সর্বশেষ আপডেট : ১৩ মিনিট ৩০ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সিলেটে সব সমীকরণই বিএনপির বিপক্ষে

বদরুল আলম মজুমদার ::

সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলের টানাপোড়ন এখন তুঙ্গে। গত সিটি নির্বাচনে এখানে বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হলেও এবার দলটি পড়েছে জোটসঙ্গী জামায়াতের বাধার মুখে। সিলেটে প্রার্থী দিয়েছে জামায়াত। বিএনপি মনে করছে, জামায়াতের প্রার্থী এহসানুল যুবায়ের সরকার দলের প্রার্থীর পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন। কিন্তু জামায়াত বলছে ভিন্ন কথা। তাদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সব কয়টি সিটিতে বিএনপিকে সমর্থন দিয়ে গেছে জামায়াত। এবার তারা সিলেটে বিএনপির কাছে সমর্থন প্রত্যাশা করতেই পারে। তাদের মতে, দেশের অন্য যেকোনো জায়গা থেকেও এখানে জামায়াতের সাংগঠনিক অবস্থান ভালো ও কর্মী সংখ্যা বেশ ভালো। তাই বিএনপির সমর্থন পেলে সহজেই জয় আনতে পারবেন তারা।

বিএনপি দলীয় সূত্রমতে, দেশের রাজনীতিতে জামায়াতবিরোধী একটা অবস্থান তৈরি হওয়ায় আগামী নির্বাচনের আগে কোনোভাবেই দলটির সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতায় যেতে রাজি নয় বিএনপি। কেননা বৃহৎ আকারে সরকারবিরোধী প্ল্যাটফর্ম গড়তে যাওয়া বিএনপির অন্যতম বাধা হচ্ছে জামায়াত। তাই সিলেটে দলের অবস্থা যেমনই হোক কোনোভাবেই জামায়াতকে প্রাধান্য দেওয়ার পক্ষে না বিএনপি। বৃহৎ ঐক্য গঠনের পর জামায়াতের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ইতি টানার ব্যাপারে যথেষ্ট অগ্রগতির কথা শোনা যায় বিএনপিতে। কিন্তু সে জোট গঠনের আগে জামায়াত নিয়ে বিএনপি এখনই কিছু বলতে রাজি নয়। যদিও ২০ দলীয় জোটের অনেক শরিক দলই জামায়াতকে বাদ দিতে বিএনপির ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।

বিএনপির এখন জামায়াতকে নিয়ে উভয় সংকটে আছে—এমনটা মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা মনে করেন, বিএনপিকে সরকারবিরোধী বৃহৎ ঐক্য গড়তে হলে জামায়াতের সঙ্গে পুরনো সম্পর্কের ইতি টানতে হবে। কেননা ডিপি, বিকল্পধারা, গণফোরামসহ কয়েকটি বাম দলের সঙ্গে সরকারবিরোধী মোর্চা গঠন করতে হলে জামায়াতকে বাদ দেওয়ার শর্ত আরোপ করা হয়েছে। তাই দল হিসেবে বিএনপি এখন উভয় সংকটে আছে। বিএনপির সামনে এখন বড় প্রশ্ন হচ্ছে, ভোটের মাঠে ৮-১০ শতাংশ ভোটের মায়া নাকি বিএনপিকে একটি উদার গণতান্ত্রিক দিল হিসেবে তুলে ধরা। আপাতত যে দিকেই বিএনপি যাক লাভ কি হচ্ছে তাদের তা জানতে সময় হয়তো লাগবে।

এদিকে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট গত শনিবার তাদের বৈঠক থেকে জামায়াতকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করার অনুরোধ জানানো হয়। এ ব্যাপারে জামায়াতের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া না যায়নি। তবে জামায়াতের একাধিক সূত্র জানায়, সিলেটে তাদের প্রার্থীর পক্ষে বিএনপিকে সমর্থনের কথা বলা হচ্ছে। ২০ দলের বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে জোটের সমন্বয়ক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, সিলেটে জামায়াতের প্রার্থী এখনো আছে। শনিবারের বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, বৈঠকে সব শরিকরা অনুরোধ করেছেন, তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে। নিশ্চয় রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতের সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আছে। বৈঠকে তাদের প্রতিনিধিও ছিলেন। তিনি দলের হাইকমান্ডকে আমাদের অনুরোধের বিষয়টি অবহিত করবেন। আশা করি, ২০ দলীয় জোটের ঐক্যের বিষয়টি তাদের কাছে গুরুত্ব পাবে। বৈঠকের দিন এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ২০ দলের মধ্যে কোনো বিভেদ নেই। সব নির্বাচনে যেকোনো রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করবে সেই স্বাধীনতা আছে। জামায়াতকে আমরা অনুরাধ করেছি। আশা করছি, সিলেটের ব্যাপারে তারা ২০ দলীয় জোটের অনুরোধ রাখবেন।

তবে সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত জামায়াত ভোটের মাঠে থাকবে বলে জানিয়েছেন দলটির নায়েবে আমির মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি গণমাধ্যমে বলেন, দলের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অনুরোধ রাখার সুযোগ নেই। তিনি আরো বলেন, আর তো সময় নেই। নির্বাচনের মাঠে আমরা আছি। শেষ পর্যন্ত থাকব। এ সিদ্ধান্তই আমাদের আছে। এখানে আর কোনো বিকল্প ভাবনা আমাদের নেই। জামায়াতের এই নেতা বলেন, ফরমাল রিকোয়েস্টের টাইম পার হয়ে গেছে। আমরা নমিনেশন সাবমিট করার আগে বিএনপির মহাসচিবের কাছে পরিষ্কারভাবে ওয়ান টু ওয়ান বলেছি, এরপর অনেক কথা হয়েছে। তারা তো বিবেচনা করতে পারেননি। তারা বড় দল, কেউ কেউ ভিন্নমত দেন, ভালো মত, খারাপ মত, দিতেই পারেন।

জামায়াতের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে ভাঙনের আশঙ্কা করছেন শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারা। তারা বলছেন, অন্তর্দ্বন্দ্বের পাশাপাশি সরকারের লোভনীয় প্রস্তাব নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে জোটের ঐক্যে। তবে বিএনপির শীর্ষ নেতারা বলছেন, সরকারের প্ররোচনায় জোট ছাড়লে জাতীয়তাবাদী শক্তি নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হবে জামায়াতই।

এ ব্যাপারে বিএনপি নেতা মওদুদ আহমেদ বলেন, এই মুহূর্তে জোট ছাড়লে মূল্য দিতে হবে জামায়াতকেই। ১৯৯৬ সালে তারা মাত্র তিনটি আসন পেয়েছিল। কিন্তু জোটবদ্ধভাবে তারা ১৭টি আসন পেয়েছিল। তাদের ভাবতে হবে তারা কম আসন চায়, নাকি বেশি আসন।

সূত্র : প্রতিদিনের সংবাদ




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: