সর্বশেষ আপডেট : ৪৫ মিনিট ০ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ১৬ অগাস্ট ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ঝুলে আছে কয়লাচালিত ১২ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৯টি’র নির্মাণকাজ

নিউজ ডেস্ক:: পাইপলাইনে থাকা ১২টি কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে তিনটির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে।বাকি ৯টির এখনও দরপত্র আহ্বান করাই সম্ভব হয়নি।নির্মাণাধীন তিন বিদ্যুৎকেন্দ্রর মধ্যে ঠিক তালে চলছে দুটির কাজ আর আরেকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ধীরগতির খবর পাওয়া গেলেও কেউ এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হচ্ছেন না।

বিদ্যুৎ বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্মাণকাজে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিপিসিএল) পায়রা-১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রটি।কেন্দ্রর উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান বলছে ইতোমধ্যে ৪৪ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে।জানতে চাইলে বিসিপিসিএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএম খোরশেদুল আলম বলেন, ‘আগামী বছরের মাঝামাঝিতে বিদ্যুৎকেন্দ্রর ৬২০ মেগাওয়াটের প্রথম ইউনিট উৎপাদনে আসবে।আর দ্বিতীয় ইউনিট উৎপাদনে আসবে আগামী বছরের শেষের দিকে।’

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র জানায়, কেন্দ্রটির নির্মাণ কৌশলে ঠিকাদারকে অগ্রীম ১৫ ভাগ অর্থ ব্যয়ের শর্ত দেওয়া হয়েছিল।যাতে করে কেন্দ্রের চুক্তি হওয়ার পরপরই কাজ শুরু করা সম্ভব হয়েছে।চলতি বছরের শুরুর দিকে বিদ্যুৎকেন্দ্রর ঋণের প্রথম কিস্তি ছাড় হয়।যদিও অর্থ ছাড়ের আগেই কেন্দ্রর অন্তত ৩৫ শতাংশ কাজ শেষ করেছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এনইপিসি।বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চায়না এক্সিম ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় নির্মাণ করা হচ্ছে।রাষ্ট্রীয় নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার কোম্পানি (এনডব্লিপিজিসিএল) এবং চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন (সিএমসি) মিলে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করছে।

এদিকে মাতারবাড়িতে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোয়াপারেশন এজেন্সির (জাইকা) অর্থায়নে নির্মাণ করা হচ্ছে এক হাজার ২০০ মেগাওয়াটের কয়লাচালিত কেন্দ্র।গত আগস্টে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণে জাপানের সুমিতমোরের নেতৃত্বাধীন কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চুক্তি করে রাষ্ট্রীয় কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি।ইতোমধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ভূমি উন্নয়নের কাজ প্রায় শেষপর্যায়ে।বিদ্যুৎকেন্দ্রটির সঙ্গে ৭ কিলোমিটারের একটি চ্যানেল খনন করা হবে।এই প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার।তবে এখানে একটি কয়লাবন্দর নির্মাণ করার জন্য সমীক্ষা করা হচ্ছে।সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় ১০ হাজার মেগাওয়াটের কয়লা খালাসে উপযুক্ত বন্দর নির্মাণ করার উল্লেখ রয়েছে।বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণের জন্য গত বছর ২৪ মার্চ দরপত্র আহ্বান করা হয়।দরপত্র আহ্বানের পর গুলশান ট্র্যাজেডিতে জাপানি নাগরিক নিহত হলে প্রকল্পের কাছ কিছুটা পিছিয়ে যায়।কেন্দ্রটি ২০২৪ সালে উৎপাদনে আসার কথা রয়েছে।

এ বিষয়ে কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘ভূমি উন্নয়নের প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হয়েছে।দ্বিতীয় পর্যায়ে ইপিসি কন্ট্রাক্টররা যারা আছেন সুমিতমো তাদেরও ভূমি উন্নয়নের একটা পার্ট আছে।সে কাজটুকু এখন চলছে।’তিনি আরও বলেন, ‘ভূমি উন্নয়নের পর কেন্দ্রের নকশার কাজে হাত দেওয়া হবে।নকশা অনুযায়ী যন্ত্রপাতি কেনা হবে।আর নকশা করার সময়ই কেন্দ্রের ফাউন্ডেশনের কাজেও হাত দেওয়া হবে।পর্যায়ক্রমে নকশা প্রণয়ন, যন্ত্রাংশ আমদানি আর কেন্দ্রের অবকাঠামো নির্মাণের কাজ করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘২০২৩ সালের শেষ নাগাদ প্রথম ইউনিট উৎপাদনে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।২০২৪ সালে কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিট উৎপাদনে আসবে।’
পরিবেশবাদীদের প্রতিবাদের মধ্যেই দেশে সুন্দরবনের পাশে রামপাল এলাকায় এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ কোম্পানি (বিআইএফসিএল)। ভারতের কোম্পানি হেবি ইলেক্ট্রিক ভেল কোম্পানিটির নির্মাণ ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছে।

বিআইএফসিএল এর নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে, প্রকল্প এলাকায় যে মাটি ভরাট করা হয়েছে তা অত্যন্ত নিম্নমানের।এখন প্রকল্প এলাকায় বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে হলে ওপরের মাটি কেটে ফেলতে হবে।এছাড়া প্রকল্প এলাকায় ২৮ হাজার পাইলিং করতে হবে।যেখানে পায়রাতে আট হাজার পায়েলিং করা হয়েছে সেখানে রামপালে তিন গুণের বেশি পায়েলিং লাগায় খরচ বাড়বে।এরমধ্যে আবার রডের দাম ৪২ ভাগ বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বড় সংকটের মুখোমুখি হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ কোম্পানির (বিআইএফসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি রাজি হননি।পিডিবির সঙ্গে যেসব বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য সমঝোতা সম্মারক বা এমওইউ হয়েছে তার সবগুলোই চলছে ঢিমেতালে।মহেশখালিতেই পিডিবি সিঙ্গাপুরের সেম্বকর্প, মালেশিয়ার তেনেগা বারহেডের সঙ্গে দুটি পৃথক ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের চুক্তি করেছে।এছাড়া চীনের হুদিয়ান হংকং সিএইডিএইচকের সঙ্গে যৗথ মূলধনী কোম্পানি গঠন চুক্তি করেছে। সিএইডিএইচকের সঙ্গে ২০১২ সালে এমওইউ সই করেছেল পিডিবি। এছাড়া কোরিয়ার কেপকোরের সঙ্গে পিডিবির এমওইউ রয়েছে।

এছাড়া রুরাল পাওয়ার কোম্পানি পায়রাতে ১৩২০ মেগাওয়াট এবং মুন্সীগঞ্জে-৩০০ থেকে ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা করছে।আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশনও পায়রাতে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের কেন্দ্র নির্মাণের চেষ্টা করছে।ইলেক্ট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানি মুন্সিগঞ্জে একটি কেন্দ্র নির্মাণের চেষ্টা করছে।তবে এই চার কেন্দ্রর একটিরও এমওইউ, চুক্তি বা অর্থ সংস্থান কিছুই হয়নি।

কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই ইলাহী চৌধুরী বলেন, ‘সরকার জ্বালানি সংকট মোকাবিলার জন্য এলএনজি আমদানি করছে।এলএনজিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রর পাশাপাশি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বিষয়েও জোর দিতে হবে।’

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: