সর্বশেষ আপডেট : ৪৫ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১৯ অগাস্ট ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

আমার প্রথম কাজ দলকে মানসিকভাবে চাঙ্গা করা: মাশরাফি

স্পোর্টস ডেস্ক:: বাংলাদেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে টেস্ট সিরিজে বিধ্বস্ত হয়েছে। প্রথম টেস্টে লজ্জার হারের পর দ্বিতীয় টেস্টেও হেরেছে দৃষ্টিকটুভাবে। তবে বাংলাদেশ দলের এই হতশ্রী অবস্থা থেকে জয়ের ধারার ফেরাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ গেছেন টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানেডে সিরিজের আগে ব্যক্তিগত সমস্যা থাকলেও দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশ দলকে ওয়ানডে সিরিজে তিনিই নেতৃত্ব দেবেন। তার আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হতশ্রী বাংলাদেশকে আবার আশা ফেরাতে হবে। আর সেই দায়িত্ব মাশরাফির ওপর। ওয়েস্ট ইন্ডিজ পৌছে বাংলাদেশ অধিনায়ক ক্রিকবাজকে একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। তার বিশেষ অংশ তুলে ধরা হলো:

প্রশ্ন: পরিবারের এমন অবস্থা (স্ত্রীর অসুস্থতা) স্বত্তেও দলের সঙ্গে যোগ দিলেন। কাজটা কতটা কঠিন ছিল?

মাশরাফি: এটা সবসময় কঠিন। তবে আমি পুরো বিষয়টি নিয়ে খুব ইতিবাচক ছিলাম। এটা সত্য যে আমার স্ত্রী অসুস্থ। তবে একই সঙ্গে বলছি আমি দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে খুব ইতিবাচক ছিলাম। শুধু ব্যাপার হলো আমি দলের অন্য সদস্যদের সঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজ আসতে পারিনি। কারণ তার যে চিকিৎসা চলছিল তা ১৫ তারিখের দিকে শেষ হওয়ার কথা ছিল।

অসুস্থ স্ত্রীকে রেখে দেশের বাইরে খেলতে আসা অবশ্যই সহজ ছিল না। তবে এর আগেও আমি পরিবারের সদস্যদের অসুস্থতা স্বত্তেও বাইরে খেলতে এসেছি। আমি এই ব্যাপারগুলোর সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। এখানে আসার পর আমার জন্য ভালো ব্যাপার হলো আমি প্রস্তুতি ম্যাচটা খেলতে পারবো। কারণ বেশ কিছু দিন আগে আমি শেষ প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলেছি।

প্রশ্ন: ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে এসে কেমন লাগছে। ২০০৯ সালে এই ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে এসেই ইনজুরিতে পড়েছিলেন। এরপর অনেকে ভেবেছিল আপনি ইনজুরি কাটিয়ে আপনার সেরাটা আর দিতে পারবেন না।

মাশরাফি: এটা সত্য অনেকে এমনটা ভেবেছিল। তবে এটা নিয়ে মনের মধ্যে কোন খচখচানি নেই। ওই দৃশ্যপটটা নিয়ে আমি খুব অখুশি নই। আবার ভীতও নয়। আসল ব্যাপার হলো আমি বাস্তবতাটা মেনে নিয়েছি। সেটা যত ব্যথারই হোক কোন ব্যাপার না।

আমি ওটা ভুলে সামনের দিকে তাকিয়েছি। আমি ২০০৯ সালে অনেক প্রত্যাশা নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে এসেছিলাম। কিন্তু ইনজুরিতে পড়ে তার কিছুই পূরণ হয়নি। এসব স্মৃতি মনে করা গুরুত্বহীন। আর হ্যাঁ আপনি মনে মনে যেমনটা ভাবছেন তেমন কিছু অবশ্যই এর মধ্যে নেই।

প্রশ্ন: দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের আগেও একই অবস্থায় পড়েছিলেন। টেস্টে হেরে দল টালমাটাল ছিল। আপনাকে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতিতে থাকা এক দল গিয়ে সামলাতে হয়েছিল। অধিনায়ক হিসেবে এমন পরিস্থিতিতে পড়লে কি ধরণের কাজ করতে হয়?

মাশরাফি: প্রস্তুতি ছাড়া কেউ মাঠে খেলতে যায় না। আমি মনে করি, তারা তাদের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করেছে। তবে তাদের ঠিকঠাক নক হয়নি মাত্র। এমনভাবে দল হারলে সকলের মানসিক অবস্থা খুব দুর্বল থাকে এটা সত্য। আমার প্রাথমিক কাজ হচ্ছে দলের সকলকে মানসিকভাবে চাঙ্গা করা।

কিভাবে ওটা কাটিয়ে ওঠা যায় তা নিয়ে আমি চিন্তা করছি। কারণ আমরা ওয়ানডে সিরিজে তাদের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়াতে চাই। আমি মনে করি না যে, আমাদের ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে ভালো ব্যাট করার সামর্থ নেই। কিন্তু আমাদের সেটা করে দেখাতে হবে। মানসিকভাবে আমাদের শক্ত হতে হবে। এছাড়া আমাদের সবকিছু ইতিবাচকভাবে ভাবতে হবে।

এখানকার যে উইকেট তা দেখে বোঝা যায় রান করতে পারলে ভালো কিছু আশা করা যায়। আর তাই আমাদের দলের টেস্ট হতাশা নিয়ে পড়ে থাকলে চলবে না। আমাদের অবশ্যই ওয়ানডে সিরিজে বড় প্রত্যাশা আছে। যদিও আমাদের সমর্থকরা সম্প্রতি পারফর্মের কারণে বেশি কিছু প্রত্যাশা করতে পারছে না। নেতিবাচক মনোভাব নিয়ে ক্রিকেট খেলার কোন মানে হয়না। এমনকি আমরা হারলেও আমাদের সঠিক পথটা খুঁজে বের করতে হবে।

প্রশ্ন: আপনি এর আগে বলেছিলেন যে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে নতুন ক্রিকেটাররা বড় ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ তারা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হারের ওই ধকলের মধ্যে নেই।

মাশরাফি: আসলে কথাটা ওমন ছিল না। আমি আসলে বলতে চেয়েছি যারা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাজেভাবে হারের মধ্যে ছিল না তাদেরকে নিতে পারলে হয়তো তারা ভালো করতো। কারণ তাদের মধ্যে ওই মানসিক চাপটা ছিল না। এছাড়া ভালো করার একটা তাড়নাও থাকতো তাদের মধ্যে। এটা তো সত্য যে আপনি যখন হারবেন তখন আপনার মানসিক অবস্থা খারাপ থাকবে। কিন্তু আমাদের ওয়ানডে সিরিজের জন্য যারা পরে দেশ থেকে এসেছে তাদের মধ্যে হারের ব্যাপারটা নেই।

প্রশ্ন: বিশ্বকাপের প্রস্তুতি কী এই সিরিজ থেকেই শুরু হচ্ছে। নতুন কোচের চিন্তায় তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়ে চিন্তা কতটুকু?

মাশরাফি: দেখুন আমরা বিশ্বকাপের জন্য আর মাত্র ১২ মাস হাতে সময় পাচ্ছি। সুতরাং আপনাকে সামনে এগুতে হলে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। তার জন্য আমাদের বিশেষ কিছু জায়গা পূরণ করতে হবে। আর সামনে এগুনোর জন্য সব ধরণের চিন্তা মাথায় রাখতে হবে। দলের নতুন কোচ এসেছেন। প্রথমত তার প্রভাব দলে ব্যাপকভাবে কাজে দেবে। কারণ তিনি খেলোয়াড়দের কাছ থেকে দেখা শুরু করবেন।

আমার মনে হয়, আমাদের দলটা মোটুমুটি দাঁড়ানোই আছে। ওদিকে ফিল্ডিং কোচ দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। এই একই দল নিয়ে এখনো আমরা অন্তত সামনের পাঁচ-ছয় মাস খেলবো। নতুন খেলোয়াড়দের নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখতে হলে এখনই তাদের দলের সঙ্গে আনতে হবে। কারণ তাদের দলের সঙ্গে মানিয় নেওয়ার এবং প্রমাণ করার একটা সময় তো দিতে হবে।

প্রশ্ন: আপনি সবসময় বলেন যে, বিশ্বকাপের আগে ২০ সদস্যের দল দেওয়া উচিত।

মাশরাফি: সম্ভবত। আমরা যদি তা করতে পারি তবে তা সম্ভবত ভালোই হবে। তাতে করে একই দল নিয়ে অনেকদিন খেলা যাবে। তাছাড়া ইনজুরি নিয়ে বেশি দুশ্চিন্তা থাকবে না। কাউকে সুযোগ দিলে সেগুলো সে কাজে লাগাতে পারবে।

প্রশ্ন: আপনি বললেন কিছু জায়গা ফাঁকা আছে। বিষয়টি কি একটু বর্ণনা করবেন?

মাশরাফি: যেমন ধরুন তামিমের সঙ্গী হিসেবে আমরা এখনো ভালো একজন সঙ্গী খুঁজছি। আমরা তিনে একজন নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান খুঁজছি। আমাদের সাতে-আটের দিকে নির্ভরযোগ্য কাউকে লাগবে। আমি আটে একজন অলরাউন্ডারকে বেশি সমর্থক করবো। সেখানে অবশ্যই প্রতিপক্ষের শক্তি বিবেচনা করে পেসার, বাঁ হাতি স্পিনার বা অফ স্পিনার হাতে থাকতে হবে।

প্রশ্ন: আপনি মোস্তাফিজকে কিভাবে কাজে লাগাবেন। বিশেষ করে তার ইনজুরি নিয়ে দুশ্চিন্তার মধ্যে। এছাড়া তিনি কিছু বোলিং অস্ত্রও হারিয়ে খুঁজছেন।

মাশরাফি: দেখুন সে ইনজুরি থেকে ফিরেছে। এখন তাকে শুরুর মতো বল করতে বললে হবে না। তবে সে নিয়মিত তার সমস্যা কাটিয়ে উঠছে।যেটা আমাদের সামনের দিনগুলোতে সহায়তা করবে বলে আমার মনে হয়। তার যে দিকটা আমার ভালো লাগে তা হলো সে এগুলো নিয়ে খুব একটা চিন্তা করে না।

প্রশ্ন: দলের সিনিয়র খেলোয়াড়দের নিয়ে কোন দুশ্চিন্তা আছে?

মাশরাফি: আমার মনে হয় না সাকিব, তামিম, মুশফিক, মাহমুদুল্লাহকে নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোন সুযোগ আছে। তাদের খারাপ সময় যেতে পারে। তবে তারা ম্যাচ জয়ী খেলোয়াড় হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছে। আমাদের তাদের জন্য এমন সুযোগ করে দিতে হবে সেখান থেকে তারা তাদের সেরাটা দিতে পারে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: