সর্বশেষ আপডেট : ৪ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১৯ অগাস্ট ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সিসিকের নির্বাচন আজ : আরিফ ফিরবেন, নাকি কামরানের প্রত্যাবর্তন

মারুফ হাসান ::

রাজনৈতিক সরগরম, আশা-নিরাশা আর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে আজ সোমবার সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। আজ সিসিকের চতুর্থ এই নির্বাচনে ৩ লাখ ২১ হাজার ৭৩২ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। তম্মোদ্ধে ১ লাখ ৭১ হাজার ৪৪৪ পুরুষ ও ১ লাখ ৫০ হাজার ২৮৮ মহিলা ভোটার রয়েছে।

ইসির প্রকাশিত তালিকা অনুসারে ২৭টি সাধারণ ওয়ার্ড ও ৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে মোট ১৩৪টি ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে মোট ভোটকক্ষের সংখ্যা ৯২৬টি; তন্মধ্যে অস্থায়ী ভোটকক্ষ ৩৪টি।

জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এই নির্বাচন নিয়ে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে সিলেট নগরীতে। আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ রাজনৈতিক অঙ্গনে মেয়র পদে জয়-পরাজয় নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। এই পরিস্থিতিতে আজকের সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আলীমুজ্জামানের কাছে এ এক অগ্নিপরীক্ষা।

নির্বাচনে ৭ জন মেয়র প্রার্থী থাকলেও মূলত লড়াই হবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ও বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর মধ্যে। আওয়ামী লীগ সংগঠিত থাকলেও বিএনপিকে নির্বাচনী মাঠে অনেকটা অগোছাল দেখা গেছে। এই মুহূর্তে বলা যায়, সাংগঠনিকভাবে এগিয়ে রয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। সবকিছু মিলিয়ে আজ ভোটের মাধ্যমে সিলেট আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন ঘটবে নাকি পুনরায় আসবে বিএনপি এই প্রশ্ন সর্বত্রই। একদিকে মানবিক, শ্রমজীবীদের বন্ধু ও সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য কামরান এবং অপরদিকে নগরবান্ধব বিএনপির প্রার্থী আরিফের উন্নয়ন ভাবনা বিবেচনা রেখে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ভোটাররা- এমন প্রত্যাশা নগরবাসীর। তবে শেষ পর্যন্ত কে হবেন নগরপিতা এই প্রশ্নের উত্তর পেতে দেশবাসীকে আজ মধ্যরাত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

সিসিকের নির্বাচনে এবারই প্রথম দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুই দলের কাছেই জয়-পরাজয় প্রেস্টিজ ইস্যুতে রূপ নিয়েছে। পক্ষান্তরে স্বতন্ত্র প্রার্থী জামায়াত নেতা এহসানুল মাহবুব জুবায়ের নিজেদের অস্তিত্বের জানান দিতে ভোট যুদ্ধে মাঠে আছেন। সে কারণে এবারের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার শুরু থেকেই ভোটের মাঠে তীব্র উত্তাপ ছড়িয়েছে নৌকা, ধানে শীষ এবং টেবিল ঘড়ি।

নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু থেকে ভোটের আগের দিন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থী একে-অপরের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ, নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা, দলীয় নেতাকর্মীদের মামলা ইত্যাদি অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ করেছেন। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থী এবং তাদের প্রতিনিধিরা একাধিকবার নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দাখিল করেছেন। তাই কি হতে যাচ্ছে, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট হবে কি না, নিরাপদে ভোট দিতে পারবেন কি না সে বিষয়ে খানিকটি ভাবনায় রয়েছেন ভোটাররা।

এ দিকে, বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী গতকাল রোববার দুপুরে সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান। তিনি নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে নানা অভিযোগ তুলে ধরেন। আরিফের অভিযোগ, পুলিশ তাঁর দলের নেতাকর্মীদের হয়রানি করছে, নির্বাচনের এজেন্টদের তালিকা চাইছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, পুলিশ এজেন্টদের তালিকা কেন চাইবে? আওয়ামী লীগ নেতারা প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন আরিফ।

আঞ্চলিক নির্বাচন কমিশনার বলেন, সুষ্ঠু ও সুন্দর একটি নির্বাচন অনুষ্ঠান করার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি আমরা। ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করার কোনো ধরনের সুযোগ নেই বলে সাফ জানিয়ে দিলেন এই কর্মকর্তা।

সিসিক নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৭ জন। তম্মধ্যে, নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপি মনোনীত আরিফুল হক চৌধুরী, এহসানুল মাহবুব জুবায়ের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন টেবিল ঘড়ি প্রতীকে। তবে, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী বদরুজ্জামান সেলিমের প্রতীক ছিল বাস গাড়ী তিনি ১৯ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ধানে শীষের প্রতি নিজের সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

এছাড়াও ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সদস্য ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন হাতপাখা প্রতীক, সিপিবি-বাসদ মনোনীত প্রার্থী আবু জাফর মই ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এহসানুল হক তাহের লড়ছেন হরিণ মার্কা নিয়ে। এর পাশাপাশি সিসিকের এবারের নির্বাচনে ২৭টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে মোট ১২৭ জন ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৬২ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

উল্লেখ্য, ১৯৭৭ সালে অল্প বয়সে কামরান সিলেট পৌরসভার কমিশনার নির্বাচিত হওয়ার পর সবার নজরে আসেন। পরে তিনি পৌরসভার চেয়ারম্যান ও সিলেট সিটির টানা দুইবারের নির্বাচিত মেয়র ছিলেন। ২০১৩ সালে সিটি নির্বাচনে কামরানের বড় ব্যবধানে পরাজয়ের পেছনে নানা কারণ রয়েছে বলে মনে করেন স্থানীয় নেতারা।

এদিকে আরিফুল হক চৌধুরী সদস্য বিদায়ী সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) মেয়র। সিসিকের তৃতীয় নির্বাচনে (২০১৩ সালের ১৫ জুন) মেয়র হিসাবে নির্বাচিত হয়েছিলেন এর আগে ২০০৩ সালে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কমিশনার হিসাবে নির্বাচিত ছিলেন আরিফুল হক চৌধুরী।

কে কোথায় ভোট দিবেন :
আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান (নৌকা) সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার সময় নগীরর ১৪নং ওয়ার্ডের কালীঘাটস্থ সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেবেন। বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী (ধানের শীষ) সকাল ৮টায় ভোট দেবেন নগরীর ১৮ নং রায়নগরস্থ রায়নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ডা. মো. মোয়াজ্জেম হোসেন (হাতপাখা) সকাল ৮টায় ভোট দেবেন ২০নং ওয়ার্ডের শিবগঞ্জ সেনপাড়াস্থ নবীন চন্দ্র সরকারি প্রাথমিক কেন্দ্রে। নাগরিক ফোরামের প্রার্থী সিলেট মহানগর জামায়াতের আমীর এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের (টেবিল ঘড়ি) সকাল সাড়ে ৮টায় নগরীর ১নং ওয়ার্ডের চৌহাট্টাস্থ সিলেট সিটির সবচেয়ে বড় কেন্দ্র আলিয়া মাদ্রাসায় ভোট দেবেন।
এছাড়া সিপিবি-বাসদের মনোনীত মেয়র প্রার্থী আবু জাফর (মই) সকাল সাড়ে ৮টায় নগরীর ২২নং ওয়ার্ডের উপশরস্থ শাহজালাল উপশহর একাডেমী কেন্দ্রে ভোট দেবেন। এদিকে সচেতন নাগরিক সমাজের মনোনীত প্রার্থী মো. এহছানুল হক তাহের (হরিণ) সকাল ৮টায় নগরীর ২নং ওয়ার্ডের দাড়ীয়াপাড়াস্থ রসময় মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেবেন।

৮০টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ :
সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে ১৩৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮০টি কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছে সিলেট মহানগর পুলিশ। গত বুধবার বিকেলে সিলেট মেট্রোপলিটন (এসএমপি) পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান এসএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার পরিতোষ ঘোষ।
তিনি বলেন, আপনারা যেটাকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করেন, সেটাকে আমরা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি। তবে কোনও ওয়ার্ডে কতটি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ তা প্রকাশ করেননি পরিতোষ ঘোষ।
এবার সিসিকের ২৭টি ওয়ার্ডে ১৩৪ টি কেন্দ্রের ৯২৬টি কক্ষে ভোট গ্রহণ করা হবে। এর মধ্যে ২০ নং ওয়ার্ডে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাধারণ কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ায় এই ওয়ার্ডের ৫টি কেন্দ্রে শুধুমাত্র মেয়র এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ভোট গ্রহণ করা হবে।

নিরাপত্তার চাদরে সিলেট নগরী :
সিসিক নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ৬ হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচন উপলক্ষে নগরীতে ৪ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সোমবার (৩০ জুলাই) সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ২৭টি ওয়ার্ডের ১৩৪টি ভোটকেন্দ্রের ৯২৬টি কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
এবার সিসিক নির্বাচনে ৩ লক্ষ ২১হাজার ৭শত ৩২ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এই নির্বাচনে ১৩৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮০ কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করেছে ইসি। অনুষ্ঠিতব্য এ নির্বাচনে ৩হাজার ৫শত পুলিশ, ২হাজার ৪শত আনসার, ৩শত ২০ র‌্যাব ও ১৮ প্লাটুন বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচনে ৯টি স্টাইকিং ফোর্স ও ৯টি মোবাইল টিম কাজ করবে বলে নির্বাচন কমিশন সিলেট আঞ্চলিক অফিস সূত্রে জানা গেছে।
এছাড়াও নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে মাঠে কাজ করছেন ৯জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৯জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। সিসিক নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা রিটার্নিং কর্মকর্তা আলীমুজ্জামান জানান ইতিমধ্যে নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
৯ স্ট্রাইকিং ফোর্স : নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে নগরীতে র‌্যাবের ২৭টি এবং ১৪ প্লাটুন বিজিবি কাজ করছে। থাকছেন জুডিসিয়াল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরাও। নিরাপত্তা নিশ্চিতে থাকছেন র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা।
সিলেট নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সিলেট নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৩০ জন সদস্য নিয়ে একটি করে মোবাইল ফোর্স থাকবে। এ ছাড়া নগরীর প্রতি তিনটি ওয়ার্ড মিলিয়ে থাকবে একটি স্ট্রাইকিং ফোর্স। একটি স্ট্রাইকিং ফোর্সের সদস্য থাকবে ১০ জন।

সিসিক নির্বাচনে ২৭টি ওয়ার্ডে ১৩৪টি ভোটকেন্দ্রে ৯২৬টি ভোটকক্ষ রয়েছে। এসব ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ‘সাধারণ’ তালিকায় থাকা কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ২২ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

সাধারণ কেন্দ্রগুলোর প্রতিটিতে পুলিশের একজন এসআই, একজন এএসআই ও পাঁচজন কনস্টেবলসহ সাতজন সদস্য, একজন ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্য, একজন পিসি (প্লাটুন কমান্ডার) আনসার সদস্য, একজন এপিসি আনসার সদস্য, ১২ জন লাঠিসহ আনসার সদস্য থাকবেন।

অন্যদিকে, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর প্রতিটিতে পুলিশের একজন এসআই, একজন এএসআই ও পাঁচজন কনস্টেবলসহ সাতজন সদস্য, তিনজন ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্য, একজন পিসি (প্লাটুন কমান্ডার) আনসার সদস্য, একজন এপিসি আনসার সদস্য, ১২ জন লাঠিসহ আনসার সদস্য থাকবেন।ইসি সূত্রে জানা যায়, নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডে ২৭টি মোবাইল ফোর্স থাকবে। পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যের সমন্বয়ে এর প্রতিটিতে সদস্য থাকবে ৩০ জন।

এছাড়া প্রতি তিনটি ওয়ার্ডে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১০ জন সদস্য নিয়ে থাকবে স্ট্রাইকিং ফোর্স। নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডে স্ট্রাইকিং ফোর্সের সংখ্যা থাকবে ৯টি। কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে সাথে সাথে এই স্ট্রাইকিং ফোর্স অ্যাকশনে যাবে। এর বাইরে নগরীর প্রতি দুই ওয়ার্ড মিলিয়ে এক প্লাটুন বিজিবি মাঠে থাকবে। ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে এবং ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন, তা দেখবে বিজিবি।

নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে টহল দেবে র‌্যাবের একটি করে টিম। নির্বাচন নির্বিঘ্ন করতে এবং সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সিলেট সিটি নির্বাচনে নয়জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং নয়জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চারদিন দায়িত্ব পালন করবেন। ভোট গ্রহণের আগের দিন থেকে ভোটের দিন এবং পরবর্তী দুই দিন এরা মাঠে থাকবেন।

সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা প্রলয় কুমার সাহা বলেন, ‘একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচন করতে চায় নির্বাচন কমিশন। এজন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থাই গ্রহণ করা হচ্ছে। নিরাপত্তা যাতে বজায় থাকে, সে জন্য র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি, আনসার মিলে দায়িত্ব পালন করবে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে মাঠে থাকবেন ম্যাজিস্ট্রেটগণও।

যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা :
সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে যান চলাচল ও বৈধ অস্ত্র ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সিলেট মহানগর পুলিশ। ২৮ জুলাই শনিবার মধ্যরাত থেকে ৩১ জুলাই মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত এ আদেশ বলবৎ থাকবে।
সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার গোলাম কিবরিয়া স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তি জানানো হয়, সিসিক নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী এ আদেশ জারি করা হয়েছে। আদেশ অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গত শনিবার মধ্যরাত থেকে নির্বাচনী এলাকায় মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া রবিবার মধ্যরাত থেকে সোমবার মধ্যরাত পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় টেক্সিক্যাব, বেবিট্যাক্সি, অটোরিক্সা (সিএনজি), মাইক্রোবাস, জিপ, পিকআপ, কার, বাস, ট্রাক, টেম্পো, নসিমন- করিমন, ভটভটি, ইজিবাইক ও যন্ত্রচালিত যানবাহন চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
নির্বাচনে প্রার্থী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন ও অনুমতিপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক এবং নির্বাচনী এজেন্টদের জন্য এই নির্দেশ প্রযোজ্য হবে না। জরুরি কাজ যেমন- অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ডাক, টেলিযোগাযোগ ইত্যাদি কার্যক্রমে ব্যবহারের জন্য উল্লেখিত যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।
তবে পর্যবেক্ষক ও পোলিং এজেন্টদের যানবাহনে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রদত্ত স্টিকার ব্যবহার করতে হবে। জাতীয় হাইওয়েসমূহের ক্ষেত্রেও এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।
এদিকে, গত শুক্রবার মধ্যরাত থেকে আগামী বৃহস্পতিবার (২ আগস্ট) মধ্যরাত পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় বৈধ অস্ত্র বহন ও প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। এ আদেশ অমান্যকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রিটার্নিং অফিসারের পাশাপাশি পুলিশের পক্ষ থেকেও ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। নির্বাচন উপলক্ষে সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

গতকাল রোববার সকালে ভোট গ্রহণ সামগ্রী বিতরণের সময় রিটার্নিং অফিসার আলীমুজ্জামান বলেন, সুষ্ঠু ও অবাধ ভোট গ্রহণের জন্য সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কেউ বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: