সর্বশেষ আপডেট : ১১ মিনিট ৪৪ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ঘুম ভাল না হলে কী কী ঘটতে পারে আপনার জীবনে

লাইফস্টাইল ডেস্ক ::
কিছু মানুষ আছেন, যারা দিনের পর দিন ৩–৪ ঘণ্টা ঘুমিয়েও সব কিছু খুব ভাল ভাবে সামলাতে পারেন। সেই হিসেব মাথায় রেখে যদি ভাবেন, ঘুমিয়ে সময় নষ্ট না করে আপনিও তাই করবেন, প্রথম দিকে কষ্ট হলেও আস্তে আস্তে অভ্যাস হয়ে যাবে বা বেশি কষ্ট হলে সপ্তাহান্তে তা পুষিয়ে নেবেন, ভুল করবেন।

এ বিষয়ে স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘কম ঘুমিয়ে সব দিক বজায় রাখতে পারেন তারাই যাদের কম ঘুমোনোর ধাত। এটা যার আছে, তার আছে। না থাকলে চেষ্টা করে খুব একটা কিছু করা যায় না। কাজেই তাদের শরীর–মন–মেজাজ— সব ঠিক রাখতে দিনে ৬–৮ ঘণ্টা নিশ্ছিদ্র ঘুম দরকার। না হলে কম ঘুমের প্রভাব পড়ে শরীর জুড়ে। শরীর–স্বাস্থ্য–মন, সব ছন্নছাড়া হয়ে যায়। শরীরে বসে যায় স্ট্রেস হরমোনের মেলা। তার হাত ধরে কিছু অসুখ–বিসুখ ডালপালা মেলে, যার মধ্যে কয়েকটি যথেষ্ট জটিল৷ কাজেই শরীর যতটুকু চায় ততটুকু ঘুমোন, কার্পণ্য করবেন না।’

কম ঘুম ও অসুখ–বিসুখ:
হৃদরোগের আশঙ্কা বা রোগ থাকলে তার প্রকোপ বাড়ে।
বাড়তে পারে রক্তচাপ৷ পরিবারে থাকলে তো বিশেষ করে।

সাম্প্রতিক গবেষণা থেকে জানা যাচ্ছে, ভাল করে না ঘুমোলে শরীরে রোগ প্রতিরোধকারী অ্যান্টিবডি অনেক কম তৈরি হয় এবং তার ফলে ব্রেস্ট ও কোলন ক্যান্সারের প্রবণতা বাড়ে।

কম ঘুমের মূলে যদি অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া সিনড্রোম নামে ঘুমের মধ্যে থেকে থেকে শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো জটিল অসুখের হাত থাকে, যথাসময়ে সঠিক চিকিৎসা না হলে তা থেকে ডায়াবেটিস, হাইপ্রেশার, হৃদরোগ, মেদবাহুল্য ইত্যাদি হওয়ার আশঙ্কা খুব প্রবল। যারা প্রয়োজনের চেয়ে অনেক কম ঘুমোন তাদের সাধারণ জ্বর–সর্দি–কাশি বেশি হয়। যার অন্যতম কারণ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া।

দিনের পর দিন কম ঘুমোলে বিপাক ক্রিয়ার হার কমে শরীরের ক্যালোরি পোড়ানোর ক্ষমতা কমে যায়। স্ট্রেস হরমোন কর্টিসোলের পরিমাণ বেড়ে শুধু যে মনমেজাজ খারাপ হয় এমন নয়, বিঘ্নিত হয় লেপটিন ও ঘ্রেলিন হরমোনের মধ্যেকার তালমিল৷ সবের যোগসাজসে খিদে বাড়ে৷ বাড়ে খাওয়ার তাগিদ। টুকটাক এটা সেটা খেতে থাকেন মানুষ। চা–কফি–মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছে বাড়ে। খাবারের পরিমাণও বাড়ে কখনও। আর কম ঘুমের প্রভাবে ক্লান্ত শরীর–মন বিপদ বুঝেও সে সব সামলাতে পারে না সব সময়। ওজন বাড়তে থাকে।

খারাপ হয় জীবনযাপনের মান:
সারা দিন ধরে যে যে তথ্য পায় ব্রেন, ঘুমের সময় হয় তার ঝাড়াই–বাছাই। কোন তথ্য মনে রাখতে হবে, কোনটা ভুলতে হবে, কোন তথ্যের সুদূরপ্রসারী ফল কী, কোন কোনটা একে অন্যের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত, কোন তথ্যকে কাজে লাগিয়ে সমস্যার সমাধান করতে হবে ইত্যাদি। কম ঘুমোলে এ কাজে গোলমাল হয়ে স্মৃতিশক্তি, বিচার ক্ষমতা আচ্ছন্ন হয়ে যেতে পারে। কমতে পারে সৃজনশীলতা। ফলে কাজের মান খারাপ হতে থাকে।

মানসিক চাপ বাড়লে যেমন ঘুম কমে যায়, উল্টোটাও একই ভাবে সত্যি। কম ঘুমের হাত ধরে শারীরিক–মানসিক চাপ বাড়ে। ক্লান্তিতে, বিরক্তিতে জেরবার হন মানুষ। স্বচ্ছ ভাবে চিন্তাভাবনা করতে পারেন না। কম ঘুমের ক্লান্তি থেকে আগ্রহ কমে স্বাভাবিক দাম্পত্য জীবনযাপনে। তার হাত ধরে শুরু হয় পারিবারিক ও সামাজিক আরও একগুচ্ছ উপসর্গ। লাবণ্য কমাতে, অকালে বলিরেখা ফেলতে, চুলের জৌলুস কমাতে, অর্থাৎ শরীর জুড়ে বয়সের ছাপ ফেলতে কম ঘুমের কোনও জুড়ি নেই। কাজেই ঘুমের সঙ্গে অসহযোগিতা নয়।

অতএব:
ভাল করে ঘুমোন। মন খারাপ, শরীর খারাপ, কাজের চাপ, বদভ্যাস ইত্যাদি যা যা কারণে ঘুম নষ্ট হয় বলে মনে হয়, সে সবের সমাধান খুঁজে বার করুন৷ করে সেই পথে চলুন। তাতে কাজ না হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

কোনও সমস্যা নেই, শুধু বেশি ঘুমোতে চান না বলে যদি কম ঘুমোনোর অভ্যাস তৈরি হয়, যত তাড়াতাড়ি পারেন সেই অভ্যাস ঝেড়ে ফেলুন। কারণ শরীর ও মনকে ভাল রাখার জন্য ঘুমের মতো ওষুধ খুব কমই আছে।


নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: