সর্বশেষ আপডেট : ৯ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

নারী প্রার্থী আছেন কিন্তু নেই নারী ভোটার!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচন কাল (২৫ জুলাই) । কিন্তু এরই মধ্যে পাকিস্তানে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন হামিদা শহিদ। কেন? কারণ তিনি পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী রক্ষণশীল উপজাতীয় এলাকা দির থেকে পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। যেখানে নারীরা ভোটই দিতে পারেন না।

দির একসময় ছিল তালেবানের শক্ত ঘাঁটি। সেখানে মেয়েদের অধিকার ছিল খুবই কম, তাদের এমনকি ভোট দিতেও দেয়া হতো না। গত বছরই দিরের এক কাউন্সিল নির্বাচনের ফলাফল গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছিল পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন। কারণ সেখানে কোন নারীই ভোট দেননি।

কমিশন তখন বলেছিল, কোন নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হতে হলে ওই এলাকার অন্তত ১০ শতাংশ নারী ভোটারকে ভোট দিতেই হবে। সেই সুযোগেই সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খানের দল তেহরিক-এ-ইনসাফের টিকিটে দির আসনে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন তিনি।

হামিদা শহিদ বলেন, ‘আমি ভাবলাম, একজন নারী যদি ভোট দিতে পারে, তাহলে সে ভোট চাইতেও পারে’। এই প্রথম সেখানে একজন নারী নির্বাচনে প্রার্থী হলেন। দির এলাকার পুরুষদের কাছে এটি নতুন দৃশ্য যে এই প্রথম একজন নারী প্রার্থী ভোটের জন্য প্রচারাভিযান চালাচ্ছেন।

নারীদের ভোট অধিকার নেই পাকিস্তানের আর কোথায়
শুধু মাত্র দির নয়,পাকিস্তানের অনেক প্রত্যন্ত এলাকাতেই নারীদের ভোট অধিকার নেই। পাকিস্তানের সবচেয়ে উন্নত প্রদেশ পাঞ্জাবেও রয়েছে এই সমস্যা।যদিও পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই নারীদের ভোট দেবার অধিকার আছে। কিন্তু সে অধিকার আইনে থাকা আর বাস্তবে প্রয়োগ করতে পারা – দুটি আলাদা জিনিস।

রাজধানী ইসলামাবাদ থেকে একটু দূরের গ্রাম ধুরনাল। এ গ্রামের দীর্ঘ ইতিহাস আছে মেয়েদের ভোট দিতে না দেবার। এখানে ১৯৬২ সাল থেকেই এমনটা ঘটছে। পাকিস্তানের পুরুষরা অনেকেই মনে করে তাদের সম্মানের সাথে নারীদের রক্ষা করাটা জড়িত। পুরুষরা অপমানিত বোধ করে নারীদের ভোট দেয়া নিষিদ্ধ করে। এখনো সেই নিষেধাজ্ঞা রয়ে গেছে।

স্থানীয় কিছু এনজিও মেয়েদের ভোট দিতে দেবার জন্য কাজ করছে। কিন্তু মেয়েদের সাথে এ নিয়ে কথা বলাটাও একটা কঠিন কাজ। পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশনও এ জন্য চেষ্টা করছে। গত বছরই নিয়ম করা হয়েছে যে প্রতিটি নির্বাচনী এলাকার অন্তত ১০ শতাংশ নারী ভোট না দিলে সে নির্বাচন বৈধ বলে গণ্য হবে না।

পাকিস্তানের নির্বাচনের আগে থেকেই শুরু হয়েছে নারী ভোটারদের তালিকাভুক্ত করার অভিযান। অতিরিক্ত ৩০ লাখ নারী এবার ভোট দিতে পারবেন। কিন্তু তার পরও মনে করা হয়, এখনো ৯০ লাখেরও বেশি নারী রয়ে গেছেন তালিকার বাইরে।

নির্বাচন কমিশনের জেন্ডার সংক্রান্ত কর্মকর্তা নিঘাত সিদিক বলছেন, তাদের বার্তা লোকের মধ্যে পৌঁছেছে, অনেক নারীই এগিয়ে আসছেন তারা ভোট দিতে চান।’আমরা নারী-পুরুষ সবাইকে সচেতন করার চেষ্টা করছি। ১০ শতাংশ নারীর ভোট না পড়লে ওই আসনের ফলই ঘোষণা করা হবে না, এবং নতুন করে ভোটগ্রহণ করা হবে।’

সূত্র: বিবিসি বাংলা




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: