সর্বশেষ আপডেট : ১২ মিনিট ৬ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

‘এমপি মানিকের মদদেই আ’লীগ নেতা ফারুককে খুন করে তার ভাই বেলাল ও তার সহযোগীরা’

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার উত্তর খুমরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমদকে স্থানীয় এমপি মুহিবুর রহমান মানিকের মদদে তার চাচাতো ভাই ইউপি চেয়ারম্যান বিলাল আহমদ ও তার সহযোগীরা খুন করে বলে দাবি করেছেন স্ত্রী রেহেনা বেগম। শনিবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন। খুনিদের গ্রেফতার করে বিচার নিশ্চিত করতে তিনি আওয়ামী লীগের সভানেত্রী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপও কামনা করেন। সংবাদ সম্মেলনে রেহেনা থানা পুলিশের মামলা না নেওয়া ও স্থানীয় বিরোধের কারণে তার স্বামীকে যে খুন করা হয় সে বিষয়টিও উল্লেখ করেন। তার পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে নিহত ফারুকের ভাতিজা মেডিকেল কলেজ ছাত্র বায়জিদ আলম।

লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ তিনি করেন, গত ২২ জুন দিবাগত রাতে র্দুবৃত্তরা নৃংশসভাবে কুপিয়ে ও গলা কেটে তার স্বামীকে হত্যা করে বিলের পানিতে লাশ গুম করে রাখে। ফারুক ব্যবসার পাশাপাশি তৃণমূল আওয়ামী লীগের একজন সক্রীয় কর্মী। অন্যায়, অবিচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদী একজন মানুষ হিসেবে তার পরিচিতি ছিল। নিখোঁজ হওয়ার পর পাতলাচুরা বিলের পাড়ে তার পরনের জামাকাপড় পাওয়া যায়। ২৩ জুন লাশের অনুসন্ধান করে পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল লাশের সন্ধ্যান করে ব্যর্থ হয়। পরদিন ২৪ জুন পাতলাচুরা বিলের তার লাশের সন্ধান মিলে। লাশের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ও গলাকাটা ছিল। লাশ গুম করতে লাশের গলায় ইট বেধে পানিতে ফেলে রাখে খুনীরা।

বক্তব্যে আরো উল্লেখ করা হয়, ‘সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে ও পৃষ্টপোষকতায় স্থানীয় পর্যায়ে অন্যায় ও নানা অপকর্মের রাজত্ব কায়েম করেছেন তারই চাচাতো ভাই উত্তর খুরমা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিলাল আহমদ। বিলালের সাথে নানা কারণে র্দীঘদিন ধরে তার স্বামীর দ্বন্দ্ব রয়েছে। বিলালের নানা অন্যায় ও অবৈধ কাজের প্রতিবাদ করায় সে আমার স্বামীর উপর ক্ষিপ্ত ছিল। আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল পদে থাকলেও বিলালের অন্যায় কাজে কোনোদিন প্রশ্রয় দেননি।’

স্বামীর হত্যার পেছনে এমপির মদদ রয়েছে উল্লেখ করে রেহেনা জানান, তার স্বামীর নৃশংস এই খুনের ঘটনায় এমপি মানিকের সমর্থনপুষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান বিলাল ও তার সহযোগীরা জড়িত। পুলিশ নিরপক্ষে তদন্ত করলে এর সত্যতা অবশ্যই বেরিয়ে আসবে।’

তিনি আরো বলেন, হত্যার ঘটনায় তিনি ২৫ জুন সন্ধ্যায় ইউপি বিলাল আহমদ ও তার ১০/১২ জন সহযোগীকে আসামি করে ছাতক থানায় এজাহার দেন। পুলিশ তা গ্রহণ করে কপিও দেয়। কিন্তু কোনো এক অদৃশ্য শক্তির ইশারায় মামলা রেকর্ড না করে এজাহের রিসিভ কপিতে ঘষামাজা করে ফেরত দেয় পুলিশ। এমনকি একই তারিখ দেখিয়ে এসআই অরুপ সাগর কমলগুপ্ত বাদি বানিয়ে থানায় অজ্ঞাত আসামী করে মামলা করানো হয়। যার জিআর নং-১৮০/১৮।
ফলে তিনি বাধ্য হয়ে ২৭ জুন সুনামগঞ্জ আমলগ্রহনকারী জুডিশিয়াল ম্যাজেস্ট্রেট আদালতে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন।

২৮ জুন আদালত তার দায়ের করা মামলাটি পুলিশের দায়ের করা মামলার সাথে সংযুক্ত করে প্রদক্ষেপ নিতে থানার ওসিকে নির্দেশ দেন এবং আগামী ৮ জুলাইর মধ্যে গৃহিত পদক্ষেপ সম্পর্কে আদালতকে অবহিত করারও নির্দেশ দেন। আদালত তার নির্দেশে থানা পুলিশের দায়ের করা মামলাটি যে আইনত হয়নি তাও উল্লেখ করেন।
রেহেনা বেগম দাবি করেন, তার এজাহারটি না নিয়ে যে অজ্ঞাতনামা আসামী করে যে মামলা করা হয় তা খুনিদের রক্ষার জন্যই করা হয়েছে। পুলিশের অতি উৎসাহীতে মনে হচ্ছে মায়ের চেয়ে মাসির দরদই বেশি। তারা জজ মিয়া নাটক সাজানোর জন্যই এমপির ইশারায় মামলা করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে নিহত ফারুকের শিশু সন্তান ইয়াছিন আহমদ, মেয়ে আরিফা ও জেনিফা, ভাই আতিক মিয়া, মানিক মিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।  – বিজ্ঞপ্তি




এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: