সর্বশেষ আপডেট : ২০ মিনিট ১১ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ১৫ অগাস্ট ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩১ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কমলগঞ্জে এক দলিল লিখকের প্র্রতারণার শিকার লন্ডন প্রবাসী

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি ::
একখানা হেবা দলিল তৈরি করে এক লন্ডন প্রবাসীর কাছ থেকে ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা প্রতারনা করে নিয়েছেন এক দলিল লিখক। পরে গন্যমান্য ব্যক্তিদের সালিশী বিচারের মাধ্যমে দলিল লিখক দোষী সাব্যস্ত হলে ৭০ হাজার টাকা ফেরৎ দেন। এঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযুক্ত দলিল লিখক বিষয়টিকে মিথ্যা, বানোয়াট ও কাল্পনিক বলে উল্লেখ করেন এবং এব্যাপারে কেউ লেখালেখি করলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে হুমকি প্রদান করেন।
সালিশী বৈঠক সূত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজারের উত্তর মোলাইম নিবাসী ও বর্ষিজোড়ায় বসবাসরত লন্ডন প্রবাসী শফিকুর রহমান হেবা দলিল সৃষ্টির মাধমে ছেলেকে একটি বাসা দান করার যাবতীয় প্রক্রিয়াটির সম্পন্ন করে দেওয়ার জন্য পূর্ব পরিচিত দলিল লিখক হাজী ইজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ (ওরফে ইজ্জাদ মহুরী) কে দায়িত্ব দেন। তিনি (ইজ্জাদ মহুরী) হেবা দলিল রেজিষ্ট্রি খরচ বাবত ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা নেন। পরবর্তীতে অতিরিক্ত টাকা নেয়া হয়েছে মর্মে সন্দেহ হলে লন্ডন প্রবাসী শফিকুর রহমান তাঁর ছেলের শ^শুর শমশেরনগরের মকবুল আহমদকে ঘটনাটি জানান। (ওয়েবসাইটের ২০১৭ এর তথ্য অনুযায়ী হেবার ঘোষণাপত্র দলিলের রেজিস্ট্রি খরচসহ অন্যান্য তথ্য: রেজিস্ট্রেশন ফিঃ ১০০ টাকা (রেজিস্ট্রেশন আইন-১৯০৮, এর ধারা ৭৮এ (বি) নং অনুসারে। স্টাম্প শুল্কঃ ২০০ টাকা (১৮৯৯ সালের স্টাম্প আইনের ১ নম্বর তফশিলের ৪ নম্বর ক্রমিকে উল্লিখিত বর্ণনা অনুসারে)। এছাড়া ২০০ টাকার স্টাম্পে হলফনামা, ই- ফিঃ- ১০০ টাকা। এন- ফিঃ- (!) বাংলায় প্রতি ৩০০ (তিন শত) শব্দ বিশিষ্ট এক পৃষ্ঠা বা উহার অংশ বিশেষের জন্য ১৬ টাকা। (!!) ইংরেজি ভাষায় প্রতি ৩০০ (তিন শত) শব্দ বিশিষ্ট এক পৃষ্ঠা বা উহার অংশ বিশেষের জন্য ২৪ টাকা। (নকলনবিশগনের পারিশ্রমিক) এনএন ফিসঃ- (!) বাংলায় প্রতি ৩০০ (তিনশত) শব্দ বিশিষ্ট এক পৃষ্ঠা বা উহার অংশ বিশেষের জন্য ২৪ টাকা। (!!) ইংরেজি ভাষায় প্রতি ৩০০ (তিনশত) শব্দ বিশিষ্ট এক পৃষ্ঠা বা উহার অংশ বিশেষের জন্য ৩৬ টাকা। ৫। সম্পত্তি হস্তান্তর নোটিশের আবেদনপত্রে ১০ টাকা মূল্যের কোর্ট ফি।) ওয়েবসাইটের তথ্য দেখে বুঝা যায়, ইজ্জাদ মহুরী বড় রকমের প্রতারনা করে এই ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকার খরচের সামান্য টাকা ছাড়া সমুদয় হাতিয়ে নেন।
এ ঘটনায় সম্প্রতি শমশেরনগরের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল মোহিত এর বাড়িতে উভয় পক্ষেকে নিয়ে সালিশী বৈঠক বসে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর ইউপি চেয়ারম্যান মো: জুয়েল আহমেদ, রাজনগর উপজেলার মনসুরনগর ইউপি চেয়ারম্যান মিলন বখত, শমশেরনগর বণিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি আব্দুল মালিক বাবুল সহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। বৈঠকে উভয় পক্ষের দেওয়া জবানবন্দি শেষে ইজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ ওরফে ইজ্জাদ মহুরীর উপর আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হয় এবং ৭০ হাজার টাকা ফেরৎ দেওয়ার জন্য বৈঠকে উপস্থিত সকলে একমত হন।
এ ব্যাপারে স্থানীয় শমশেরনগর ইউপি চেয়ারম্যান জুয়েল আহমেদ ৮ জুলাই (মুঠোফোনে) এ প্রতিনিধিকে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এরকম একটি ঘটনা ঘটেছিল। পরে অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিচারে রায় হয়েছিল ১ লক্ষ টাকা। পরে ৭০ হাজার টাকা শমশেরনগর বনিক কল্যান সমিতির সভাপতির মাধ্যমে দেয়া হয়েছে।
শমশেরনগর বণিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি আব্দুল মালিক বাবুল ৮ জুলাই (মুঠোফোনে) এ প্রতিনিধিকে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিচারে মনসুরনগর ইউপি চেয়ারম্যান মিলন বখত, শমশেরনগর ইউপি চেয়ারম্যান মো: জুয়েল আহমেদ, সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল মোহিত মেম্বার, জাতীয় পার্টি নেতা মকবুল হোসেনসহ আরো গণ্যমান্য ব্যক্তি ও উভয় পক্ষের লন্ডন প্রবাসী শফিকুর রহমান ও ইজ্জাদ মহুরী উপস্থিত ছিলেন। লন্ডন প্রবাসীর সাথে ইজ্জাদ মহরিরের মামা-ভাগ্নে সম্পর্ক গড়ে উঠে। এ সুবাদে হেবা দলিল করার জন্য লন্ডন প্রবাসী ইজ্জাদ মহুরীকে বলেন। মহুরী ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকার বিনিময়ে দলিল করে দেন। পরবর্তীতে লন্ডন প্রবাসীর সন্দেহ হলে তিনি বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন হেবা দলিল করতে এত টাকা লাগে না। এরই প্রেক্ষিতে এক সালিশী বৈঠক বসে। বৈঠকে সকলের উপস্থিতি রায় হলে ইজ্জাদ মহুরী লন্ডন প্রবাসী শফিকুর রহমানকে আমার (ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল মালিক বাবুল) মাধ্যমে ৭০ হাজার টাকা ফেরৎ দেয়া হয়।
এ ঘটনায় মৌলভীবাজার জেলা দলিল লিখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক, সাবেক কমলগঞ্জ উপজেলা দলিল লিখক সমিতির সভাপতি ও শমশেরনগর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মছব্বির ৮ জুলাই (মুঠোফোনে) এ প্রতিনিধিকে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, হেবা দলিল করার কথা বলে ১ লক্ষ ৭০ হাজার অতিরিক্ত টাকা ধোকা দিয়ে নেয়া হয়েছে। পরে সালিশী বিচারের মাধ্যমে ৭০ হাজার টাকা ফেরৎ দেয়া হয়। দলিল লিখক ইজ্জাদের প্রতারণা মূলক কর্মকান্ডে সকল দলিল লিখক আজ কলংকিত। এমন কর্মকান্ডে তীব্র নিন্দা জানাই।
এ ঘটনায় কমলগঞ্জ জুড়ে চাঞ্চল্যা সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত হাজী ইজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ ওরফে ইজ্জাদ মহরিরের নিকট জানতে চাইলে সম্প্রতি (মুঠোফোনে) এ প্রতিনিধিকে বলেন, আপনি আমার সাথে দেখা করবেন, ফোনে সব বলা যাবে না। ৮ জুলাই বিকেলে (মুঠোফোনে) বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনি আমার সাথে দেখা করলেন না। বিষয়টি কয়েকদিন আগের, শেষ হয়ে গেছে। এখন আর লেখালেখি করে কি হবে ? বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন, অবাস্তব, কাল্পনিক। আমাকে পরিকল্পিতভাবে হেয় করার জন্য রিপোর্ট দেয়া হয়েছে। আমি কমলগঞ্জের দলিল লিখক। মৌলভীবাজার গিয়ে দলিল করার প্রশ্নই উঠেনা। এ বিষয়ে আমার বিরুদ্ধে লেখালেখি যে করছে তার বিরুদ্ধে মামলা করবো। আর যতজনই এ নিয়ে লেখালেখি করবেন তাদেরকেও আইনের আওতায় আনবো।
বিষয়টি সম্পর্কে কমলগঞ্জ সাবরেজিষ্ট্রি অফিসের সাব-রেজিষ্ট্রার এ প্রতিনিধিকে বলেন, এ ব্যাপারে কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে। #

পিন্টু দেবনাথ, কমলগঞ্জ
০৯ জুলাই ২০১৮
মোবাইল : ০১৭১৬৩৬২৯৪৪

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: