়া শিক্ষার্থীর। পাশাপাশি অভিভাকদের ফোন নাম্বারে কল দিয়ে রুটিন মাফিক খোজ খবর নিচ্ছেন নিত্যদিন। বর্তমানে প্রাথমিক স্কুলে তৈরী করেছেন বন্ধু শিক্ষক কার্যক্রম। প্রতিটি ক্লাসের ভাল ছাত্র শিক্ষক হিসাবে অপর শিক্ষার্থীদের পড়াবে। এভাবে তিনি প্রতিটি স্কুলে বন্ধু শিক্ষক র্কাযক্রম ছড়িয়ে দিতে কাজ করে চলেছেন।
বিশেষ খেয়াল রাখেন দরিদ্র শিক্ষার্থীদেরে। পিছিয়ে থাকা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী অবহেলিত চা শ্রমিকদের উন্নয়ন, নারী উন্নয়ন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠা, বাল্যবিবাহ রোধ, নারীর ক্ষমতায়ন, নির্যাতিত নারী ও দুরবর্তী নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বাইসাইকেল বিতরণ, ইভটিজিং প্রতিরোধে ভূমিকা রাখাসহ উপজেলার সার্বিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। শিক্ষার উন্নয়নে অসামান্য ভূমিকা রাখায় জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে প্রাথমিক শিক্ষা পদকে ভূষিত হন তিনি। নারী উন্নয়নে নানা ভূমিকা রাখার জন্য ‘জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস’ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে তিনি জনপ্রশাসন পদক-২০১৮ পদক গ্রহণ করেন।
তবে অন্যরকম খেয়াল রাখছেন নারীর ক্ষতায়ন এবং দরিদ্র ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য।

সম্প্রতি নয়াদিগন্তে উপজেলার শ্রীনাথপুর গ্রামের জিপিএ-৫ প্রাপ্ত আমিনা বেগমকে নিয়ে সংবাদ পরিবেশ হলে অফিসে ডেকে এনে আমিনা বেগমের হাতে নগদ ৪ হাজার তুলে দেন ইউএনও মাহমুদুল হক। আলাপ করেন দীর্ঘ সময় । জানতে জান ভবিষৎ পরিকল্পনা। লেখাপড়া চালিয়ে যেতে উৎসাহ দেন এবং বলেন ভবিষ্যতেও সহযোগীতা করবেন।
অনেক কারনে এখন উপজেলায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কাছে প্রিয় নাম মোহাম্মদ মাহমুদুল হক। সৎ সৃজনশীল কর্মকর্তা মাহমুদুল হক কমলগঞ্জবাসীর কাছে জনতার ইউএনও হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছেন।




এ বিভাগের অন্যান্য খবর




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: