সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
সোমবার, ২০ অগাস্ট ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

‘গুপ্তধন’ খুঁজতে গ্রাউন্ড রাডার বা স্ক্যানারেই ভরসা

নিউজ ডেস্ক:: ২০ জন শ্রমিকের সহায়তায় ছয় ঘণ্টা ধরে সাড়ে চার ফুট গভীরে ফলশূন্য খোঁড়াখুঁড়ি। ফলে মিরপুর-১০ নম্বরের সি-ব্লকের বাড়িতে কথিত ‘গুপ্তধন’ উদ্ধার অভিযান আপাতত স্থগিত রয়েছে। জেলা প্রশাসন বলছে, বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করে দুই থেকে চার দিনের মধ্যে আবারও অভিযান শুরু করা হবে। তবে নতুন অভিযানে ‘গুপ্তধন’ খুঁজতে গ্রাউন্ড রাডার অথবা ‘স্ক্যানারেই ভরসা রাখতে চান সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া, এই ইস্যুতে বিচ্ছিন্নভাবে দুই-একজনের বদলে সামগ্রিকভাবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শের তাগিদ বোধ করছে প্রশাসন ও পুলিশ।

ওই বাড়ির মেঝের নিচে সত্যিই ‘গুপ্তধন’ আছে কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনও তথ্য নেই। অন্যদিকে, মাটি খননের পরও কথিত ‘গুপ্তধন’ না পেয়ে বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতরের কাছে সহযোগিতা চেয়েছে ঢাকা জেলা প্রশাসন। এছাড়া, কথিত গুপ্তধন সন্ধানে আরও কী কী পদ্ধতি/প্রক্রিয়া আছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা চলছে।

ভূতত্ত্ব ও পরিবেশবিদরা বলছেন, যেসব জায়গা খোঁড়াখুঁড়ির অনুপযোগী অথবা ঝুঁকিপূর্ণ, সেসব জায়গায় প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়। মিরপুরের ওই বাড়িতে প্রযুক্তি ব্যবহারের আগেই খোঁড়াখুঁড়ি করা হয়েছে,কিন্তু কিছুই পাওয়া যায়নি। আসলে গুপ্তধন না থাকলে তো খুঁড়েও কিছু পাওয়া যাবে না।

ঢাকা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাজওয়ার আকরাম বলেন, ‘অভিযানটি আপাতত স্থগিত রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব বিশেষজ্ঞের মতামত নিয়ে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করবো।’তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতরের কাছে এধরনের যন্ত্রপাতি রয়েছে। তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে, তারা সেসব যন্ত্রপাতি দিয়ে সহায়তার করবে। এছাড়া, সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিশেষজ্ঞের সঙ্গেও আমরা পরামর্শ করছি। সব মিলিয়ে আরও দুই থেকে চার দিন সময় লাগবে। এরপর আমরা আবারও কাজ শুরু করবো।’

গুপ্তধনের সন্ধানে চলছে খোঁড়াখুঁড়িএ বিষয়ে বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতরের বিশেষজ্ঞরা জানান, যদি মাটির নিচে মেটাল জাতীয় কিছু থাকে, তবে স্ক্যান করলে সেটি বোঝা যাবে বা ধরা পড়বে। এটা একটি পদ্ধতি। আবার ‘গ্রাউন্ড পেনিট্রেটিং রাডার (জিবিআর)’ দিয়ে মাটির ওপর থেকেও দেখা হয়। যদি নিচে কোনও কঠিন বস্তু থাকে, তবে ওই মেশিনে সেটার সংকেত দেবে। এটি আরেকটি পদ্ধতি। কাদা মাটিতে এ যন্ত্রগুলো কম কার্যকর। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই দুটি পদ্ধতি ব্যবহার করে দেখা হবে।

বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. রেশাদ মহম্মদ ইকরাম আলী বলেন, ‘এই বিষয়ে আমাদের কাছে তেমন কিছু নেই। তবে আমাদের কাছে একটি গ্রাউন্ড পেনিট্রেটিং রাডার (জিবিআর) ও স্ক্যানার আছে, সেটি দিয়ে মিরপুরের ওই বাড়িতে গুপ্তধন সন্ধানে কাজ করার চিন্তা-ভাবনা চলছে। তবে এই স্ক্যানারটি ভেজা মাটিতে খুব একটা কার্যকর নয়।’

গ্রাউন্ড পেনিট্রেটিং রাডার (জিবিআর) ও স্ক্যানারের কার্যক্রম সম্পর্কে অধিদফতরের সূত্রে জানা যায়, এই স্ক্যানারটি ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন, সংযোগ তার, কোনও ফাটল শনাক্তকরণ, জনপথ ও রেলপথের গুণগত মান নির্ণয়, সেতুর ভিত্তি পরীক্ষা, বিপজ্জনক বর্জ্য মানচিত্রায়ন, ভুগর্ভস্থ সংরক্ষণাধার শনাক্তকরণ, স্তরতাত্ত্বিক বিন্যাস নির্ণয়, ভূগর্ভস্থ ফাটল ও পানি শনাক্তকরণ, প্রত্নতত্ত্বগত ক্ষেত্রে সাইট মানচিত্রায়ন, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন শনাক্তকরণের মতো কাজে ব্যবহার করা হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: