সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বিদ্যুৎ ও গ্যাসে সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগ চাইল বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্ক:: বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশকে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় বলে মনে করেন সিঙ্গাপুরের উদ্যোক্তারা।তাদের মতে, ধারাবাহিকভাবে ভালো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সস্তা শ্রমবাজার- বিশেষ করে পরিশ্রমী যুবশক্তি এবং সুবিধাজনক ভৌগোলিক অবস্থানের সুবিধা রয়েছে।

এসব সুবিধা কাজে লাগাতে তথ্যপ্রযুক্তি, গ্যাস, বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে ঢাকা সফররত সিঙ্গাপুরের একটি দল।ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা।

মঙ্গলবার ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর সঙ্গে এক আলোচনায় বিনিয়োগে এমন আগ্রহের কথা জানান তারা।রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ‘বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর বিজনেস ফোরাম’ নামে এ আলোচনায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতে সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগ পেতে বেশি আগ্রহ দেখানো হয়েছে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদই এ দুই খাতের বিনিয়োগ চাহিদা, সরকারের পরিকল্পনা ও উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের সুযোগের ওপর একটি উপস্থাপনা দেন।তিনি জানান, এ মুহূর্তে গ্যাস-বিদ্যুৎ খাতে ৪২ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ চাহিদা রয়েছে দেশে।

ফোরামে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম, সিঙ্গাপুর বিজনেস ফেডারেশনের সভাপতি তিও সিয়ং সেং, এফবিসিসিআই সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বাংলাদেশ বিজনেস চেম্বার অব সিঙ্গাপুরের (বিডিচ্যাম) সভাপতি মোহাম্মদ শহিদুজ্জামান, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের হেড অব গ্লোবাল ব্যাংকিং এনামুল হক। ফোরাম সঞ্চালনা করেন এফবিসিসিআইর সিনিয়র সহসভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম।

বৈঠক শেষে দু’পক্ষের মধ্যে বিজনেস নেটওয়ার্কিং পর্বে কোন খাতে, কবে ও কীভাবে বিনিয়োগ শুরু করা যায় সে বিষয়ে ‘ওয়ান টু ওয়ান’ ঘনিষ্ঠ আলোচনা হয়। এক সপ্তাহের সফরে ৩৬ সদস্যের সিঙ্গাপুরের প্রতিনিধি দলটি গত শনিবার ঢাকায় আসে।সিঙ্গাপুর বিজনেস ফেডারেশনের সভাপতি তিও সিয়ং সেং প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সফরে মন্ত্রী, সরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী চেম্বার ও সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করছেন তারা।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, মূলত বর্তমান সরকারের প্রথম মেয়াদে বিদ্যুৎ খাতে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার পর থেকেই দেশের সার্বিক অর্থনীতি স্থিতিশীল হয়ে আসে। স্বল্প, মধ্য এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০৪১ সাল নাগাদ ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। বিশাল এ বিনিয়োগের সুযোগ নিতে পারেন সিঙ্গাপুরের উদ্যোক্তারা।দক্ষতা এবং সততার বিচারে সরকার সিঙ্গাপুরকে অগ্রাধিকার দিতে চায়।

আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) নতুন সংযোগ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ মাসের শেষ অথবা আগামী মাসের শুরুর দিকে এলএনজি সরবরাহ শুরু হবে।এখাতেও টার্মিনাল নির্মাণসহ বিভিন্নভাবে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। এ সব খাতে সিঙ্গাপুরের উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।

সিঙ্গাপুর বিজনেস ফেডারেশনের সভাপতি বলেন, এক দশক ধরে বাংলাদেশের সুস্পষ্ট উন্নয়ন প্রমাণ করে বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর বাণিজ্য বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এ দেশের মানুষ পরিশ্রমী এবং জনশক্তি দক্ষ। এ সব সুবিধা কাজে লাগাতে বিনিয়োগ করার আগ্রহ নিয়েই সফরে এসেছেন তারা।বিশ্ববাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে সিঙ্গাপুরের সঙ্গে বাণিজ্য বিনিয়োগ বাড়ানো এবং পেশাদার জনশক্তি রফতানির সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের।

বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশের বিশ্বমানের উদ্যোক্তা শ্রেণি, দক্ষ জনশক্তি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে এ দেশে যৌথ বিনিয়োগে সিঙ্গাপুরের জন্য বড় সুযোগ। এ বছর নির্বাচনের পর আরও ৫ বছরের জন্য রাজনৈতিক পরিবেশ স্থিতিশীল থাকবে বলে মনে করেন তিনি।

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, স্থিতিশীল পরিবেশ এবং অবকাঠামো সুবিধা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় উদ্যোক্তা হিসেবে তারা বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়াচ্ছেন। এরকম অনুকূল পরিবেশে সুবিধাজনক যৌথ কিংবা একক বিনিয়োগে সিঙ্গাপুরের উদ্যোক্তাদের আহ্বান জানান তিনি।বিভিন্ন চেম্বার ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা ফোরামে উপস্থিত ছিলেন।







নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: