সর্বশেষ আপডেট : ৪২ মিনিট ৫৭ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ক্রোয়েট রূপকথা নাকি ফরাসি জাগরণ?

স্পোর্টস ডেস্ক:: ক্রোয়েশিয়া ফুটবল দলের ইতিহাসটা নতুন করে লিখে ফেলেছেন লুকা মদরিচ! ইতিহাস আগেও হয়েছে একবার। ১৯৯৮ বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল-সাফল্য বলতে এটুকুই। মদরিচের দল এবার রূপকথার জন্ম দিয়ে পৌঁছে গেছে সর্বোচ্চ চূড়ায়। স্বপ্নের সোনালি ট্রফি জেতার আশায় ফাইনালে নবজাগরুক দল ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে রবিবার রাত ৯টায়।ম্যাচটি দেখাবে বিটিভি, মাছরাঙা ও নাগরিক টিভি।

১৯৯৮ বিশ্বকাপেরই পুনরাবৃত্তি যেন এই ফাইনাল।১৯৯৮ বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়া দলের উত্থান পর্বে কেন্দ্রীয় চরিত্রে ছিলেন দাভর সুকার।সেই সুকারের দলকে সেমিতে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছেছিল ফ্রান্স।তাই শিরোপা লড়াইয়ে প্রতিশোধের চিত্রই ফুটে উঠছে বারবার।তবে ১০ বছরে এই ক্রোয়েশিয়া দলটাকে গোছাতে ঘাম ঝরাতে হয়েছে কোচ জ্লাৎকো দালিচকে।সেই যুদ্ধের গল্প দালিচ শোনালেন এভাবেই, ‘আমাদের দুর্দান্ত সব খেলোয়াড় ছিল।কিন্তু তাদের মাঝে ছিল না কোনও একতা।১০ বছরে এটাই আমাদের মূল সমস্যা ছিল।দলের স্বার্থে আমাকে সেই একতা গড়তে হয়েছে।’

ক্যারিয়ারে সব সময় লড়াই-যুদ্ধের মানসিকতায় ঝাঁপিয়ে পড়তে হয়েছে দালিচকে।সেই কথা আবারও স্মরণ করিয়ে দিলেন ফাইনালের আগে, ‘ক্যারিয়ার ও জীবনযুদ্ধে কঠিন সংগ্রাম করতে হয়েছে বারবার।’ক্রোয়েটদের বিশ্বকাপ সাফল্য বলতে কিছু নেই।সাফল্যের তাড়ায় এবার পুরনো সবকিছুকে বদলে ফেলেছেন মদরিচরা।ফাইনালে জিতলে তাই নতুন এক চ্যাম্পিয়নকেই দেখবে ফুটবল বিশ্ব।

উল্টো দিকে ক্রোয়েশিয়ার প্রতিপক্ষ ১৯৯৮ বিশ্বকাপ জয়ী ফ্রান্স এবার আরও দুর্বার একটি দল।নব উদ্যমে ধেয়ে আসা দলটির আছে একঝাঁক তরুণ প্রাণ।সেই তরুণ প্রাণরা জানান দিচ্ছে নতুন এক জাগরণের। যাদের আছে ১৯ বছর বয়সী ক্ষিপ্রগতির তারকা কিলিয়ান এমবাপে।সঙ্গে আছেন গ্রিয়েজমান।রক্ষণটাও বেশ আঁটোসাঁটো। তাই বেশ উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই হবে ফাইনালে। ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশমও হুঙ্কার দিয়ে রাখলেন তেমনটা।যার অধীনে ১৯৯৮ বিশ্বকাপ জিতেছিল ফ্রান্স, ‘এই স্কোয়াডের বড় প্রাপ্তি হলো তারা পাহাড়ের চূড়ায় চলে যেতে পারে যেকোনও সময়। তারা এখন তরুণ।তবে আগামীতে এরা হয়ে উঠবে আরও পরিপূর্ণ।’

মাত্র একবার বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফিটা ছুঁয়ে দেখা হয়েছে ফরাসিদের।বেশ কয়েকবার সুযোগ এলেও হোঁচট খেতে হয়েছে।এবার নিয়তির অপূর্ণতাকে নিজেদের মুঠোয় নিতে চান কোচ দিদিয়ের দেশম, ‘আমরা বেশ কয়েকবার এমন সুযোগ তৈরি করেও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে পারিনি।তবে এবার আমরা সেই নিয়তির পূর্ণতা দিতে চাই।’

ফরাসিদের পূর্ণতা, স্বপ্ন পূরণ না হওয়ার আক্ষেপ যাই থাকুক না কেন, ক্রোয়েটদের এই দলটার আছে লড়াই করার তাতানো মানসিকতা।যার প্রমাণটা পাওয়া গেছে সেমিফাইনালে।থ্রি লায়ন্সদের বিরুদ্ধে জ্বর নিয়েও খেলেছেন মিডফিল্ডার ইভান রাকিতিচ।সেই রাকিতিচই জানালেন, এক পা নিয়েও খেলতে চাইবেন শিরোপা লড়াইয়ে, ‘ফাইনালে প্রয়োজন পড়লে পা ছাড়াই খেলবো।’

ক্রোয়েটদের এমন দৃঢ়চেতা মানসিকতা বলে দেয় তাদের রূপকথার পেছনের ইতিহাস।যেই ইতিহাসের পেছনে রয়েছে অনেক দিনের আবেগ।সেই আবেগ নিয়ন্ত্রণে যে এগিয়ে থাকবে সেই মাতাবে লুঝনিকি স্টেডিয়াম।আর এই লড়াতেই শেষ হয়ে যাবে ৩১ দিনের রোমাঞ্চকর এক অধ্যায়ের।তার পূর্ণতার আগে চায়ের কাপে ঝড় তোলার খোরাক জোগাতে ফ্রান্স-ক্রোয়েশিয়া কি পারবে পুরনো সব ইতিহাসকে পেছনে ফেলতে? উত্তরটা তোলা রইলো!




এ বিভাগের অন্যান্য খবর




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: