সর্বশেষ আপডেট : ১ মিনিট ৪১ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

অপেক্ষা শেষের রোমাঞ্চের

আমির হোসেন ::

সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছোট হয়ে আসছে বিশ্বকাপ। ৩২ থেকে ১৬। সেখান থেকে ৮। সেটাও কমে এখন দাঁড়িয়েছে ৪-এ। সেখান থেকে কমে শেষ পর্যন্ত দুইটি দল শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে। সেই লড়াইয়ের মধ্য দিয়েই পর্দা নামবে বিশ্বকাপের একবিংশ আসরের। ৩১টি দেশের স্বপ্ন ভেঙে একটি দেশ স্বপ্নের ষোলোকলা পূর্ণ করবে। ট্রফির গায়ে লেখা হবে তাদের নাম। ৬.১ কেজি ওজনের ১৪.৪৯ ইঞ্চি উচ্চতার ট্রফিটা শূন্যে উঁচিয়ে ধরবেন অধিনায়ক। তার সঙ্গে উল্লাসে মাতবেন সতীর্থরা, গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকরা ও টিভি সেটের সামনে বসা লাখ লাখ সমর্থকরা। লাল-নীল কনফেত্তির উড়াউড়ি ও আতশবাজির ঝলকানিতে মুখরিত হয়ে উঠবে। কে হবে এমন জমকালো মঞ্চের মধ্যমণি? বেলজিয়াম, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স নাকি ক্রোয়েশিয়া?

কোয়ার্টার ফাইনালে আসা কোনো দলকেই খাটো করে দেখার উপায় নেই। যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েই আটটি দল কোয়ার্টার ফাইনালে আসে। কিন্তু সেখান থেকেও বিদায় নিতে হয়েছে চারটি দলকে। যেমনটা নিয়েছে ব্রাজিল, রাশিয়া, উরুগুয়ে ও সুইডেন। শক্তিমত্তার প্রমাণ দিয়ে টিকে আছে চারটি দল ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ক্রোয়েশিয়া ও ইংল্যান্ড। শেষ আটে কাভানির অনুপস্থিতিতে উরুগুয়ে ২-০ গোলে হেরে যায় ফ্রান্সের কাছে। ফেভারিট ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে দেয় বেলজিয়াম। দারুণ খেলে ২৪ বছর পর কোয়ার্টার ফাইনালে আসা সুইডেন পাত্তা পায়নি ইংল্যান্ডের কাছে। ২-০ ব্যবধানে হেরে শেষ আট থেকেই বিদায় ঘণ্টা বাজে সুইডিশদের। কোয়ার্টার ফাইনাল যেন তার সব রোমাঞ্চ তুলে রেখেছিল শেষ ম্যাচটির জন্য। চমক দেখিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আসা রাশিয়া ম্যাচের ৩১ মিনিটেই এগিয়ে যায়। ৩৯ মিনিটে ক্রামারিচ গোল করে সমতায় ফেরান। সেই সমতা নিয়ে শেষ হয় নির্ধারিত সময়ের লড়াই। এরপর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানে ম্যাচের ১০১ মিনিটে ভিদার গোলে এগিয়ে যায় ক্রোয়াটসরা। আর ১১৫ মিনিটে ফার্নান্দেস গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান। তাতে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। শেষ ষোলোতে স্পেনের বিপক্ষে বাজিমাত করেছিলেন রাশিয়ার গোলরক্ষক আকিনফেভ। এবার অবশ্য সেই একই পথে হাঁটতে পারেনি। টাইব্রেকারে তার দল রাশিয়া ৪-৩ ব্যবধানে হেরে যায় রাশিয়া। তবে যে রাশিয়ার গ্রুপ পর্ব পার হওয়া নিয়ে স্বদেশিরাও আশাবাদী ছিল না, তারা কোয়ার্টার ফাইনাল খেলে নিঃসন্দেহে দেশকে গর্বিত করেছে।

এবার সেমিফাইনালে যাওয়ার লড়াই। সেমিতে আসা কোনো দলকেই খাটো করে দেখার উপায় নেই। তাদের নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করাও কঠিন। তবে গ্রুপ পর্ব, শেষ ষোলো ও কোয়ার্টার ফাইনালে দলগুলোর পারফরম্যান্স, তারকা খেলোয়াড়দের উপস্থিতি ও তাদের পারফরম্যান্স বিবেচনা করে কেবল দলগুলোর শক্তিমত্তা ও দুর্বলতা বিশ্লেষণ করা যায়। সেটার ভিত্তিকে কেউ এগিয়ে রাখা গেলেও রাখা যায়। কিন্তু কে জানে নির্দিষ্ট দিনে মাঠে কারা বাজিমাত করবে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী সবশেষ পাঁচ ম্যাচে সর্বোচ্চ ১৪ গোল করেছে বেলজিয়াম। তার মধ্যে ১২টি গোল এসেছে উন্মুক্তভাবে। ১টি পেনাল্টি ও ১টি আত্মঘাতী খাত থেকে। এরপর ইংল্যান্ড করেছে ১১ গোল। তারা অবশ্য পেনাল্টি থেকে পেয়েছে ৩টি গোল। ৮টি পেয়েছে উন্মুক্তভাবে। ক্রোয়েশিয়া করেছে ১০ গোল। তার মধ্যে ১টি পেনাল্টি থেকে ও ১টি আত্মঘাতী খাত থেকে। ৮টি এসেছে উন্মুক্তভাবে। ফ্রান্স করেছে ৯ গোল। তার ২টি পেনাল্টি থেকে, ১টি আত্মঘাতী খাত থেকে ও ৬টি উন্মুক্তভাবে।

সেমিফাইনালে আসা চারটি দলের মধ্যে শিরোপা জয়ের রেকর্ড আছে দুইটি দলের। ইংল্যান্ড সবশেষ ১৯৬৬ সালে শিরোপা জিতে। এরপর অর্ধশত বছর ধরে তারা শিরোপার অপেক্ষায়। এরপর অবশ্য তারা একবার সেমিফাইনালে উঠেছিল। ১৯৯০ সালে পশ্চিম জার্মানির কাছে তারা টাইব্রেকারে হেরে যায়। এবার তাদের দলটি তরুণ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে গঠিত। প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা তাদের ওপর রাখা কোচের আস্থার প্রমাণ দিচ্ছেন। হ্যারি কেন, স্টার্লিং, ডেলে আলী, পিকফোর্ডদের পারফরম্যান্সে ভর করে ৫০ বছর পর শিরোপা জেতার স্বপ্নে বিভোর ইংল্যান্ড।

অন্যদিকে ফ্রান্স ১৯৯৮ সালে শিরোপা জিতেছিল। তারাও ২০ বছর ধরে শিরোপার খোঁজে রয়েছে। অবশ্য ১৯৫৮ ও ১৯৮২ সালে তারা সেমিফাইনালে উঠেছিল। কিন্তু ফাইনাল খেলতে পারেনি। কেবল ১৯৯৮ বিশ্বকাপে তারা ঘরের মাঠে শিরোপা জিতেছিল। ২০০৬ সালে অবশ্য তাদের সামনে শিরোপা জয়ের সুযোগ ছিল। কিন্তু জিনেদিন জিদানের ঢুস কাণ্ডে শেষ পর্যন্ত রানার্স-আপ হয়ে মাঠ ছাড়ে তারা। এবার ফ্রান্সের দলটিও তরুণ ও প্রতিভাবান ফুটবলার দিয়ে সাজানো। তারা দুর্দান্ত খেলছেও। গ্রিজমান, এমবাপ্পে, ভারানে ও অলিভার জিরোডদের পারফরম্যান্সে ভর করে তারাও ২০ বছর পর শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখছে।

বেলজিয়াম ও ক্রোয়েশিয়া এখনো শিরোপা জয়ের স্বাদ পায়নি। বিশ্বকাপ জয়ের সুধা তাদের উন্মত্ত করে তুলেছে। প্রথম শিরোপা ছুঁয়ে দেখতে তারা তাদের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে খেলবে। ক্রোয়েশিয়া (তৎকালীন যুগোস্লাভিয়া) ১৯৮৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে ২-০ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছিল। এবার লুকা মদ্রিচ, ইভান রাকিটিচ ও মারিও মানজুকিচে ভর করে শিরোপা জিততে চায় ক্রোয়েশিয়া। দলটির ছয়জন খেলোয়াড় ইতালিয়ান সিরি’আ লিগে খেলছেন। চারজন খেলছেন লা লিগা ও জার্মান বুন্দেসলিগায়। দুইজন করে খেলছেন ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, ইউক্রেন ও রাশিয়ার লিগে।

বেলজিয়াম ১৯৮৬ সালে সেমিফাইনালে উঠেছিল। কিন্তু ফাইনালে যাওয়া হয়নি তাদের। শেষ চার থেকেই বিশ্বকাপ শেষ হয়েছিল তাদের। এবার তারা শিরোপার দাবিদার। ইডেন হ্যাজার্ড, রোমেলু লুকাকু, কেভিন ডি ব্রুইনি, ফেলিয়ানি, ভিনসেন্ট কোম্পানিতে ভর করে শিরোপা ঘরে তুলতে চায় বেলজিয়ামও। বেলজিয়ামের বিশ্বকাপে স্কোয়াডের ১১ জন খেলোয়াড়ই প্রিমিয়ার লিগে খেলছেন। তিনজন খেলছেন জার্মান বুন্দেস লিগায়। দুইজন ফ্রান্সে, স্পেনে ও চীনে খেলছেন। একজন করে খেলোয়াড় খেলছেন ফ্রান্স, ইতালি ও আন্ডারলেখক্টে। তারা এখানেই থেমে থাকতে চায় না। শিরোপায় চোখ রেখে এগিয়ে শেষ পর্যন্ত লড়তে চায় হ্যাজার্ড-লুকাকুরা। কিন্তু দিনশেষে এখান থেকেও দুইটি দলকে বিদায় নিতে হবে। সে দুইটি দল কারা হয় এবং টিকে থাকা দুইটি দল কারা হয় সেটাই এখন দেখার বিষয়।

সূত্র : প্রতিদিনের সংবাদ


নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: