সর্বশেষ আপডেট : ৫৩ মিনিট ৫২ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সরকার ও আওয়ামী লীগের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে

নিউজ ডেস্ক:: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র ছয় মাসের মতো বাকি।নানাভাবে মাঠের ভোটারদের মনোভাব এবং দল ও সরকারের জনপ্রিয়তা বোঝার চেষ্টা করা হচ্ছে। বেশকিছু জরিপও করা হয়েছে ইতোমধ্যে। তাতে ইতিবাচক সাড়াও মিলছে। সেসব তথ্য উপাত্তের প্রথম দৃশ্যমান প্রতিফলন ঘটে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে। সেখানে বড় ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়ে স্বস্তি আসে সরকার ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে। সর্বশেষ সেই স্বস্তি আরো এক ধাপ এগিয়ে দিল গাজীপুর নির্বাচনে। খুলনার মতো গাজীপুরেও বেশি ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়ে আওয়ামী লীগের সামনের অন্যান্য নির্বাচনে জয়ের প্রত্যাশা অনেক গুণ বেড়ে গেছে। বেড়েছে আত্মবিশ্বাসও। এমনকি এই জয় জাতীয় নির্বাচনেও অব্যাহত থাকবে বলেও মনে করা হচ্ছে।

গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৪ লাখ ১০ ভোট পেয়ে মেয়র পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। মাত্র ১ লাখ ৯৭ হাজার ৬১১ ভোট পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার। এই ফলাফলকে প্রত্যাশী বলে মনে করেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা। দল মনে করছে, এই নির্বাচনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মানুষের ভোট প্রদানের মধ্য দিয়ে স্থানীয় ইস্যু ও ব্যক্তির জনপ্রিয়তা এবং আওয়ামী লীগের ইতিবাচক রাজনীতির প্রতিফলন ঘটেছে। গাজীপুরের মানুষ সবদিক বিচার বিবেচনা করেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড এবং ইতিবাচক দলীয় ও জাতীয় রাজনীতির প্রতি মানুষের যে আস্থা রয়েছে—বড় ব্যবধানে মেয়র পদে জাহাঙ্গীর আলমের জয় সে তথ্যই প্রমাণ করেছে।

গাজীপুরে প্রাপ্ত ভোট ও নির্বাচনী পরিবেশ নিয়েও সন্তুষ্ট আওয়ামী লীগ। প্রাপ্ত ভোট অনুযায়ী, মঙ্গলবারের নির্বাচনে গাজীপুরে ধানের শীষের চেয়ে নৌকা প্রতীক ২ লাখের বেশি ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছে। এর আগে ২০১৩ সালে এ সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ে ১,০৬,৫৭৭ ভোট বেশি পেয়ে বিএনপি প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছিল। এমনকি গাজীপুরে খুলনার তুলনায় ভোটের ব্যবধান বেড়েছে। গত ১৫ মে অনুষ্ঠিত খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর চেয়ে ৬৭ হাজার ৯৪৬ ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হন নৌকা প্রতীক নিয়ে তালুকদার আবদুল খালেক। এমনকি মেয়র পদের পাশাপাশি এবার সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলেও বেশিরভাগ পদে জয় পেয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থকরা। এর আগে খুলনায়ও এমন ঘটনা ঘটে। সেখানে ১৩টিতে জয় পায় আওয়ামী লীগ সমর্থকরা। আর বিএনপির সমর্থকরা জেতে আটটি ওয়ার্ডে।

অন্যদিকে, ভোটের পরিবেশ নিয়েও সন্তুষ্ট আওয়ামী লীগ। বলতে গেলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই ভোট অনুষ্ঠিত হয় গাজীপুরে। কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা বাদ দিলে উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল নির্বাচনী এলাকায়। দিনের শুরুতে ভোটারদের উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। গাজীপুর মহানগরীর বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। নির্বাচনে বড় ধরনের গোলযোগ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। তবে জোর করে ব্যালটে সিল মেরে বাক্সে ভরার চেষ্টা ও অনিয়মের ঘটনায় নয়টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন।

যদিও ভোটের ফল প্রত্যাখ্যান করে নির্বাচন বাতিল চেয়ে পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কিন্তু নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও পর্যবেক্ষক মহলের মতে, নির্বাচনী পরিবেশ ছিল সন্তোষজনক। নির্বাচনী ফলে প্রভাব পড়তে পারে এমন কোনো বড় ধরনের অনিয়মের ঘটনা ঘটেনি। কারচুপি হয়নি। ইসির মতে, স্থগিত হওয়া নয়টি কেন্দ্র বাদে বাকি ৪১৬টি কেন্দ্রে ‘কোনো ধরনের অনিয়ম ছাড়াই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ’ নির্বাচন হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতারাও মনে করেন, বিএনপি শেষ পর্যন্ত মাঠে ছিল। নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছেন। বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা বিভিন্ন কেন্দ্র পাহাড়া দিয়েছে। কোথাও ভোট কারচুপি বা কেন্দ্র দখল নিয়ে কোনো ধরনের গোলযোগ হয়নি। আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয়নি। এর মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয় নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে।

অন্যদিকে, সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ায় স্বস্তিতে সরকারও। সরকারের নীতি নির্ধারকদের মতে, গাজীপুরের ভোট ও ফল সারা দেশে, বিশেষ করে জাতীয় নির্বাচনী রাজনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেই আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে খুলনা ও গাজীপুরের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সরকারের অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচনের সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। নীতি নির্ধারকরা মনে করছেন, এসব নির্বাচন বিএনপিসহ অন্যান্য দলকে এই সরকারের অধীনেই জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে উৎসাহী করবে। এমনকি অংশগ্রহণমূূলক নির্বাচনে আন্তর্জাতিক চাপও সরকারের পক্ষেই থাকবে।

সরকার ও আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকদের মতে, খুলনার পর গাজীপুরেও বড় ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগ জয়ী হওয়ায় সরকার ও আওয়ামী লীগ যে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন নয়—তারও প্রমাণ মিলেছে। ভোটের ব্যবধান এবং নির্বাচনী পরিবেশ তৃণমূলে সরকার ও আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তার বহিঃপ্রকাশ। এর আগের দফায় এই গাজীপুরেই দলীয় কোন্দলের কারণেই হেরেছিল আওয়ামী লীগ। এবার সেখানে দলীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা হয়েছে। তৃণমূলে সরকারের প্রতি মানুষের আস্থারও প্রকাশ ঘটেছে।

অবশ্য নিজেদের জনপ্রিয়তা প্রমাণের পাশাপাশি গাজীপুরের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাজনীতির মাঠে বিএনপির দেউলিয়াত্ব প্রমাণ হয়েছে বলেও মনে করছে আওয়ামী লীগ। দলের নেতারা বলছেন, বিগত বিএনপির মেয়রের সময় এলাকার কোনো উন্নয়ন হয়নি। এমনকি রাজনৈতিকভাবেও বিচ্ছিন্ন বিএনপি। তৃণমূলে দলের ঐক্য নেই। চেইন অব কমান্ড নেই। ফলে নির্বাচনী মাঠে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে তৃণমূলকে ঠিক সেভাবে মাঠে নামাতে পারেনি কেন্দ্র। এরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে নির্বাচনে।

আওয়ামী লীগ এমনও মনে করছে, বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণায় দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও দলের নির্বাচনী দাবি-দাওয়া প্রাধান্য পেয়েছে। দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করে সরকারের জনবিচ্ছিন্ন প্রমাণ করতে চেয়েছে দলটি। কিন্তু বিএনপির রাজনীতির ওপর আস্থা হারিয়েছে মানুষ। তাই বিএনপি আহ্বানে সাড়া দেননি ভোটাররা। বরং সরকার যে প্রকৃত অর্থেই তৃণমূলে কাজ করেছে, ভোটের মাধ্যমে তার প্রমাণ দিয়েছে জনগণ। অর্থাৎ বিএনপির সার্বিক রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করেছে মানুষ।

এসব বিচারে গাজীপুরে জয়ের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাসীনরা সামনের অন্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং জাতীয় নির্বাচনেও জয়ের ব্যাপারে আরো বেশি আশাবাদী বলে জানা গেছে। দলের শীর্ষ নেতাদের মতে, স্থানীয় মানুষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন কর্মকান্ডে আস্থা রেখে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করেছে। জাতীয় নির্বাচনে অবশ্যই এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এমনকি সামনের স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও জনগণ আওয়ামী লীগের পক্ষেই থাকবে বলেও মনে করছেন দলের নেতারা। নেতাদের মতে, কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত দলকে গোছাতে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা নিজে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন। কাজ করছেন। প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন দলের নেতাদের। গত শনিবার বর্ধিত সভায় আগামী যেকোনো নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার ঘোষণা দেন তিনি। সেভাবেই দলের নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেন।

গাজীপুরে ভোট শেষে সরকারের মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতারা সামনের নির্বাচনগুলোতে জয়ের ধারা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। গত মঙ্গলবার সেতুমন্ত্রী ও দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকারের উন্নয়ন অর্জনের সোনালী ফসল এই বিজয়। এই ধারা জাতীয় নির্বাচনেও অব্যাহত থাকবে। একইভাবে ‘ঢালাও অভিযোগ’ বন্ধ করে বিএনপিকে শক্ত প্রার্থী বাছাই করে স্থানীয় ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসার আহ্বান জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

গাজীপুরে নৌকার জয়কে কিভাবে দেখছেন—জানতে চাইলে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা প্রমাণ করেছি জনগণ উন্নয়ন, শান্তি সমৃদ্ধির পথে হাঁটতে চায়। দেশের মানুষ জ্বালাও-পোড়াও ধ্বংসাত্মক রাজনীতি চায় না। গাজীপুরে আবারো নৌকাকে বিজয়ী করে জনগণ জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের উন্নয়নের যাত্রার পক্ষে রায় দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, এই ফল ইতিবাচক। বিএনপি সাংগঠনিকভাবে অগোছালো, তাদের দলের চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়েছে এবং তাদের নেতারা দ্বিধাবিভক্ত। তাদের কর্মীরা যে হতাশ এর প্রভাবের ফলে তাদের দলীয় রাজনীতি জনগণের কাছে নিয়ে যেতে ব্যর্থ হয়েছে। মানুষ বুঝতে পেরেছে, উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে হবে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগের বিকল্প নেই। তারই প্রতিফলন গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে।

একইভাবে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, গাজীপুরে এমন ফলই প্রত্যাশা ছিল আমাদের। কারণ বিএনপি যে রাজনীতি করছে, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ-দুর্নীতির অপরাজনীতি, সেখানে জনগণ তাদের ভোট দিতে পারে না। দেয়নি। বিএনপিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। এই যে পরাজয়ের ধারা সূচনা হয়েছে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদেরকে পরাজিত করার মাধ্যমে জনগণ বিএনপির অপরাজনীতি নির্মূলের রায় দেবে।




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: