সর্বশেষ আপডেট : ১৬ মিনিট ০ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মার্কিন কংগ্রেস নির্বাচনে তরুণ ওকাসিওর কাছে প্রভাবশালী ক্রাউলির পরাজয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস নির্বাচনে নিউইয়র্কের প্রাইমারিতে ২৮ বছর বয়সী একজন প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে পরাজিত হয়েছেন প্রভাবশালী কংগ্রেসম্যান জোসেফ ক্রাউলি।জয়ী হয়েছেন বামঘরানার নেতা বার্নি স্যান্ডার্সের রাজনীতির সমর্থক ও কর্মী আলেকজান্দ্রেরিয়া ওকাসিও কর্টেজ নামের একজন নারী।

রয়টার্স বলছে, এ পরাজয়ের ফলে নিউইয়র্কের কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট ১৪ (ব্রঙ্কস-জ্যাকসন হাইটস) থেকে নিশ্চিতভাবে পরবর্তী কংগ্রেসম্যান নির্বাচিত হচ্ছেন ওকাসিও।একই সঙ্গে টানা ১১ বার কংগ্রেসম্যান থাকা হেভিওয়েট জোসেফ ক্রাউলির আপাতত রাজনৈতিক পরাজয় ঘটল।

যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে বাংলাদেশ ককাসের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ার ছিলেন কংগ্রেসম্যান জোসেফ ক্রাউলি। তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের কাছে একটি পরিচিত নাম। কংগ্রেসে বাংলাদেশ ককাসের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্যই তার এই পরিচিতি। বাংলাদেশ সফরেও এসেছিলেন এই প্রভাবশালী কংগ্রেসম্যান। বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে তাঁর বিস্তর জ্ঞান। সেই সুবাদে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি ডেমোক্র্যাট রাজনীতিবিদের কাছের মানুষ ছিলেন তিনি। তাঁর নির্বাচনী কার্যক্রমে বাংলাদেশিদের অনেকেই অর্থ সহায়তা দিয়ে থাকেন। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। কিন্তু তরুণ বাংলাদেশি ভোটাররা ঝুঁকেছিলেন ওকাসিওর দিকে।

ওকাসিওর জয়ের পর তিনি মূলত মূলধারার মার্কিন গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছেন। নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট থেকে শুরু করে স্থানীয় সব গণমাধ্যম একটিই শিরোনাম করেছে—‘ক্রাউলির আশ্চর্যজনক পরাজয়’।

ওয়াশিংটন পোস্ট বলছে, রাজনীতিতে একেবারে নতুন ওকাসিয়া ধরাশায়ী করলেন এমন একজন প্রতিষ্ঠিত ডেমোক্র্যাটকে, যাঁকে কিনা বিবেচনা করা হচ্ছিল পরবর্তী ডেমোক্র্যাট সংখ্যাগরিষ্ঠ হাউসের স্পিকার হিসেবে!

এই পরাজয়ের অনুসন্ধান করতে গিয়ে মূলত দু’টি বিষয় দেখা গেছে। প্রথমটি হলো—ক্রাউলির ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে যেতে অনীহা। দুটি জনবহুল ব্যুরো ব্রঙ্কসের কুইন্সের ডিস্ট্রিক্ট ১৪-তে নির্বাচন হলেও সব মিলিয়ে ২২ হাজার মানুষও ভোটকেন্দ্রে যাননি। যারা গেছেন, তাদের অধিকাংশই রাজনীতির পরিবর্তন সূচনা করতেই নিজ গরজে ভোটকেন্দ্রে গেছেন। তাদের প্রায় সবাই বার্নি স্যান্ডার্সের সমর্থক। তার রাজনৈতিক লক্ষ্য ‘ডেমোক্র্যাট রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন’ স্লোগানের কর্মী।

দ্বিতীয় বড় কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে—ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী কর্মকাণ্ডে প্রতিবাদহীন একজন মানুষ হিসেবে ক্রাউলির ভূমিকা। নিউইয়র্ক থেকেই কম করে ২ হাজার ৩০০ জনকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাদের বেশির ভাগ ল্যাটিন আমেরিকান। বাংলাদেশিও আছেন অনেকেই। এসব ল্যাটিন আর অভিবাসী পরিবারের সদস্যরা তাঁদের প্রিয়জনের দেশে ফেরত পাঠানো ঠেকাতে ক্রাউলির অফিসের দ্বারস্থ হয়েছেন অনেকবার। কিন্তু ভুক্তভোগীর পক্ষে একটি চিঠি লিখতেও অনেক ক্ষেত্রে অপারগতা প্রকাশ করেছেন ক্রাউলি।

এসব কারণেই বিস্তর ল্যাটিনো ভোট আর মুসলিম ভোটের পুরোটা গেছে ওকাসিওর পক্ষে। একই সঙ্গে ক্রাউলি যেহেতু ১৪ বছর ধরে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রাইমারি জয়ী হয়ে কংগ্রেসম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তাই এবার তার ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তার পক্ষে ভোটদানের প্রয়োজনীয়তা বোধ করেনি। ফলাফল, ক্রাউলির বিদায়।


নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: