সর্বশেষ আপডেট : ১৩ মিনিট ৯ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সংবাদ সম্মেলন বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ: গোয়াইনঘাটে গো-চারণ ভূমি ব্যবহারে বাধা, মামলা দিয়ে হয়রানি

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের পূর্ব মহিষখেড় গ্রামের ভূমিহীন কৃষকরা গো-চারণ ভূমি ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন না। এ বিষয়ে তারা বন বিভাগের জৈন্তিয়া সারি রেঞ্জের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে গ্রামবাসীর পক্ষে লিখিত বক্তব্যে সেলিম উদ্দিন অভিযোগ করেন, জৈন্তিায় সারি রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। বরং রেঞ্জ কর্মকর্তা সাদ উদ্দিন আহমদ ও বিট কর্মকর্তা প্রদীপ সরকারি টাকা উত্তোলন করে লুটপাট করেছেন। এ বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে গ্রামবাসীকে হয়রানি করছেন। তিনি বলেন, ভূমি থেকে বন্দোবস্তকারীদের উচ্ছেদ করতে সারি রেঞ্জের রাতারগুল বিটের বিট কর্মকর্তা প্রদীপ চন্দ্র মন্ডল সম্প্রতি গ্রামের সাব্বির আহমদ, আজিজুর রহমান, আব্দুন নূর, মুক্তার আহমদ, ইলিয়াছ আলী, আছাব উদ্দিন, ইমান উদ্দিন, মওলানা বশির উদ্দিনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরো ১৫/২০ জনকে আসামি করে গোয়াইনঘাট থানায় মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার এজাহারে প্রদীপ তার উপর হামলা ও তার সাথে থাকা অর্থ লুটের যে অভিযোগ করেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো। এর বিরুদ্ধে গত মাসের ৩০ জুন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ লোকজনের অংশগ্রহণে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিট কর্মকর্তা মিথ্যা নাটক সাজিয়ে প্রকল্পের টাকা লুটপাট করার পায়তারা করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের মহিষখেড় মৌজার ডিসি খতিয়ানের ১৩৬.৯৮ একর ভূমি এলাকার অনেকে লিজ নিয়ে বোরো ও রবিশষ্য ফলানোর উপযোগী করে দীর্ঘদিন থেকে ভোগদখল করে আসছেন। এছাড়াও এলাকার দরিদ্র মানুষজন গো-চারণ ভূমি হিসেবে প্রায় শতবছর থেকে ব্যবহার করছেন। সরকারি খাস এ ভূমি ভোগদখলে থাকা অনেককে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী বন্দোবস্ত প্রদান করা হয়।
সেলিম উদ্দিন আরো বলেন, সিলেটের জেলা প্রশাসন থেকে যাচাই-বাছাই করেই তাদেরকে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও অনেক আবেদনকারী বন্দোবস্ত পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন। বন্দোবস্ত গ্রহণকারীরা ছাড়াও এলাকার জনসাধারণ গো-চারণ ভূমি হিসেবে এটি ব্যবহার করে আসছেন।
তিনি বলেন, ভূমি বোরো রকম ও রবিশষ্যের ভূমি হিসেবে প্রায় শত বছর ধরে বিদ্যমান রয়েছে। এটি বন বিভাগের আওতাভুক্ত কখনো ছিল না। বন রকম ভূমি হওয়ার কোনো কারণ নেই। এ ভূমিতে গাছ-বৃক্ষ কিংবা বন জঙ্গল কখনো ছিল না।

লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, একটি স্বার্থান্বেষী মহল ২০০৭ সালে সিলেটের জেলা প্রশাসক বরাবরে এই ভূমিকে সংরক্ষিত বন ভূমি হিসেবে ঘোষণার জন্য স্মারকলিপি দেয়। স্মারকলিপির প্রেক্ষিতে রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর সিলেটের স্¦াক্ষরিত একটি পত্রে ভূমির তদন্ত করেন মানিকগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তপশীলদ্বার।
তিনি ২০০৯ সালে তার তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের নিকট দাখিল করেন। প্রতিবেদনে তিনি তপশীল বর্ণিত ভূমিসহ অপরাপর ভূমি সমূহ বন্দোবস্তীয় ভূমি, ফসলীয় ভূমি, বসতবাড়ি, গোচর ভূমি ও জন সাধারণের ব্যবহার্য ভূমি হিসেবে উল্লেখ করেন।

কিন্তু সিলেট বন বিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী এ ভূমি থেকে গ্রামের অসহায়, ভূমিহীন ও প্রায় ভূমিহীন জনসাধারণকে বিতাড়িত করার পাঁয়তারা করে। ২০১০ সালে গ্রামবাসী সিলেটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেন। কিন্তু কোন উত্তর মেলেনি।
স্থানীয় সংসদ সদস্যও এ বিষয়ে হয়রানি না করার কথা বলেছেন। তবুও রাতারগুল বিট সারিরেঞ্জের বিট কর্মকর্তা প্রদীপ চন্দ্র মন্ডল পরিকল্পিতভাবে হয়রানি করছেন।
গ্রামবাসী প্রদীপ মন্ডলের দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা সুষ্ঠুতদন্ত সাপেক্ষে প্রত্যাহারের দাবি জানান। পাশাপাশি বন্দোবস্তকারী ও এলাকাবাসীকে এই গো-চারণ ভূমি নির্বিঘেœ ব্যবহারে বাধা সৃষ্টি না করার আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে ফতেহপুর ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান চৌধুরী, গোয়াইনঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শাহাব উদ্দিন, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইসমাইল আলী, সাবেক যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক ফরিদ আহমদ শামীম, ফতেহপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম মাস্টার, সহ-সভাপতি মো. জমসিদ আলী, সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন, সাব্বির আহমদ, মোক্তার আহমদ, আসাব উদ্দিন, ছয়ফুল আলম, মুক্তিযোদ্ধা মজর উল্যাসহ গ্রামের অর্ধশত মানুষ উপস্থিত ছিলেন । – বিজ্ঞপ্তি




এ বিভাগের অন্যান্য খবর




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: