সর্বশেষ আপডেট : ৩০ মিনিট ৫৮ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বিচারপতির সামনে একা ৪ বছরের শিশু শরণার্থী!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: বাচ্চাটা এত কাঁদছে।ওকে একটু ঘরের বাইরে নিয়ে যান প্লিজ।বিচারপতির এই নির্দেশ শুনে কয়েক মুহূর্ত চুপ ছিলেন আইনজীবী লেনি বেনসেন।তারপর উত্তর দিলেন, ‘সেটা অসম্ভব,মহামান্য বিচারপতি।বাচ্চাটিই এই মামলার আসামি। আপনি এখন একেই জিজ্ঞাসাবাদ করবেন।’উত্তর শুনে অবাক বিচারপতি।বছর চারেকের একটি মেয়ে, অচেনা জায়গায় এসে তার কান্না থামছেই না।একে জিজ্ঞাসা করেই কি না তাকে ঠিক করতে হবে— এ দেশে আশ্রয় পাওয়ার যোগ্য কি না সে!

তবে যুক্তরাষ্ট্রে এটা কিন্তু কোনও ব্যতিক্রমী ঘটনা নয়।বেআইনি ভাবে মার্কিন মুলুকে ঢোকার চেষ্টা করছেন যে সব শরণার্থী, সীমান্তেই তাদের কাছ থেকে তাদের শিশুদের আলাদা করে দেয়া হচ্ছিল। তবে তীব্র সমালোচনার মুখে সম্প্রতি এই জিরো টলারেন্স নীতি থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু এর মধ্যেই কয়েক হাজার শিশু তাদের অভিভাবকদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। বহু মা-বাবাকে ইতিমধ্যে আমেরিকা থেকে তাড়িয়েও দেয়া হয়েছে। যারা রয়েছেন, তাদের আটক করে রাখা হয়েছে ডিটেনশন সেন্টারে। আর শিশুরা থাকছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কোনও না কোনও শরণার্থী শিবিরে। যার যখন পালা পড়ছে, হাজিরা দিতে হচ্ছে আদালতে। আমেরিকায় থাকার অধিকার ও যোগ্যতা তার আছে কি না সেট ঠিক করছে আদালত।

সমস্যাটা এখানেই। মার্কিন আইনে বলা নেই যে, শরণার্থী শিশুদের জন্য আইনজীবী দিতে হবে সরকারকে। যদি কোনও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা কোনও বাচ্চার জন্য আইনজীবী ঠিক করে, তা হলে আলাদা। না হলে কিন্তু বিচারপতির সামনে একা হাজিরা দিতে হবে বাচ্চাটিকে, সে তার বয়স ১৪ হোক বা চার। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বাচ্চাটি ইংরেজি ভাষা বুঝতে পারে না, বলা তো দূরের কথা। স্বয়ংক্রিয় অনুবাদযন্ত্রের সাহায্যে বাচ্চাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন বিচারপতি। কিন্তু অনেক সময়েই তারা ভাল করে উত্তরই দিতে পারে না। যেমন হয়েছিল সে দিন।

শরণার্থীদের আইনি সহায়তা দেয়, এমন এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে যুক্ত আইনজীবী লেনি বেনসেন। সে দিন আদালতে এসেছিলেন তার এক শরণার্থী মক্কেলের সঙ্গে। দেখেন, এক বৃদ্ধা বসে রয়েছেন বছর চারেকের একটি মেয়ের সঙ্গে। সমানে কেঁদে চলেছে শিশুটি। লেনি বাচ্চাটিকে কোলে নিয়ে ভোলাতে শুরু করেছিলেন। তখনই তাকে ঘরের বাইরে নিয়ে যেতে বলেন বিচারপতি।

শেষ পর্যন্ত শিশুটি ‘বৈধ শরণার্থীর’ মর্যাদা পেয়েছিল কি না, তা আর জানতে পারেননি লেনি। তবে তার ধরণা ওই শিশুটি নাগরিকত্ব পায়নি। কারণ পরিসংখ্যান বলছে, শরণার্থী শিশুদের সঙ্গে যখন আইনজীবী থাকেন, তখন মাত্র এক তৃতীয়াংশ শিশুর আবেদন অগ্রাহ্য হয়। কিন্তু যখন আবেদনকারী শিশুর সঙ্গে কোনও আইনজীবী থাকেন না, তখন এগারো জন বাচ্চার মধ্যে মাত্র এক জন যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পায়। বাকি দশটি বাচ্চার জন্য পড়ে থাকে অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতার পাহাড়।

সূত্র: আনন্দবাজার


নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: