সর্বশেষ আপডেট : ৫ মিনিট ৪ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বসার অধিকার পেলেন ভারতের নারী শ্রমিকরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: ভারতের কেরালা রাজ্যে নারীদের একটি ইউনিয়ন সরকারের কাছে গিয়েছিল নারী শ্রমিকদের কাজের সময় বসতে পারার অধিকার নিশ্চিত করতে। সেই লড়াই-এ তারা শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়েছেন।

মায়া দেবী বহু বছর ধরে কাজ করতেন একটি কাপড়ের দোকানে। তার কাজ ছিল ক্রেতারা শাড়িসহ যেসব কাপড় দেখতে চায় সেগুলো নামিয়ে তাদের সামনে তুলে ধরা। কিন্তু তার কাজের পুরো এই সময়টাতে তিনি কখনো বসতে পারতেন না।

‘এমনকি দোকানে যখন কোন ক্রেতা থাকতো না, তখনও আমাদের বসার অনুমতি ছিল না,’ বলেন তিনি। মায়া দেবী আরো জানিয়েছেন, কাজ ফেলে টয়লেটেও যেতে পারতেন না তিনি।

মায়া দেবীর এই অভিজ্ঞতা ভারতে অস্বাভাবিক কোন ঘটনা নয়। কেরালা রাজ্যে যেসব নারী শ্রমিক কাপড়, গহনা কিংবা খুচরা বিক্রেতার দোকানে কাজ করেন তারা বলছেন, দোকান মালিকরা তাদেরকে সহকর্মীদের সাথে কথা বলতে দেন না, এমনকি দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকার কারণে তারা যদি দেয়ালে হেলান দিতে চান তাতেও মালিকরা ক্ষুব্ধ হন।

তারা অভিযোগ করেছেন যে, এসব নিয়ম কানুন ভঙ্গ করা হলে তাদের বেতন থেকে অর্থ কেটে নেয়া হয়।দোকানের নারী শ্রমিকদের জন্যে একসময় এসব নিয়ম কানুন এতো ব্যাপক হয়ে উঠে যে তারা তাদের বসার অধিকারের জন্যে লড়াই করতে শুরু করেন।আন্দোলনের মুখে কেরালা সরকারের পক্ষ থেকে ৪ জুলাই ঘোষণা করা হয় যে তারা শ্রম আইনের সংশোধন করবেন যাতে নারী শ্রমিকরা তাদের কাজের সময় বসতে পারেন।

শ্রম দপ্তরের একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা বলেন,‘এই আন্দোলনের মুখে আমরা নতুন আইন তৈরি করেছি যেখানে নারী শ্রমিকদেরকে বসতে দেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সাথে তাদেরকে টয়লেটে যেতেও পর্যাপ্ত সময় দেয়ার কথা বলা হয়েছে।’ তিনি বলেছেন, এই আইন ভঙ্গ করলে দোকান মালিককে জরিমানাও করা হতে পারে।

দোকানে যেসব শ্রমিক কাজ করেন তাদের একটা বড় অংশ নারী। কিন্তু তাদের অধিকার রক্ষার জন্যে সেরকম সুনির্দিষ্ট কোন আইনও নেই ভারতে। কাজের পরিবেশ এবং শর্তাবলীও খারাপ, মজুরি ও সুবিধা খুব কম। কোন কোন পরিসংখ্যানে বলা হচ্ছে, ভারতে যতো শ্রমিক কাজ করছেন তাদের মাত্র সাত শতাংশ হয়তো সব ধরনের সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকেন।

অন্যদিকে নারীরা কর্মস্থলে টয়লেটে যেতে না পারার কারণে তাদের স্বাস্থ্য সমস্যা হতো। এমন কি মালিকরা সিসিটিভিতে নজর রাখতেন কোন শ্রমিক কি করছে। যাদেরকে তারা কাজের সময় বসতে দেখতেন তাদের বেতন থেকে টাকা কেটে নেয়া হতো।

এই কারণে ২০০৯ সালে নারী শ্রমিকদেরকে নিয়ে একটি সংগঠন গড়ে তোলা হয়। তার নাম দেয়া হয়েছিল ‘পেঙ্কোটাম’ যার অর্থ ‘এক দল নারী’। পরে এটি একটি ট্রেড ইউনিয়নে পরিণত হয় যা ধীরে ধীরে কেরালার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পরে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা




এ বিভাগের অন্যান্য খবর




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: