সর্বশেষ আপডেট : ৭ ঘন্টা আগে
শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

‘মেয়র কাপ বন্ধ করে ক্রীড়াঙ্গনের বড় ক্ষতি করা হয়েছে’

সিলেট সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলেছেন, যুব সমাজকে নৈতিক অবক্ষয় থেকে রক্ষা এবং আগামী দিনের প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরিতে নিয়মিত খেলাধুলা আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টি অনুধাবন করে অতীতে মেয়র থাকাকালে আমি মেয়র কাপ চালুসহ ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে কাজ করেছি। তিনি বলেন, গত নির্বাচনে আরিফুল হক চৌধুরী মেয়র নির্বাচিত হয়ে মেয়র কাপ বন্ধ করে দেন। একারণে ক্রীড়াঙ্গনের বড় ক্ষতি হয়েছে। কামরান বলেন, সকলের সহযোগিতায় আবার নির্বাচিত হলে ক্রীড়াক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করব।

মঙ্গলবার সম্মিলিত ক্রীড়া পরিবার সিলেট বিভাগের উদ্যোগে স্বাধীনতা ও দূর্বার অগ্রযাত্রার প্রতীক নৌকার সমর্থনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বদর উদ্দিন আহমদ কামরান একথা বলেন। নগরের একটি হোটেলের সভাকক্ষে আয়োজিত সভায় সিলেট বিভাগের ক্রীড়া পরিবারের সদস্যরা মেয়র পদে বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে সমর্থন জানান। তারা ৩০ জুলাই অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য ক্রীড়া পরিবারের সদস্যদের প্রতি আহবান জানান।
সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি আব্দুল জব্বার জলিলের সভাপতিত্বে ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলের পরিচালনায় সভায় কামরান আরো বলেন, আমি মেয়র থাকাকালিন সিলেটে মেয়র কাপ টি-টুয়েন্টি এবং মেয়র কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছিলাম। সিলেটের মানুষের কাছে সেই টুর্নামেন্ট ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল এবং মাঠে রেকর্ডসংখ্যক দর্শক খেলা উপভোগ করেছিলেন। আমার উদ্দেশ্য ছিল যুবসমাজকে নৈতিক অবক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করা এবং জাতীয় দলের জন্য সিলেট থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় বের করা। চাইলে আমি কামরান মেয়র কাপ করতে পারতাম। করিনি যাতে অন্য মেয়ররা আসলে এ টুর্নামেন্ট অব্যাহত থাকে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, মেয়র নির্বাচিত হয়ে আরিফুল হক চৌধুরী মেয়র কাপ বন্ধ করে দিলেন। এটা অব্যাহত রাখলে রাজিন, অলক, তাপস, এনামুল জুনিয়রসহ অন্যদের মতো আরো খেলোয়াড় বেরিয়ে আসতো। সিলেটের মুখ উজ্জ্বল হতো। আমি নির্বাচিত হলে সিলেটে আবারো মেয়র কাপ চালু করব।

কামরান আরো বলেন, সিলেটের ক্রীড়াঙ্গনের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে আমি মেয়র থাকার পরও প্রথম বিভাগ ফুটবল লীগের চেয়ারম্যান হয়ে মাঠে ফুটবল গড়িয়েছিলাম। অনেকে আমায় বলেছেন, আপনি একজন প্রতিমন্ত্রী মর্যাদার মানুষ হয়ে কাজটি ঠিক করেননি। তাতে আমি কান দেইনি। কারণ, আমি তখন আমার সিলেটের ক্রীড়া উন্নয়নের কথা চিন্তা করেছি। তরুণ প্রজন্মের কথা চিন্তা করেছি। সেই সময় আমি চেয়ারম্যান না হলে ফুটবল মাঠে গড়াতো না। একজন মেয়র কেবল রাস্তাঘাট-ড্রেন-কালভার্টের চিন্তা করলে হয় না। নগরের প্রত্যেকটি বিষয়ের দিকে নজর রাখতে হয়।
সিলেট ক্রীড়াঙ্গনের প্রবীণ এবং প্রয়াত ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করে কামরান বলেন- একটা সময় সিলেট ক্রীড়াঙ্গনকে তারাই ধরে রেখেছিলেন। তাদের উত্তরসূরি হিসেবে আজকে যারা বিশাল কর্মযজ্ঞ চালিয়ে সিলেট বিভাগকে অভূতপূর্ব উন্নয়নের মধ্য দিয়ে সাফল্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, তাদেরকে আমি সাধুবাদ জানাই।
ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ক্রীড়ামোদী বা সংস্কৃতি অঙ্গনের মানুষের সাথে অন্য পেশার মানুষের একটা পার্থক্য রয়েছে। এদের মন অনেক বিশাল হয়ে থাকে। তারা বয়সে প্রবীণ হলেও মনের দিক থেকে কখনো প্রবীণ হন না। সব সময় খেলোয়াড়সূলভ মনোভাব থাকে। স্টেডিয়ামের মতো বিশাল বড় মন তাদের। এই বড়ত্বের এবং মহত্বের কারণে যারা আমাকে সমর্থন দিয়েছেন, সকলের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা জানাই।

কামরান আরো বলেন, যুব সমাজকে নৈতিক অবক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে সরকার অনেক কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। এখানে শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল সিলেটের ক্রীড়া উন্নয়নের বিশাল কর্মযজ্ঞের কথা তুলে ধরেছেন। সিলেটের ক্রীড়া উন্নয়নে দেড়শ’ কোটি টাকার উন্নয়ন হয়েছে। অতীতে এটা কেউ করেনি। এই উন্নয়নকে আরো ত্বরান্বিত করতে এবং সিলেটের ক্রীড়াঙ্গনকে আরো সমৃদ্ধ করতে সবটুকু উজাড় করে আমি কাজ করে যাব। আমি নির্বাচিত হলে সিলেট সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সব ধরণের ক্রীড়া ইভেন্ট আয়োজনে আর্থিক সহায়তাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হবে। আমি জেলা এবং বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার পাশে থাকব।
সিলেট বিভাগের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নৌকাকে বিজয়ী করতে যারা কাজ করে যাচ্ছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে কামরান বলেন, এটা ব্যক্তি কামরানের নির্বাচন নয়। এটা মুক্তিযুদ্ধের প্রতীক নৌকার নির্বাচন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে নৌকাকে ভোট দিয়ে এদেশের মানুষ স্বাধীনতার দাবিকে দ্রুত বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে নিয়েছিল।

কামরান বলেন, ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগের মাধ্যমে সিলেটে নৌকার যে জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে, তা ধরে রেখে আগামী ৩০ জুলাই নৌকা মার্কাকে বিজয়ী করতে হবে।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সিলেট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, মৌলভীবাজার জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মিসবাহুর রহমান, সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মারিয়ান চৌধুরী মাম্মি, হবিগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন কলি, সুনামগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান ইমদাদ রাজা চৌধুরী।

উপস্থিত ছিলেন, সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য বিজিত চৌধুরী, অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন, নাজনীন হোসেন, কোষাধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দিন, হাজী হেলাল উদ্দিন আহমদ, আব্দুল মালিক রাজা, সমর চৌধুরী, মাহমুদ হোসেন শাহিন, হাজী এম এ মতিন, গিয়াস উদ্দিন হেলাল, ফয়জুল ইসলাম, মনোজ রায়, সাজেদ আহমদ চৌধুরী, মঈন উদ্দিন তালুকদার, হুমায়ুন কবির চৌধুরী, পুলক কবির চৌধুরী, ইমরান আহমদ, ফরহাদ কোরেশী, জয়দীপ দাস, কামরান আহমদ, শামসুল ইমলাম মিলন, রাহাত তরফদার, জাহিদ এনাম সাব্বির, মিলন খান, মতিউর রহমান, আক্কাস উদ্দিন আক্কাই, এহতেশামুল হাসান লায়েছ, রাসেল আহমদ, এইচএমএ মালিক ইমন, ফজলুল করিম ফুল মিয়া, ইকলাল আহমদ, মো. ওলিউর রহমান, মহি উদ্দিন রাসেল, কামরুল হাসান, আজাদুর রহমান, গোলাম জাকারিয়া চৌধুরী শিপলু, তপন পাল, এটিমএম ইকরাম, ইসমত আলী, ইমরাজ আহমদ, আবদাল, এহিয়া আহমদ সুমন, রঞ্জন রায়, মুফতি তাহের, হাজী জামাল উদ্দিন আহমদ, শ্যামলী দাস, আব্দুল কাদির, সুহিন আহমদ চৌধুরী, মিজানুর রহমান, মাসুম আহমদ প্রমুখ। সভায় সিলেট বিভাগের চার জেলা ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার নেতৃবৃন্দ এবং ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরাও উপস্থিত ছিলেন। – বিজ্ঞপ্তি




এ বিভাগের অন্যান্য খবর




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: