সর্বশেষ আপডেট : ১৪ মিনিট ২৪ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১৯ অগাস্ট ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সিসিক নির্বাচন: যখন ব্যক্তি প্রতীকের চেয়ে ভারী হয়ে যায়

গোলাম সাদত জুয়েল:: কামরান ভাই ও আরিফ ভাই দুজনই সুপরিচিত সিলেটের সবার, দুজনের কাছে গিয়ে সুবিধা নিয়েছেন সবাই । নির্বাচনে প্রতিকের চেয়ে কর্মকে মুল্যায়ন করা হয়েছে। কামরান ভাই নয় নৌকাকে পাশ করানোর চেষ্টা করা হয়েছে। আওয়ামী কর্মিদের চেষ্টার কমতি ছিল না, নেতা কর্মি ছাড়াও বড় ডাক সাইটে নেতারাও মরিয়া ছিলেন শেখ হাসিনাকে সিলেটের মেয়র উপহার দিবেন। অপরদিকে আরিফ একা লড়েছেন, আত্মবিশ্বাস ছিল, কুল্লু খালাস ( বদরুজ্জামান সেলিম ) নাটক পিছিয়ে দিলেও শেষ পর্যন্ত সেলিম মাঠেই ছিলেন না। নির্বাচনী কৌশল এ আরিফ ভক্তরা নৌকার ব্যাজ পড়ে মিছিল করে ধানের শিষে ভোট দিয়েছেন । নৌ্কার সমর্থকরা বুঝতে পারেননি কি হচেছ, তারা ছিলেন অভার কনিফিডেন্স ।

ব্যাক্তি আরিফ ২৭ মাস জেলে ছিলেন বাকী ২২ মাসে তিনি যে যুগান্তকারী ভুমিকা রেখেছেন তার বিরোধীরা স্বীকার করেছেন আরিফকে দিয়ে আধুনিক নগরী হবে । একাধিকবার কমিশনার, পৌরসভার চেয়ারম্যান, প্রথম মেয়র সহ সব মিলিয়ে দেড় যুগেও বদর উদ্দিনের দেখানো্র কিছু ছিল না্ ,কারিশমাটিক কিছু যে করে দেখাবেন তাও ভোটাররা নেয় নি । চল বদলাই , তিনি বদলাতে চেয়েছেন বড় দেরীতে ।  তিনি সহজ সরল ভাবে পৌরসভাকে চালিয়েছেন , দিয়েছিলেন সবাইকে সুবিধে । বিশেষ করে জামায়াত তার শাসনামলে বেশী্ই সুযোগ নিয়েছিল । আরিফুল হক নির্বাচনে বেশ বেকায়দায় ছিলেন বাস গাড়ীর জন্য ও দেয়াল ঘড়ির জন্য । বেশ দেরীতে সেলিম ( কুললু খালাস ) সরে গেলেও পালিয়েছিলেন । তাকে কোথায় দেখা যায় নি , কর্মিরাও কাজ করেছে চুপি চুপি, মামলা ও গ্রেফতারের কারনে কেউ প্রকাশ্যে কিছু করতে পারে নি । নির্বাচনটা নৌকা ও ধানের শিষের হলেও মানুষ বিচার করেছে ব্যাক্তিও কর্মত্যপরতা ।

কারচুপি হয়েছে অনেক , এটা অনেক মাত্রাও ছাড়িয়েছে স্যেসাল মিডিয়ার কারনে , নতুন প্রজন্মের কাছে মনে হয়েছে সব গেল । বাংলাদেশে যখন সোস্যাল মিডিয়া ছিল না তখনও কারচুপি- মারামারি- ব্যালট ছিনতাই এমনকি হত্যাকান্ড হত ।আরিফুল হকের সাইফুর রহমান শাসনামলে ইচছা হল, মেয়র তো হওয়া যাবে না সিটি কর্পোরেশন এ ( সাইফুর রহমান ) দাপট দেখাতে হলে অন্তত কমিশনার হওয়া উচিত । তিনি হয়ে গেলেন , কুমার পাড়া এলাকার কমিশনার হলেন , কিভাবে হলেন কি করতে হয়েছিল কারও জানার ইচছা থাকলে কুমারপাড়ায় যান । রাতের আধারে ভোটও গননা করতে হয়নি । ।সাইফুর শাসনা মলে কেউ কিছু বলতে পারত না , কারন তা আরিফুল হকের হাতে সব কিছু । নগর উন্নয়ন কমিটির সভাপতি হিসাবে তিনি সিটি কর্পোরেশন চালাতেন , বদর উদ্দিন কামরান টাকা কই পাবেন । টাকা তো সব আরিফুল হকের হাতে , সময় যায় আরিফুল হক বেশ কিছু কাজ করেন শহরে । নতুন নতুর প্রজেক্ট তাও সব সাইফুর রহমানে নাম বসিয়ে , শিল্পকলা একাডেমী হয়ে গেল সাইফুর রহমান অডিটরিযাম । যাক এগুলো বলছি নিরপেক্ষ নির্বাচন দেখার জন্য যারা মায়া কান্না করছেন তাদের জন্য । আরিফুল হক কমিশনার কিভাবে হয়েছিলেন তা বললাম । সেই শাসনামল গেল, বদর উদ্দিন কামরান জেল থেকে পাশ করলেন, মেয়র হলেন তত্বাবধায়ক শাসনামলে । তারপরও তিনি শহরবাসীকে কিছু দেখাতে পারলেন না ।

২০১৩ সালে বিএনপি জীবন মরন কামড় দিয়ে আরিফুল হককে মেয়র বানালো । তখন আওয়ামী লীগের মত ইউনিটি ছিল না, সে সময় আমি দেশে ছিলাম । ভাগ্য খারাপ আরিফুল হকের , তিনি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল মুহিত কে নিয়ে নৌকা চড়ে সিলেট শহর আধুনিকের স্বপ্ন দেখালেন, জামিলুর রেজা চৌ সহ বুয়েটের প্রকৌশলীরা সিলেটের মেগা সিটির প্লান দিলেন, কে বা কাদের ভাল লাগল না । তাকে এস এম কিবরিয়ার হত্যা ( বোমা হামলা) মামলায় ২৭ মাস জেলেই থাকতে হল বিএনপির কেউ তার সাথে ছিল না , আল্লাহর রহমতে তিনি ফিরলেন।কয়েস লোদী ১ ম প্যানেল মেয়র হবার পরও হাই কোর্টে র রায় পাবার পরও প্যানেল মেয়র হতে পারলেন না । মধ্যখানে সিটির প্রধান প্রকৌশলী এনামুল হাবিব ২৭ মাস সিলেট নগরীর সব কাজ করলেন সফল ভাবে । যদি কাউকে বাহবা দিতে হয় তাহলে রংপুরের বর্তমান ডিসি এনামুল হাবিব কেই দিতে হয় ।আমি এবার সিলেটে ফেব্রয়ারীর ১ম তারিখ প্রথম আলোর বই মেলায় সিলেট শহিদ মিনারে তাকে পেয়ে জড়িয়ে ধরে ধন্যবাদ দিলাম । বললাম সিলেটের রিস্কার ভাড়ার তালিকা আপনিই করতে পেরেছেন , অনেক কাজ করলেন । বিনয়ের সাথ বললেন কেউ তো বলে না । আরিফুল হক জেল থেকে বেরিয়ে ২২ মাস রাত দিন কাজ করলেন , বিশ্রামহীন তার চলা । সিলেটের সব বড় ছড়া গুলো রাস্তা হয়ে গেল , এত সুন্দর কাজ আমার দেখে ভাল লাগল । তার সাথে ওকাস আয়োজিত আমার সম্বর্ধনা সভায় তাকে পেয়ে ধন্যবাদ জানালাম ,শহরটাকে যুগপোযোগী করে তুলার জন্য । ছিল আবেগ কারন ২৭ মাস জেল খেটে একজন জনপ্রতিনিধি সামান্য সময়ে যা করছেন তার জন্য তাকে সিলেটের সকল প্রবাসীদের পক্ষ থেকে সাধুবাদ জানাই । ছিলেন চেম্বার সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদ সহ সহ সিলেটের মিডিয়ার সিনিয়ররা ছিলেন , তাকে অভিনন্দন জানালাম ! তিনি আশ্বস্থ করলেন প্রবাসীদের উপযোগী সিলেট হবে ।

নির্বাচনে কামরান ভাইয়ের সুবিধে ছিল দলে কোন্দল ছিল না , কর্মিরা জান দিল । যে যেভাবে পারল প্রচারনা চালাল,সাংষ্কৃতিক কর্মিরাও চেষ্টা করল । কিন্তু্ুে এবার নির্বাচন টা প্রতিক কে কেউ পাত্তা দিল না । যে ৮৫ হাজার ভোট কামরান ভাই পেযেছেন তার চেয়ে আরও বেশী তার পাবার কথা ছিল , সোয়া লাখ ভোট কামরান ভাইয়ের পাবার কথা । দলিয় নেতা কর্মিরা খাটা খাটি করলেও ভোট দেয় নি । আর সু শিক্ষিত সমাজ আরিফুল হকের পেছনে চলে আসলো, বাসা বাড়ীর মহিলারা আরিফুল হকের দৃশ্যমান কাজের প্রশংসায় তাকে ভোট দিল ।

আর জামায়াত যতই লম্ফ জম্ফ করল তারা কোন ফেক্টরই হল না , জামানাতই বাজেয়াপ্ত হয়ে গেল , দেয়াল ঘড়ির ১০ হাজার আরিফুল হকেরই পাবার কথা ছিল । ব্যাক্তি আরিফুল হকের ইমেজ ই তাকে পাশ করাল । ধানের শিষের প্রচারনা তেমন ছিল না বললেই চলে , নিরবে ভোট বিপ্লব হল ।বদর উদ্দিন কামরান কাদলেন , শেষ ইলেকশন আর করব না , ৫ বছর কর বাড়াবো না । কোন কিছুই ভোটার রা নিল না । কিভাবে কর না বাড়িয়ে তিনি সিসিক চালাবেন , মিডিয়ায় তাকে অনেক আগেই জিতিয়ে দিয়েছিল । অথচ মানুষের ভেতর ক্ষোভ ছিল । তারপরও ভোট হল , ৭৫ ভাগ নিরপেক্ষ বলা চলে ।১০০ ভাগ নিরপেক্ষ হবার সময় আসে নি । জনগনের রায়ে তিনি ( আরিফুল হক ) মেয়র । বদর উদ্দিন কামনান নগরের সেবা করেছেন যুগ যুগ , মানুষের ডাকে তাকে পাওয়া যায় ,হকার ও নিম্ন শ্রেনীর মানুষ তাকে আপন ভাবে । তিনি ও ছুটে যান, সাংবাদিক সংস্কৃতি কমি , সুশিল সমাজ , সব কিছুতে তিনি সবার আগে , তাকে মুল্যায়ন করে আরিফুল হক তার আগামী শাসনামল চালাবেন । এবার দেখা গেল অনেক কমিশনার পুনরায় পাশ করেছেন , ভাল কাজ করেছেন বলেই তাকে নাগরিকরা ভোট দিচেছ । কাজের মুল্যায়ন নাগরিকরা করতে পিছপা হচেছন না । সব জনপ্রিয় কমিশনা্ররাই আবার পাশ করেছেন ।
জনাব আরিফুল হকের কাছে অনেকের অনুরোধ, তিনি সকলকে নিয়ে দলিয় দৃষ্টিকোনের বাহিরে গিয়ে সিসিক চালাবেন ।

তিন লক্ষ একুশ হাজার ভোটের ম্ধ্য এক লক্ষ আটানব্বই হাজার ভোটে পড়েছে । ভোট পড়েনি এক লক্ষ তেইশ হাজার , এক বৃহদ অংশ নাগরিক ভোট দেয়নি বা ভোট গুলোর মানুষ অাসলে আছে কিনা ভেবে দেখা উচিত ? আরিফুল হকের ভোট বাংকে পড়েছে ৯০ হাজার, বদর উদ্দিন কামরান ৮৫ হাজার । যিনি মেয়র হয়েছেন তিনি পুরো জনগনের ম্যান্ডেটের নন, তিন লক্ষ একুশ হাজারের মধ্যে নব্বই হাজার ভোটার তাকে ্ভোট দিয়েছে মাত্র । যার। শতাংশের হিসাবে ৩০ শতাংশ নাগরিকের ম্যান্ডেটের কম ।

সিলেটের নাগরিকরা একটি প্রত্যাশিত আধুনিক নগরীর জন্য ম্যান্ডেট দিয়েছে , যে কথা গুলো বলেছেন আরিফুল হক তা বাস্তবায়নে জোর দিবেন । বদর উদ্দিন কামরানকে সাথে নিয়ে নগরীর বড় বড় সমস্যার সমাধান করবেন এই প্রত্যাশা ।

গোলাম সাদত জুয়েল : সম্পাদক ( ফ্লোরিডা )

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: