সর্বশেষ আপডেট : ৪৬ মিনিট ৫৩ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ১৬ অগাস্ট ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কষ্ট একটাই, জিয়ার বিচারটা করতে পারলাম না: প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক:: দেশের চলমান উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে দেশবাসীর সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ আজ সবদিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে, আরও এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার এই গতি যেন থেমে না যায়। অগ্রগতির এই ধারা বজায় রেখে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত ও সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ে তুলবই।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জিয়াউর রহমান সম্পূর্ণভাবে জড়িত ছিলেন বলেই তিনি বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের পুরস্কৃত করেছেন। জিয়াউর রহমানের যে পরিণতি হয়েছিল, তা ছিল অবধারিত। কিন্তু তার (শেখ হাসিনা) দুঃখ একটাই, জিয়ার বিচারটা তিনি করতে পারলেন না। তার আগেই তিনি (জিয়াউর রহমান) মারা গেলেন।

বুধবার রাজধানীর ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে কৃষক লীগ আয়োজিত স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।শোকাবহ আগস্ট উপলক্ষে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর মাসব্যাপী কর্মসূচির সূচনা দিনে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী জিয়াউর রহমান ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে বিচারের পথ রুদ্ধ করে দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার না করে উল্টো বিদেশের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করেছিলেন। চিন্তা করা যায়— বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত কারা? বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিরা। এসব কাজ কেন করেছেন? জিয়াউর রহমান এই হত্যা ঘটনার সঙ্গে সম্পূর্ণ জড়িত ছিলেন বলেই খুনিদের পুরস্কৃত করেছিলেন।

পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিয়োগান্ত ঘটনার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, কী অপরাধ ছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর? অপরাধ তার একটাই ছিল, তিনি বাঙালি জাতির মুক্তি এনে দিয়েছিলেন, দেশকে স্বাধীন করেছিলেন। বাঙালি জাতিকে একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে বিশ্বে মর্যাদা দিয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একাত্তরের পরাজিত শক্তি পাকিস্তান ও তাদের এদেশীয় দোসর কুলাঙ্গাররা পরাজয় মেনে নিতে পারেনি। তাই একাত্তরের গণহত্যাকারী রাজাকার-আলবদর-আলশামসরা, যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতায় বিশ্বাস করত না— তারাই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিয়েছিল। তারা মনে করেছিল, জাতির পিতাকে হত্যা করলে স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অস্তিত্ব থাকবে না। এ দেশ পাকিস্তানের হাতে, পাকিস্তানি ধারায় আবারও চলে যাবে। এই উদ্দেশ্য নিয়েই বিশ্বাসঘাতকরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল।

বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচারের রায় কার্যকরের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অন্যায়কে কখনও প্রশ্রয় দেওয়া যায় না। তিনি ও তার ছোট বোন শেখ রেহানা বেঁচেছিলেন। তাই তাদের কর্তব্য ও প্রতিজ্ঞাই ছিল, জাতির পিতার খুনিদের বিচার করবেন। সেই সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়ে তুলবেন। দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। অনেক বাধা ও চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচারের রায় কার্যকর করতে পেরেছেন।

তিনি বলেন, হাতের কাছে থাকা বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচারের রায় কার্যকর করা সম্ভব হয়েছে। তবে এখনও অনেক খুনি বিভিন্ন দেশে পালিয়ে আছে। তার সরকার বিদেশে পালিয়ে থাকা এসব খুনির বিচারের রায় কার্যকর করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে।

১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পরের পাঁচ বছর এবং বর্তমান টানা দুই মেয়াদে দেশ ও মানুষের কল্যাণে তার সরকারের উন্নয়ন ও অগ্রগতির বিবরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে মর্যাদা নিয়ে এগিয়ে চলেছে। আজ আমরা মহাকাশে স্যাটেলাইট পাঠিয়েছি, মহাকাশ জয় করেছি। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছি। একেকটি অর্জন যখন হয়, তখন মনে হয়, বাবা-মা এদেশের জনগণের জন্য অনেক কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার করেছেন— জীবন দিয়ে গেছেন। তাই যখন এসব অর্জন হয়, তখন মা-বাবা নিশ্চয়ই বেহেশত থেকে দেখছেন। অনেক দোয়া করছেন।

প্রধানমন্ত্রী পরে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। কৃষক লীগের সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, কৃষি ও সমবায়বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় এমপি ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এবং কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খন্দকার শামসুল হক রেজা। সভা পরিচালনা করেন কৃষক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ সমীর চন্দ্র।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: