সর্বশেষ আপডেট : ৫৪ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ক্যারাম বিশ্বকাপ: কমলগঞ্জের চা কন্যা মীনা স্বপ্ন দেখছে বিশ্বজয়ের

মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান:: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আলীনগর চা বাগানের চা শ্রমিক কন্যা এখন বিশ্ব দরবারে। ক্যারাম বিশ্বকাপ অংশ গ্রহন করে বিশ্ব জয়ের স্বপ্ন দেখছেন মীনা। কিন্তু আর দশজন চা-শ্রমিকের মতোই ছিল মীনার জীবন। রঘুনাথ রবি দাস ও শ্রীমতি রবিদাস এর তিন সন্তানের সংসারে মীনাই সবার ছোট। রঘুনাথ ও শ্রীমতি গরিব অবহেলিত চা শ্রমিক হলেও সন্তানদের লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষ করার চিন্তা ছিল তাদের। সফলও হয়েছেন তারা। মেয়েকে ভর্তি করাতে পেরেছেন সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। মীনা পড়াশোনা করছে ইংরেজি বিভাগে। সেই মীনা শুধু ভালো ছাত্রীই নন। ভালো একজন খেলোয়ারও। মীনা এখন শুধু বাবা-মাকে খুশি করতে নয়, গোটা দেশকে খুশি করতে চান। আর সেটা ক্যারাম খেলা দিয়ে। আগামী ২৮ আগস্ট দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবে ক্যারামের এ আসর।

চলতি বছর বাংলাদেশ জাতীয় দলের সঙ্গে ক্যারাম বিশ্বকাপে অংশ নিতে বিদেশ যাবেন মীনা। আর এ খেলায় বিশ্ব জয়ের স্বপ্ন দেখছে মীনা। মীনার বাবা বাগানে গরু চরান। আর বয়সের ভারে মীনার মা এখন আর বাগানে কাজ করতে পারেন না। তাই মায়ের জায়গায় এক ভাই রাজেস এখন বাগানে শ্রমিকের কাজ করছে। অন্য ভাই খোকন চালাচ্ছে রিকশা।

মীনা রবিদাস জানায়, তাদের ছিল টানা-টানির সংসার। মীনা এসএসসি ও এইচএসসি পর্যন্ত লেখাপড়ার খরচ চালায় চা শ্রমিক ইউনিয়ন ও কলেজ থেকে পাওয়া উপবৃত্তির টাকা দিয়ে। সে যখন পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ত তখন তার ভাই ও বন্ধুরা মিলে বাসায় একটি ক্যারাম কিনে আনে। তাদের খেলা দেখে তারও ইচ্ছে জাগে ক্যারাম খেলার। কিন্তু ছোট বলে তাকে কেউ খেলায় নিত না। দূর থেকে দাঁড়িয়ে থেকে দেখে দেখেই সে ক্যারাম খেলা শিখে নেয়। এরপর সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় বিদ্যালয়ে এক বছর ক্যারাম খেলার সুযোগ পায় সে।

পরে ২০১৫ সালে সিলেট শাহজালার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর তাকে আর ক্যারাম খেলা নিয়ে চিন্তা করতে হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়েই ক্যারাম ছিল। সেখানে সে বিকাল বেলা নিয়মিত খেলতে পারত। একদিন তার খেলা দেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক ক্যারাম প্রতিযোগিতায় তার নাম লেখান। গত বছর আন্তবিশ্ববিদ্যালয় ক্যারাম প্রতিযোগিতায় দলগতভাবে অংশ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে পরাজিত করে মীনার দল শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন হয়। একই বছর বাংলাদেশ ক্যারাম ফেডারেশন বিজয় দিবস টুর্নমেন্টে অংশ নিয়ে মীনা (একক ভাবে) রানার্সআপ হয়। চলতি বছর আবারও আন্তবিশ্ববিদ্যালয় ক্যারাম প্রতিযোগিতায় দলগতভাবে অংশ নিয়ে মীনার দল শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন হয়। যেখানে মধ্যমণি মীনা। এরপর বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতার জন্য ডাক পড়ে। গত ২৮ এপ্রিল ঢাকায় বাছাই পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। বাছাই পর্বে মীনাসহ আরও দশজন প্রতিযোগী ছিল। মীনা দ্বিতীয় স্থান লাভ করে। জায়গা হয় বিশ্বকাপ দলে। এরপর থেকে দেশকে প্রিয় মাতৃভূমিকে কিছু দেওয়ার স্বপ্নে বিভোর মীনা।

মীনা জানালো, ‘এ লড়াই শুধু ট্রফি জয়ের নয়, এ লড়াই বিশ্বের বুকে নতুন করে লাল-সবুজ পতাকাকে তুলে ধরার। দেশের সম্মান বৃদ্ধি করার।’ কমলগঞ্জবাসীও স্বপ্ন দেখছেন মীনা যেন বিশ্ব দরবারে দেশ ও এলাকার সম্মান ধরে রাখতে পারেন।




এ বিভাগের অন্যান্য খবর




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: