সর্বশেষ আপডেট : ৪৪ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সিলেটে পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ: এমপি মানিকের পিতা শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন

‘ছাতক-দোয়ারাবাজার আসনের এমপি মুহিবুর রহমান মানিক ও তার ভাই ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লালের পিতা কলমদর আলী শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন। স্বাধীনতার পর তিনি জামায়াতের রুকন ছিলেন। মানিক তিনবারের এমপি হলেও তার পরিবারে আওয়ামী লীগের কোনো কর্মীও নেই।’

রোববার দুপুরে সিলেট নগরীর একটি হোটেলে জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ও জনপ্রতিনিধিরা। এমপি মানিকের পরিবারকে নব্য আওয়ামী লীগার উল্লেখ করে তারা বলেন, এমপি মানিক ও তার পরিবার ছাতকে তৃণমূল আওয়ামী লীগ নেতা আলোচিত ফারুক হত্যা মামলার প্রধান অন্তরায়। মানিকের ভাই বিল্লাল সকল অপকর্মের হোতা। এসব অপকর্ম থেকে নিজেদের বাঁচাতে তারা ছাতক পৌরসভার মেয়র কালাম চৌধুরী ও সংসদ সদস্য পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী শামীম চৌধুরীর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য রাখেন ছাতকের প্রবীণ রাজনীতিবিদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক আবরু মিয়া তালুকদার। এসময় ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধা, জেলা পরিষদের সদস্য, ওয়ার্ড কমিশনার ও ইউপি চেয়ারম্যানগণ উপস্থিত ছিলেন।
ফারুক হত্যা মামলার পর এমপি মুহিবুর রহমান মানিকের ভাই ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল ৩ জুলাই সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি পৌর মেয়র কালাম চৌধুরী ও শামীম চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করেন। এসব অভিযোগ মনগড়া, মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করা হয় রোববারের সংবাদ সম্মেলনে।
লিখিত বক্তব্যে আবরু মিয়া তালুকদার বলেন, গত ২২ জুন দিবাগত রাতে দুর্বৃত্তরা নৃংশসভাবে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে উত্তর খুমরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমদকে। ২৪ জুন তার ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মামলা করতে গেলে এমপি মানিকের কারণে পুলিশ মামলা রেকর্ড করেনি। কারণ, তার ভাই ছিল প্রধান আসামী।

ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল সংবাদ সম্মেলনে কালাম ও শামীম চৌধুরীকে নব্য আওয়ামী লীগার দাবি করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আশির দশকে কালামের বড় ভাই শাহজাহান চৌধুরী এমসি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। তাদের চাচা ছাতক উপজেলা পরিষদের প্রথম চেয়ারম্যান সুজন মিয়া চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের নানাভাবে সহায়তা করেন। ছাতক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের কামান্ডার রহিম উদ্দিনের একটি প্রকাশনায় যে কয়েকজন সাহায্য-সহায়তাকারীর নাম রয়েছে তার মধ্যে সুজন চৌধুরী অন্যতম। অথচ তাকে রাজাকার হিসেবে দাবি করেন বিল্লাল।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় অসংখ্য মা বোনের ইজ্জত লুন্টন ও অসংখ্য বাড়ি-ঘর লুটপাট করেছেন মানিকের পিতা। তার ভাই মুজিবের বিরুদ্ধে দুদকে মামলা রয়েছে। তার ভাগনা আব্দুল আলিম বিয়ানীবাজার থানার একটি ধর্ষণ মামলার আসামী। বিল্লাল ইউনিয়ন পরিষদের চাল পাঁচারকালে গোবিন্দগঞ্জে তার ট্রাক আটক করেছিল ট্রাফিক পুলিশ। মানিক গত ১০ বছরে শতকোটি টাকার মালিক হয়েছেন। গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থানে বরাদ্ধকৃত টাকার মধ্যে ৩৪ কোটি টাকাই তিনি ঘুষ নেন। সিমেন্ট ফ্যাক্টরি থেকে কোটি কোটি টাকা বাণিজ্য করছেন এমপি মানিক।
কালাম ও শামীম চৌধুরী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এরশাদ বিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন আন্দোলনে কালাম ও শামীম চৌধুরীর পরিবার মামলা ও হামলার শিকার হয়েছেন। বিগত সময়ে রাজনৈতিক কারণে কালাম চৌধুরী ১৬ মাস জেলে ছিলেন। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় ৮৭ সালে তিনি একমাস জেল খাটেন।
তিনি আরও বলেন, ১/১১ এর সময় সংস্কারপন্থি ছিলেন মানিক। শেখ হাসিনাকে মাইনাস ফর্মুলায় ব্যস্ত ছিলেন। নৌকার বিরোধিতা করে গত উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদে প্রার্থী দিয়েছেন।

আবরু মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ফারুকের স্ত্রীর দায়ের করা মামলার এজাহারে যাদেরকে আসামী করেছেন তাদের মধ্যে ৪ জনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কিন্তু এমপি মানিকের কারণে বিল্লালকে গ্রেফতার করছে না পুলিশ।

মামলাটি পিবিআই-এ স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানো হয়। একই সাথে দুর্নীতিবাজ ও দলের অন্তরায় উল্লেখ করে মানিক-বিল্লালরা যাতে ফারুক হত্যা মামলাকে প্রভাবিত না করতে পারে সেজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, ছাতক উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক আজমল হোসেন সজল, ছাতক পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহাব উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মৃদুল কান্তি দাস মিন্টু, ছাতক পৌর মুক্তিযোদ্ধা কামান্ডার অজয় ঘোষ, সাবেক কামান্ডার গোলাম মোস্তাক, নোয়ারাই ইউপি চেয়ারম্যান পীর আব্দুল খালিক রাজা, ছাতক ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম, কালরুকা ইউপি চেয়ারম্যান অদুদ আলম, গোবিন্দগঞ্জ-সৈয়দেরগাও ইউপি চেয়ারম্যান আখলাকুর রহমান, দোয়ারার সুরমা ইউপি চেয়ারম্যান খন্দকার মামুনুর রশিদ, ছাতকের প্যানেল মেয়র তাপস চৌধুরী, ওয়ার্ড কাউন্সিলর নওশাদ মিয়া, দিলোয়ার হোসাইন, আখলাকুল আম্বিয়া, সুদিপ দে, লিয়াকত আলী, ধন মিয়া ও আছাব আলী, মহিলা কাউন্সিলর মিলন রানী দাস, সামসুন্নাহার বেগম, দোয়ারাবাজার আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক শামিমুল ইসলাম, জেলা পরিষদ সদস্য আব্দুস শহীদ মুফতি, উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক রোটারিয়ার আবুল হোসেন, উত্তর খুরমা ইউনিয়ন আওয়ামীগ সভাপতি আরশ আলী খান ভাসানী, সাধারণ সম্পাদক আজাদ মিয়া, আওয়ামী লীগ নেতা শামসুল ইসলাম খান, নিহতের ভাই মানিক মিয়া ও আকিক মিয়া, পিপি অ্যাডভোকেট ছায়াদুর রহমান, প্রবাসী নেতা জয়নাল আবেদিন, আবু সাইদ চৌধুরী বাবুল, সুলেল মিয়া, শাহিন চৌধুরী প্রমুখ। – বিজ্ঞপ্তি




এ বিভাগের অন্যান্য খবর




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: