সর্বশেষ আপডেট : ১৫ মিনিট ১৩ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১৯ অগাস্ট ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

জামায়াত এখন তালাকপ্রাপ্ত বয়স্ক নারীর মতো

রুদ্র মিজান:: ‘জামায়াত-শিবিরের মিছিলে যতো লোক হোন, ভোট তার চেয়ে খুব বেশি না। সুতরাং নির্বাচনী বিষয়ে জামায়াত-শিবির নিয়ে আলোচনার খুব গুরুত্ব নেই।’ সিলেট সিটির নির্বাচনের আগের দিন লিখেছিলাম। আরও লিখেছিলাম ‘সিলেটকে বাইরে থেকে অনেকে জামায়াত-শিবিরের দূর্গ মনে করেন। কথাটি মোটেও সত্য না। সিলেটের মানুষ মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছে। এটা জেনারেল এমএজি ওসমানীর এলাকা। এই মাটিতে বিজয়ের যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান। বিদেশে থেকে স্বাধীনতার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সমর্থন আদায়ের কাজ করেছিলেন আব্দুস সামাদ আজাদ। যিনি একজন ভাষা সৈনিকও।’

সোমবার সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে জনরায়ে প্রমাণ হলো লেখাটির সত্যতা।নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে আরিফ পেয়েছেন ৯০ হাজার ৪৯৬ ভোট। নৌকা প্রতীকে কামরান পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৮৭০ ভোট। তাদের ভোটের ব্যবধান ৪ হাজার ৬২৬। সেখানে মেয়র পদে জামায়াত নেতা এহসানুল মাহবুব জুবায়ের পেয়েছেন ১০ হাজার ৯৫৪ ভোট। জামায়াতের নেতৃবৃন্দ কী ভেবেছিলেন, জামায়াত ছাড়া বিএনপির গতি নেই! খুব জোর গলায় তাদের কর্মীরা বলেছিলেন, জুবায়ের ৬০-৬৫ হাজার ভোট পাবেন। কেউ কেউতো পাস করবেন বলেও মিছিল করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছিল তাদের মন্তব্যে সরব। এহসানুল মাহবুব জুবায়েরও দুঃসাহস দেখিয়েছেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপি প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়ে তাঁকে সমর্থন দিতে বলেছেন।

অবশ্য বিএনপি কর্মীরা অনেকেই খুশি হন জামায়াতের এই ভূমিকায়, কারণ সিলেটের জামায়াত কামরানের ঘনিষ্ঠ। ভোটের রাজনীতিতে তাদের অনেকেই নিরবে কামরানের পক্ষে অবস্থান নেন বলে কথিত আছে।

২০ দলীয় জোটে থাকার পরও সিলেটে জামায়াত কেন প্রার্থী দিয়েছিলো, কয়েক কারণ রয়েছে। ঘনিষ্ঠরা জানান, দীর্ঘদিন থেকেই আন্দোলন সংগ্রামে জামায়াত-শিবিরকে প্রশয় দিচ্ছিলো না বিএনপি। আর্ন্তজাতিক সমর্থনের কারণেই হয়তো সারা দেশে জামায়াত-শিবির ছাড়াই বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছিলো। তবে ভোটের রাজনীতিতে জোট ঠিকই ছিলো বলে বিএনপির বিভিন্ন নেতারা জানান। অন্যদিকে, সরকারের সঙ্গে জামায়াতের আড়ালে ঘনিষ্ঠতার গুঞ্জনও বাতাসে ভেসে ভেড়াচ্ছিলো। এছাড়াও জামায়াতের এক কেন্দ্রীয় নেতা, যিনি অতীতে সিলেটের দায়িত্বে ছিলেন। তার বাড়ি সিলেটে। ওই নেতার মালিকানাধীন ক্লিনিকের দখলে থাকা ভূমি উদ্ধার করে সিটি করপোরেশনের সড়ক নির্মাণ করেছিলেন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। এতেই স্থানীয় জামায়াত তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। যে কারণে সিলেটে আরিফকে ছাড় দিতে রাজি হয়নি জামায়াতে ইসলামী। তারা অন্তত আরিফকে পরাজিত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এতে কি লাভ হলো?

এই নির্বাচনে বিএনপি শুধু বিজয়ী হয়নি, দেশের কোথাও জামায়াত কোনো ফ্যাক্টর না তা সারা দেশের মানুষ বুঝতে পেরেছে। রাজপথের মিছিল, গাড়ি ভাংচুর আর ভোট এক কথা না।

আগেই বলেছিলাম, তারা ছোটাখাটো পরিসরে, ক্লাব, সমিতির নির্বাচনে জয়ী হতে পারে। গণভোটে স্বনির্ভরভাবে জোরালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করাও তাদের পক্ষে সম্ভব না। অবশ্য নির্বাচনে প্রশাসনের জামাই আদর পেয়েছে দলটি। দীর্ঘদিন পর কর্মীদের মাঠে নামাতে পেরেছে।

তবে শেষ হিসেবে জামায়াতের রাজনীতি এখন আরও চ্যালেঞ্জের মুখে। জামায়াতকে এখন সিলেটে কাছে টানার, আশ্রয়-প্রশয় দেওয়ার কোনো আগ্রহ কারও থাকবে বলে মনে হয় না। না বিএনপি, না আওয়ামী লীগের। জামায়াত এখন তালাকপ্রাপ্ত বয়স্ক নারীর মতো।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: