সর্বশেষ আপডেট : ৭ মিনিট ১৪ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩০ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

যে পাঁচ কারনে সিলেটের মেয়র হবেন আরিফ!

হাসান মো. শামীম ::

ম্যাজিকম্যান। আরিফুল হক চৌধুরীর ডাকনাম। “ভোট ফর চেঞ্জ” এমন মটো নিয়ে প্রথমবার মেয়র নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলেন ২০১৩ সালে। প্রথমবারেই বাজিমাত! প্রায় ৩৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে দিয়েছিলেন প্রতিপক্ষ বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে। হেভিওয়েট কামরান এমন প্রতিপক্ষ যিনি টানা দুইবারের সিসিক মেয়র, জেলে বসেও নির্বাচন জেতার রেকর্ড আছে যার। বলা হয় সিলেটের কোনো নির্বাচনে কখনো হারবেন এমনটা স্বপ্নেও ভাবেন নি কামরান। আদতে তাঁর জীবনে তিনি ওই একবারই পরাজিত হয়েছেন আরিফের কাছে। এর আগে অংশগ্রহন করা সব নির্বাচন জিতেছিলেন কামরান।

নির্বাচিত হয়ে নানা প্রতিকুলতার মাঝে খুব অল্পদিনেই নগরবাসীর মন জয় করে নেন আরিফ। তাঁর নানামুখী আধুনিক পদক্ষেপ নতুন সিলেটের স্বপ্নে ভাসিয়েছে নগরবাসীকে। আরিফ তাঁর আমলে এমন অনেক কিছুই করেছেন বা করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন, যা আগে কখনো কেউ করেননি, করার চিন্তাও করেনি।

এক নজরে আরিফুল হকের করা কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম ছড়া-খাল উদ্ধার ও পরিষ্কার করা, ছড়া-খাল এর গার্ডওয়াল নির্মাণ করা, ব্যাপক হারে নগরীর রাস্তাঘাট প্রশস্থকরন করা, দীর্ঘদিন থেকে চলে আসা সিলেটের জলাবদ্ধতা দূরীকরন, দখলকৃত অবৈধ জায়গা উচ্ছেদ, পরিষ্কার নগরী গড়ে তোলা, সিলেট সিটির আয় বৃদ্ধি, হোল্ডিং ট্যাক্স এর রেকর্ড পরিমান আদায় ও সিটির আয় বৃদ্ধি করা, রিকশা লেন, পাবলিক টয়লেট,ওয়াকওয়ে, দখল মুক্ত ফুটপাত, বিভিন্ন দামী ও নতুন গাড়ী ক্রয় ও ইত্যাদি সব উন্নয়ন মুলক কাজই হয়েছে আরিফের আমলে। এবারও বিরোধী দলে থেকে মেয়র হওয়ার সুযোগ আছে আরিফুল হকের। দেখা যাক সেই পাচটি কারন যা অনুকুলে থাকলে পুনরায় মেয়র হবেন আরিফুল হক।

১.উন্নয়ন উন্নয়ন এবং উন্নয়ন 

এই মুহুর্তে নির্বাচনের প্রসংগ আসলেই মানুষের মুখে যে শব্দটি সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে তা হল “উন্নয়ন”। আরিফের ঘোর প্রতিপক্ষও অস্বীকার করতে পারবেন না আরিফ উন্নয়ন করেননি। এই উন্নয়নের বিষয়টি নগরের মানুষ পছন্দ করেছেন। কামরানের আমলে দীর্ঘদিন কোন এফেক্টিভ কাজ হতে না দেখা মানুষজন আরিফের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় হয়েছেন চমকিত। আরিফ বিরোধীরা অবশ্য বলেন “আরিফ তার নিজের টাকায় উন্নয়ন করেননি। করেছেন সরকারের টাকায়”। আরিফ সমর্থকরা উত্তরে বলেন “সরকারের টাকা জনগনের টাকা। সেটাও কেউ পকেট থেকে দিচ্ছেনা। মুল কথা উন্নয়ন। আরিফ উন্নয়নের মানুষ”। জোট সরকারের আমলে বদর উদ্দীন কামরানের একটিই কথা ছিল তিনি বরাদ্ধ পাচ্ছেন না,কাজ কিভাবে করাবেন। আরিফ সে সমস্যায় পরেন নি। তিনি বরাদ্ধ এনেছেন, কাজ করেছেন। তার কাজের প্রক্রিয়া দেখে খোদ অর্থমন্ত্রী তার প্রতি খুশি হয়ে বলেছিলেন “কামরান কে তো এত কাজ আনতে দেখলাম না কখনও”।

২.অভিযোগহীন নিরলস আরিফ 

গত পাচ বছরের প্রায় অর্ধেক সময় কিবরিয়া হত্যা মামলায় জেলে ছিলেন আরিফ। আড়াই বছর এর মত সময় ছিলেন জেলের বাইরে। এই সময়গুলোতে প্রতিদিন সিলেট শহরের বিভিন্ন জায়গায় কাজ নিয়ে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন আরিফ। একটি দিন ও তিনি অলসতা করে কাটান নি। কোটি কোটি টাকার হাতবদল হয়েছে তার আমলে। সরকারের প্রবল চোখ রাঙানীর মাঝে কাজ করেছেন আরিফ। তবে দুর্নীতি বিষয়ক কোন স্ক্যান্ডাল গড়ে উঠেনি আরিফকে ঘিরে। গত পাচ বছরে আরিফ ছিলেন ক্লীন ইমেজধারী। এমনকি নারী বিষয়ক কোন স্ক্যান্ডালেও জড়ায়নি আরিফের নাম। আরিফের এই সুপ্রবৃত্তি পছন্দ করেছেন সিলেট সিটির নাগরিকগন। এ কারনে বিপুল সংখ্যক ভোট তার বাক্সে পাবেন আরিফ। আর এই ভোট পেলে মেয়র হবেন আরিফ।

৩. সিলেটপ্রেমী আরিফ 

সিলেটকে সুন্দর করতে গিয়ে ভাল খারাপ কোন সম্পর্কের ধার ধারেননি আরিফুল হক। সাবেক প্রধান নির্বাহি এনামুল হাবিব পুলিশ লাইন মিরাবাজার রোডের রাস্তার কাজ শেষ না করেই ডিভাইডারে সৌন্দর্য বৃদ্ধির কাজে হাত দিয়েছিলেন। আরিফ জেল থেকে বের হয়ে এর তীব্র প্রতিবাদ করেন। তিনি প্রথমে রাস্তার কাজ শেষ করে পরে ডিভাইডার সৌন্দর্যবর্ধন করার কথা বলেন। বেশ কিছুদিন কাজ বন্ধ থাকার পর আরিফের মতানুসারেই আবার কাজ শুরু হয়। আরিফের কথা ছিল আগে রাস্তা,পরে সৌন্দর্য। যার সুফল এখন পাচ্ছেন নগরবাসী। মিরবক্সটুলা থেকে নয়াসড়কের রাস্তা বড় করার প্রধান অন্তরায় ছিল সিলেট ওইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। জামাত অধ্যুষিত এই হাসপাতালের পরিচালনা পর্ষদ সীমানা দেয়াল ভাংগতে অস্বীকৃতি জানায়। আরিফ নিজে সেখানে উপস্থিত হয়ে তাদের বুঝান। কথিত আছে এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে একজনকে চড়ও মারেন। এ ব্যাপারে ওই এলাকার একজন ব্যবসায়ী মন্তব্য করেন “আরিফ তো নিজের কোন ফায়দার জন্য চড় মারেননি,তিনি যা করেছেন তা শহরের মানুষের সুবিধার্থে রাস্তা বড় করার জন্য করেছেন”। আরিফের এই সিলেটপ্রেম মুগ্ধ করেছে নগরবাসীকে। এ কারনে আবারও মেয়র হতে পারেন আরিফ।

৪. ঐক্যবদ্ধ বিএনপি 

চড়ের ঘটনায় বিএনপি থেকে জামায়াতের সরে যাওয়া এবং পরবর্তিতে সিলেট সিটি নির্বাচনে একক প্রার্থী দেওয়াতে বিএনপি প্রথম দিকে কিছুটা দিকভ্রান্ত হয়ে পরে। হাতছাড়া হয়ে যায় ভাল একটি ভোট ব্যাংক। নিজেদের অহমিকায় আঘাত লাগে বিএনপির নেতা কর্মীদের। আরিফকে পাস করানো তাদের জন্য তাই হয়ে উঠেছে একটি চ্যালেঞ্জ। ঐক্যবদ্ধ বিএনপির এই অবস্থান তাই হয়ে উঠেছে গুরুত্বপুর্ন। জামায়াত ছাড়া আরিফুল হককে পাশ করিয়ে বিএনপি নিজেদের প্রমান করতে চায়। সেই ধারাবাহিকতায় নির্বাচনে নিজের অনড় অবস্থান থেকেও সরে আরিফকে সমর্থন দিয়েছেন বিদ্রোহী প্রার্থী বদরুজ্জামান সেলিম। নিজেদের প্রমানে বিএনপির সকল অংগ সংঘঠনের নেতা কর্মী আরিফকে ভোট দিলে তিনিই হবেন মেয়র।

৫. একজন সাইফুর রহমান ও আরেকটি সুযোগ..

সিলেটের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী মরহুম এম সাইফুর রহমান। তার একচেটিয়া সিলেট প্রেমের গল্প আছে অনেক। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সাইফুর রহমানের খুব কাছের মানুষ ছিলেন আরিফুল হক। আরিফের কাছে তাই সাইফুর রহমানের ছায়া খোঁজেন সিলেটের মানুষ। উন্নয়নে আপোষহীন আরিফুল হকের কর্মপরিধি অনেকটা তাই সাইফুর রহমানের মতই। এছাড়া মাত্র এক মেয়াদে আরিফের করা কাজ প্রশংসা কুড়িয়েছে সবখানে। মুলত বড় কোন দোষ ছাড়া আরিফুল হক পার করেছেন তার মেয়র আমলের পাচটি বছর।
আরেকটি সুযোগ তাকে না দেওয়ার ক্ষেত্রে তাই বড় কোন যুক্তি বা বাধা নেই। কামরানের ইশতেহারে করা অনেক প্রতিশ্রুতি ইতিমধ্যেই করার প্রক্রিয়ার মধ্যে আছেন আরিফ। আরিফ নির্বাচিত না হলে এই কাজগুলো হতে পারে বাধাগ্রস্থ। সেই হিসাবে পরিবর্তন না করার ব্যাপারে যদি রায় দেন নগরবাসী তাহলে জিতবেন আরিফুল হক । হবেন সিলেটের মেয়র।




এ বিভাগের অন্যান্য খবর




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: