সর্বশেষ আপডেট : ৩৮ মিনিট ৯ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মাছের পোনা বড় হতে দিন

নোমান আহমদ ::
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এবং এশিয়া মহাদেশের বৃহত্তম হাওর হাকালুকি। হাকালুকি বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ মৎস্য ভান্ডার হিসেবে অতি সুপরিচিত। এখানকার জলাভূমি এক কালে ছিল বোয়াল, আইড়, বাঘাআইড়, রিটা, শোল, গজার, রানী, পাবদা, মলা, কৈ, মেনি, ফলি, কাতলা, কালীবাউস, বাছা, বাতাসী, কাজলী, বাটা, চাপিলা, টেংরা, খলসেসহ নাম না জানা আরও অসংখ্য দেশীয় প্রজাতির মাছে ভরপুর। আমাদের হাকালুকি তীরবর্তী জনপদ গুলোর প্রবীন লোকজন, তাদের বাপ-দাদা ও পূর্ব-পুরুষ বড় হয়েছেন হাকালুকির মাছ খেয়ে। কালের বিবর্তনে হাকালুকি যৌবন হারাতে বসেছে। উপরের দু-একটি প্রজাতির মাছ ছাড়া বাকীগুলো প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বিলুপ্ত হওয়া এ মাছ গুলো দেখতে হলে যেতে হবে সরকারী মৎস্য গবেষণা কেন্দ্রে বা যাদুগরে। মাছের মৌসুমেও এখন হাকালুকিতে মাছ নেই।

হাওর তীরবর্তী হাট-বাজার গুলোতে দেশীয় মাছের দেখা নেই বললেই চলে। শুরু হয়েছে মাছের আকাল। মাছের জন্য হাহাকার। যাও স্বল্প সংখ্যক মাছ হাট-বাজারে উঠে, সবার সাধ্যে কুলায় না তা কেনার। উচ্চমূল্যে বিক্রি হওয়া দেশীয় প্রজাতির মাছ গুলো চলে যায় বিত্তবানদের ঘরে। আর মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষদের ভরসা করতে হয় খামারে উৎপাদিত নাইলোটিকা, তেলাপিয়া ও কমমূল্যের পাঙ্গাসের মত মাছের উপর। মাছতো কিনতেই হবে। কারন আমরা যে মাছে ভাতে বাঙালী।

এখন হাকালুকিতে বাড়ছে পানি। বিভিন্ন প্রজাতির মাছের ডিম ছাড়ার সময়। মাছের ছাড়া ডিম থেকে বের হচ্ছে লক্ষ লক্ষ পোনা। আর এ মৌসুমে চলছে হাকালুকিতে পোনা নিধনের মহাযজ্ঞ। শোল, গজার, টাকি মাছ হাওরে আসা নতুন পানিতে ডিম ছাড়ে। একটি মাছের ডিম থেকে হয় কয়েক লক্ষ পোনা। এই পোনা মাছ বড় হলেই আসে দেশী প্রজাতির মাছের যোগান। কিন্তুু এক শ্রেণির অসাধু , লোভী মানুষ বুঝে না বুঝে অবাধে নিধন করছে পোনা মাছ। নির্দয় এ মানুষগুলো মশারি জাল, পেলুইন জাল ইত্যাদি ব্যবহার করে পোনা মারছে। যার ফলে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে মাছের বংশ বিস্তার, হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ।

একটি মাছের ডিম থেকে হয় দুই থেকে চার লক্ষ পোনা। উদাহরণ স্বরূপ, যদি মাত্র এক হাজার মা মাছকে নিরাপদে ডিম ছাড়ার সুযোগ দেয়া হয় তাহলে এক হাজার মাছ থেকে থেকে হবে কমপক্ষে বিশ থেকে ত্রিশ কোটি পোনা। আর এগুলোকে যদি অন্তত পাঁচ বছর নিরাপদে বড় অভয়াশ্রম দেওয়া হয় তাহলে হাকালুকি আবারও হবে মাছে ভরপুর। থাকবে না মাছের আর কোন আকাল। দূর হবে হাহাকার ।

সরকারের তো অবশ্যই এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া উচিৎ। পাশাপাশি জনগনেরও উচিৎ এ ব্যাপারে সচেতন হওয়া। যারা অবাধে পোনা নিধন করছে তাদের প্রতির্ধো করা হোক। মাছের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করুন। পোনা মাছ না মেরে এদর বড় হতে দিন। এতে আবারও আসবে সুদিন। হাকালুকি নামক বিশাল মৎস্য ভান্ডার আবারও ফিরে পাবে তার হারানো যৌবন। আমরা সবাই থাকবো মাছে-ভাতে। আমাদের প্রজন্মও থাকবে মাছে ভাতে বাঙালী।

লেখক : চাকুরীজীবী




এ বিভাগের অন্যান্য খবর




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: