সর্বশেষ আপডেট : ১১ মিনিট ৪ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১১ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

উত্তপ্ত মাটির নিচে স্বজনরা, খুঁড়ে যাচ্ছেন একাকী নারী!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: এগারো-বারো দিন পেরিয়েছে, গুয়াতেমালার সান মিগুয়েল লস সোটস গ্রামটিকে একেবারে কয়লা বানিয়ে দিয়েছে এক রাক্ষসী আগ্নেয়গিরি। সেখানকার ফুয়েগো আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত এই সর্বনাশ করেছে। একাকী এক নারী এখনও মাটি-ছাই খুঁড়ছেন তার স্বজনদের বের করার জন্য। তারা লাশ হয়ে গেছে তো অবশ্যই। সেই লাশও চাপা পড়েছে উত্তপ্ত ছাইয়ের নিচে।

৪৮ বছর বয়সী উফেমিয়া গার্সিয়ার সব কেড়ে নিয়েছে ফুয়েগোর অগ্ন্যুৎপাত। তার পরিবারের সব মিলিয়ে ৫০ জন সদস্যকে হারিয়েছেন তিনি। চার্চে গিয়ে প্রার্থণা সেরে তিনি ফিরে আসেন বাড়ির কাছে। পুড়ে ধসে পড়া বাড়ি আর মাটি-ছাইয়ের গভীরে চাপা পড়েছে তার কাছের মানুষগুলো।

পেশায় ফল ব্যবসায়ী এই নারী। ম্যাক্সিকান উদ্ধারকর্মীরা বেলচা দিয়ে খুঁড়ে খুঁড়ে মরদেহগুলো বের করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। একটি দেহ বেরিয়ে আসতেই গার্সিয়া চাপা গলায় বললেন, এটা আমার বোন লোলা। গার্সিয়া দৌড়ে দিয়ে একটা কাগজ আর মার্কার নিয়ে নাম লিখে ওটা বোনের দেহে লাগিয়ে দিলেন। বোনের মৃতদেহ একটি স্কুলে নেয়া হলো। ওখানেই অস্থায়ী মর্গ বানানো হয়েছে।

বাড়ি-স্বজন সব হারিয়েছেন তিনি। অন্যান্য বেঁচে যাওয়াদের সঙ্গে একটি স্কুলে থাকছেন। প্রতিদিন ভোর ৫টায় উঠে পড়েন তিনি। মাত্র দুটো কাপড় রয়েছে সঙ্গে। আগের দিনেরটা ধুয়ে অন্যটা পরে নেন। তারপর ছোটেন বাড়ির দিকে। ওখানেই জীবন্ত কবর হয়েছে তার পরিবারের বাকি সদস্যদের। অবশ্য গার্সিয়ার সঙ্গে আছেন তার একমাত্র বন্ধু ফিটো। গত আট বছর ধরে তারা খুব কাছের বন্ধু।

জানেন, গতকাল আমার মায়ের দেহাবশেষ খুঁজে পেয়েছি। আমাদের পরিবারের আরেকটা বাচ্চাকেও পেয়েছি। এভাবে মাটি খুঁড়ে আমরা ওদের খুঁজে পাচ্ছি, বললেন গার্সিয়া।

মা যে ঘরটাতে থাকতেন সেখানে একটি দাঁত আর দুটো হাড় পেয়েছেন শুধু। প্রতিদিন তিনি পাহাড়ের ঢালে কিছু সময় বসে থাকেন। একটি বুলডোজার ধ্বংসস্তুপ পরিষ্কার করার কাজ করছে। ওটার অপেক্ষায় থাকেন তিনি।

একটা জায়গায় ধূসর মরুর মতো হয়ে রয়েছে। গার্সিয়া জানালেন, এটাই আমার বাড়ি ছিল। দেখালেন পরিবারের কে কোথায় থাকতেন। আগ্নেয়গিরিটা এখনো অশনিসংকেত দিচ্ছে। আবারো ফুঁসে উঠবে হয়তো। উত্তপ্ত ছাই উড়বে, গরম গ্যাস ছড়াবে চারদিকে, গলিত লাভা জ্বালামুখ দিয়ে বেরিয়ে আসবে পাহাড়ের গা বেয়ে, পথের সবকিছু স্রেফ গায়েব করে দেবে।

আরো কারো মরদেহ উদ্ধার হয়েছে কিনা তা দেখতে হাসপাতাল আর মর্গেও ঢুঁ মারেন এই সর্বহারা নারী। কোনো উদ্ধারকর্মী তার দিকে খাবারের বাটিটা এগিয়ে দিলেই তিনি খান। এ ছাড়া খাওয়ার কথা মনেও থাকে না।

উদগীরণের পর গুয়াতেমালার উদ্ধারকর্মীরা প্রথম তিনটি দিন কাজ করে গেছে। কিন্তু প্রচণ্ড তাপে তারা আর টিকতে পারেননি। তাদের জুতার তলা গলে যাচ্ছিলো। পরে নিজেই খোঁজার কাজ শুরু করেন গার্সিয়া। কেবল ছাই সরিয়ে মাটিই তো খুঁড়তে হবে। সাধারণ স্যান্ডেল পরেই চলে যেতেন তিনি। কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই। ধীরে ধীরে আগ্নেয়গিরিটা শীতল হয়ে আসছে। তবুও আতঙ্ক আছেই।

ফুয়েগো গত ৪০ বছর ঘুমিয়ে ছিলো। কিন্তু হঠাৎ করেই জুনের ৩ তারিখে জেগে ওঠে। ভেতর থেকে বের করে দেয় টন টন মাটি, ছাই আর বিশাল সব পাথরখণ্ড। গ্রামের শত শত বাড়ি এসবের নিচে চাপা পড়েছে। এখন পর্যন্ত ১১২ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে।

ঘটনার পর গার্সিয়া ভেবেছিলেন তার সব সন্তান মারা গেছে। কিন্তু ছয় সন্তানের মধ্যে তিনজনকে ভিন্ন ভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে খুঁজে পেয়েছেন। তার নয় ভাইয়ের মধ্যে চারজন বেঁচে গেছেন। বাকিদের কোনো খবর নেই। খবর পেতে তিনি একাই মাটি খুঁড়ে যাচ্ছেন।
সূত্র: রয়টার্স




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: