সর্বশেষ আপডেট : ২১ মিনিট ৫৮ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ১৫ অগাস্ট ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩১ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

নির্বাচনী ব্যয়েও এগিয়ে লিটন-বুলবুল

নিউজ ডেস্ক:: নির্বাচনী ব্যয়ে অন্য তিন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে ছাড়িয়ে যাওয়ার আভাস দিয়েছেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) নির্বাচনের প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। এতে নির্বাচনের লেবেল প্লেইং ফিল্ড ব্যহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নির্বাচনের দাখিলকৃত হলফনামা, আয়কর রিটার্নং এবং ঢ-ফরম পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ও দলটির নগর সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের বার্ষিক আয় ছিল ২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। সেবার তিনি সম্ভাব্য নির্বাচনী ব্যয় দেখান ৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। ২০১৩ সালের বার্ষিক আয় ৫৮ লাখ ৭৫ হাজার ৭৭২ টাকা এবং সম্ভাব্য নির্বাচনী ব্যয় ১৫ লাখ টাকা দেখান লিটন। নিজের ৩ লাখ এবং নগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ শামসুজ্জামানের কাছ থেকে আসা ১২ লাখ টাকা সেবার ব্যয় করেন তিনি। আর এবার তার বার্ষিক আয় ৪২ লাখ ৪৫ হাজার ২২৮ টাকা। নিজের ৩০ হাজার, স্ত্রীর নামে ২০ হাজার এবং নির্ভরশীলদের নামে ৫ হাজার টাকা নগদ রয়েছে। এছাড়া ব্যাংকে নিজ নামে এক কোটি ৩৮ লাখ ৫৩ হাজার ৪০৮, স্ত্রীর নামে ৫৭ লাখ ৩৩ হাজার এবং নির্ভরশীলদের নামে ২৩ লাখ ২৯ হাজার টাকা দেখিয়েছেন তিনি।

এবার লিটনের সম্ভাব্য নির্বাচনী ব্যয় ১৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা। পুরো টাকায় তিনি নিজ তহবিল থেকে খরচ করবেন। এর মধ্যে কেবল কর্মীদের পেছনে খরচ করবেন এক লাখ ৮ হাজার টাকা। এছাড়া পোস্টারে ২ লাখ ৭৯ হাজার, নির্বাচনী ক্যাম্পে ২০ হাজার, কেন্দ্রীয় ক্যাম্পে ১৮ হাজার, যাতায়াতে ৪৮ হাজার, ঘরোয়া বৈঠকে ৬০ হাজার লিফলেটে ৮০ হাজার, হ্যান্ডবিলে সোয়া ৩ লাখ, ডিজিটাল ব্যানারে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা, ১০ পথ সভায় ১৪ হাজার, মাইকিং এ এক লাখ ৪৫ হাজার ৮০০, প্রতীকে এক লাখ ২০ হাজার এবং আপ্যায়নে ৩৬ হাজার টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

অপরদিকে নিট সম্পদ ও আয়ে ছুঁতে না পারলেও নির্বাচনী ব্যয়ে লিটনের সমান বিএনপির প্রার্থী ও দলটির নগর সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। তিনিও খরচ করবেন ১৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এর মধ্যে তার নিজ তহবিল থেকে আসবে ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এছাড়া ৫ লাখ টাকা স্ত্রীর ভাই বজলুর রহমান এবং ৫ লাখ টাকা জাফর ইমাম দেবেন। বুলবুলের এবারের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে- পোস্টারে এক লাখ ৩২ হাজার ৫০০, নির্বাচনী ক্যাম্পে এক লাখ ২০ হাজার, কেন্দ্রীয় ক্যাম্পে ৬০ হাজার, যাতায়াতে ৭০ হাজার, প্রতীকে ৫০০, অফিস আপ্যায়নে ২৪ হাজার, ৩০ পথ সভায় ১৫ হাজার, মাইকিং এ ৬৪ হাজার লিফলেটে ২ লাখ ৭৫ হাজার, হ্যান্ডবিলে এক লাখ ৮০ হাজার, ব্যানারে এক লাখ ২২ হাজার এবং ডিজিটাল ব্যানারে ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। তবে কর্মীদের পেছনে খরচ নেই বুলবুলের।

বুলবুলের এবারের বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ২৪ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। তার নিজের ৪২ লাখ ৩০ হাজার ৭৫৮ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ৬ লাখ ৬৯ হাজার ৮০০ টাকা নগদ রয়েছে। স্ত্রীর নামে না থাকলেও বুলবুলের নামে ব্যাংকে জমা দেখানো হয়েছে ৬ লাখ ৮৩ হাজার ৬১২ টাকা। ২০০৮ সালে ১ লাখ ৬৮ হাজার এবং ২০১৩ সালে ১ লাখ ৯২ হাজার টাকা বার্ষিক আয় দেখান বুলবুল।

এদিকে নির্বাচনে অংশ নেয়া জাতীয় পার্টির প্রার্থী ওয়াসিউর রহমান দোলনের নির্বাচনী ব্যয় ১৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে তার নিজের তহবিল থেকে যাচ্ছে দুই লাখ টাকা। ভাই, মামা ও পরিচিতদের কাছ থেকে বাকি ১১ লাখ টাকা আসবে তার। দোলনের বার্ষিক আয় ২ লাখ টাকা। তার নিজের দেড় লাখ এবং স্ত্রীর নামে ১০ হাজার টাকা নগদ রয়েছে। ব্যাংকে রয়েছে আরও ৫০ হাজার টাকা।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী শফিকুল ইসলামের নির্বাচনী ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ টাকা। এর মধ্যে তার নিজের কেবল ৩০ হাজার। জন ও পরিচিতদের কাছ থেকে নেবেন ৬০ হাজার টাকা। আর কর্মীদের স্বেচ্ছায় দান থেকে আসবে ৮০ হাজার টাকা।

বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির প্রার্থী হাবিবুর রহমানের বার্ষিক আয় ২ লাখ ২০ হাজার টাকা। তার নামে নগদ টাকা ২৫ হাজার এবং স্ত্রীর নামে ৩০ হাজার টাকা দেখানো হয়েঠে। তবে হাবিবুর নির্বাচনে সম্ভাব্য ব্যয় করবেন এক লাখ ৬০ হাজার টাকা। এর মধ্যে তার নিজের ২৫ হাজার। বাকি অর্থ আসবে স্বজন ও পরিচিতজনদের কাছ থেকে।

নিট সম্পদ সমান না হওয়ায় নির্বাচনে লেবেল প্লেইং ফিল্ড তৈরি সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন রফিকুল ইসলাম। গত ৩০ জুন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিয়কালে এ কথা বলেন তিনি। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, সামর্থ অনুযায়ী প্রার্থীরা নির্বাচনে ব্যয় করবেন। এ কারণে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় ভিন্নতা থাকবে। যদিও সর্বোচ্চ ব্যয়সীমা নির্ধারণ করা রয়েছে। তবে সরকারি সহায়তা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে লেবেল প্লেইং ফিল্ড থাকবে। সমভাবে আইন প্রয়োগে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচন কমিশনারের এমন বক্তব্য নির্বাচনের স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত করবে বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন রাজশাহী অঞ্চলের সমন্বয়কারী সুব্রত পাল। তার মতে, যারা কালোটাকা ও পেশি শক্তি নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান এবং যে কোনো উপায়ে জয়লাভ করতে চান তাদের এমন বক্তব্য উৎসাহ দেবে। নির্বাচন কমিশনের এমন বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: