সর্বশেষ আপডেট : ৪৯ মিনিট ৩৬ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ১২ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২৮ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

আজ বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসঃ জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের

নিউজ ডেস্ক:: পৃথিবীর জনসংখ্যা ৭৫০ কোটি ছাড়িয়েছে। ১৮০৪ সালেও বিশ্বের জনসংখ্যা ছিল মাত্র ১০০ কোটি। ২০৫০ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ১ হাজার কোটি আর বাংলাদেশে জনসংখ্যা বেড়ে ২১ কোটি ছাড়িয়ে যাবে। এভাবে মানুষ বাড়তে থাকলে প্রকৃতির ভারসাম্যের বিপর্যায়সহ নানা সামাজিক সংকট তৈরি হতে পারে। হুমকিতে পড়তে পারে জলবায়ু এবং জীববৈচিত্র।

বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। এখানেও যে হারে জনসংখ্যার বিস্ফোরণ ঘটে চলেছে, এখনি ব্যবস্থা না নিলে হুমকিতে পড়তে পারে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ। বিরূপ প্রভাব পড়বে কর্মসংস্থান, ভূমি, কৃষি ও আবাসনের ওপর। এমনটাই ধারণা বিশেষজ্ঞদের। তারা বলছেন, সরকারি হিসাবে দেশে প্রতি বছর জনসংখ্যা বাড়ছে ১৭ লাখ। আর বেসরকারি হিসাবে ২০ লাখেরও বেশি। এই সমস্যাকে পাশ কাটিয়ে চলতে গেলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হতে পারে বলে জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের এক অধ্যাপক।

জনস্বাস্থ্যবিদ ড. মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম বলেন, সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে অভিবাসনের বিকল্প ব্যবস্থার পাশাপাশি কর্মসংস্থান, আবাসন, স্বাস্থ্য, শিক্ষাসেবা বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। গ্রাম ও উপশহরে শিল্পকারখানা তৈরি করে বেকারদের কর্মসংস্থান করতে হবে। বর্তমানে ৪৭ শতাংশ লোক বেকার। নতুন নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টি করতে না পারলে বিপাকে পড়বে সরকার। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ না করতে পারলে ২০৪১ সালে উন্নত দেশে উপনীত হতে নানা বাধা আসবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সরকার প্রতি বছর ব্যয় করছে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা। অথচ, সারা দেশে জন্ম নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি ধীরগতিতে চলছে। গ্রামগঞ্জে জন্ম নিয়ন্ত্রণ সামগ্রী, মাঠকর্মী নেই বললেই চলে। চাহিদা অনুযায়ী সক্ষম দম্পতির হাতে তা পৌঁছানো যাচ্ছে না। তাছাড়া দীর্ঘস্থায়ী ও স্থায়ী পদ্ধতি (নারী বন্ধ্যত্বকরণ, পুরুষ বন্ধ্যত্বকরণ, ইমপ্লান্ট ও আইইউডি) ব্যবহারের হার খুব কম।

জানতে চাইলে পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের উপ-পরিচালক (পিএম) আইইএম ইউনিট প্রধান মো. তসলিম উদ্দিন খান বলেন, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে অবহেলিত এলাকায় নানা কার্যক্রম চলছে। আঞ্চলিকভাবে পথনাটক, ইমাম, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে মোটিভেশনাল কার্যক্রম চলছে। গ্রামগঞ্জে এখনো পরিবার পরিকল্পনা মাঠকর্মী কাজ করছে। সরকার নানা কার্যক্রম চালাচ্ছে। পরিবারের সংখ্যা বাড়ছে বলে এসব কার্যক্রম দৃশ্যমান হচ্ছে না।

তিনি জানান, ১৯৭৫ সালে মোট প্রজননের হার নারীপ্রতি গড় সন্তান জন্মদানের হার ৬ দশমিক ৩ থেকে হ্রাস পেয়ে ২ দশমকি ৩ হয়েছে। তার মানে জনসংখ্যা বৃদ্ধি হ্রাস পাচ্ছে।

আজ বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও এ দিবসটি ১৯৯০ সালের ১১ জুলাই থেকে পালিত হচ্ছে। এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘পরিকল্পিত পরিবার, সুরক্ষিত মানবাধিকার’। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন। দিবসটি পালন করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদফতর, পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতর ও বেসরকারির নানা সংগঠন নানা কর্মসূচি নিয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে র‌্যালি ও আলোচনা সভা। দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীতে মূল অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে। এর আগে সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় জাদুঘরের সামনে থেকে এক শোভাযাত্রা বের করা হবে। শোভাযাত্রাটি ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এসে শেষ হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার ও প্রাইভেট চ্যানেলগুলো বিশেষ কর্মসূচি সম্প্রচার এবং বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে।

এদিকে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিকবিষয়ক বিভাগের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, বিশ্বে প্রতি ১৪ মাসে জনসংখ্যা প্রায় ১০ কোটি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ হারে জনসংখ্যা বাড়তে থাকলে ২০৫০ সালে বিশ্বের জনসংখ্যা হবে এক হাজার কোটি। আর জাতিসংঘ জনসংখ্যাবিষয়ক সংস্থা ইউএনএফপিএর হিসাবমতে, আগামী ২০৫১ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা হবে ২১ কোটি ৮৪ লাখ। ২০৬১ সালে এ সংখ্যা ২২ কোটি ৫৭ লাখ হবে। এ ছাড়া ঢাকা মেগা সিটিতে বর্তমানে বসবাসরত জনসংখ্যা প্রায় দুই কোটি; যা মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশ। ঢাকার আশপাশে নতুন করে গড়ে ওঠা এলাকাগুলোতে জীবনযাত্রার মান সহজ হওয়া স্বল্প আয়ের মানুষের বসতি বাড়ছে। ১৯৯১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, ঢাকা মেগা সিটি এলাকার জনসংখ্যা ছিল ৬৪ লাখ ৮৭ হাজার। ২০০১ সালের শুমারিতে তা বেড়ে ৯৬ লাখ ৭৩ হাজার হয়। ২০১১ সালে আরো বৃদ্ধি পেয়ে এক কোটি ৪১ লাখ ৭২ হাজারে দাঁড়ায়। অর্থাৎ বছরে প্রায় ছয় লাখ ২৯ হাজারের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: