সর্বশেষ আপডেট : ১ মিনিট ২৯ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ইসির মহাপরিকল্পনা,আগামীতে নির্বাচনে এককভাবে ব্যবহার হবে ইভিএম

নিউজ ডেস্ক:: আগামীতে যেকোনো নির্বাচনে ব্যাপক পরিসরে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) ব্যবহার করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।প্রযুক্তির এই যন্ত্রকে সঠিকভাবে প্রয়োগের লক্ষ্যে মহাপরিকল্পনা নিয়ে সামনের দিকে এগোচ্ছে সাংবিধানিক সংস্থা ইসি।গত ১৫ মে অনুষ্ঠিত খুলনা সিটি করপোরেশনের পর আসন্ন গাজীপুর নির্বাচনেও চলবে ইভিএমের মহড়া।তফসিল ঘোষিত বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেট সিটি নির্বাচনে স্বল্প পরিসরে যন্ত্রের সহায়তা নিয়ে নির্বাচন করার পর আগামীতে প্রথম তালিকায় থাকা স্থানীয় নির্বাচনের যেকোনো সিটি, উপজেলা কিংবা পৌরসভায় এককভাবে নির্বাচন করা হবে ইভিএমে।তবে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই যন্ত্রকে যুক্ত করে নির্বাচন করা হবে কি না এ নিয়ে ‘ধীরে চল নীতি’ নিয়ে পা বাড়াচ্ছে কমিশন।খবর ইসির দায়িত্বশীল সূত্রের।

জানতে চাইলে কমিশনের টেকনিক্যাল বিভাগের যুগ্মসচিব মো. রফিকুল ইসলাম প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, নির্বাচনে ইভিএমের পরিধি ক্রমান্বয়ে বাড়ানো হবে। এর জন্য মহাপরিকল্পনা নিয়ে এই প্রযুক্তিকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অতীতের যেকোনো নির্বাচনের চেয়ে ভালো ফল এসেছে খুলনা সিটিতে ব্যবহার হওয়া ইভিএমের কেন্দ্রগুলোতে। এরই ধারাবাহিকতায় গাজীপুরের ৬টি কেন্দ্রে এর ব্যবহার করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আসন্ন তিন সিটিতে (রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট) ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এসব নির্বাচনের পর পরবর্তী যেকোনো সিটি, পৌরসভা কিংবা উপজেলায় পুরো নির্বাচন ইভিএমে করা হবে—এমন পরিকল্পনা রয়েছে ইসির। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।

আর তফসিল ঘোষিত তিন সিটিতে ইভিএমে নির্বাচন করার বিষয়ে জানতে চাইলে কমিশনের উপসচিব মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, এসব সিটিতে ইভিএমে নির্বাচন করার নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে। তবে, তিন সিটির ছয়টি করে ১৮টি কেন্দ্রে সীমিত পরিসরে ইভিএম ব্যবহার হবে। আশা করি, অচিরেই কমিশন থেকে এ-সংক্রান্ত দিকনির্দেশনা পেয়ে প্রস্তুতি শুরু করা হবে, যোগ করেন ইসির অভিজ্ঞ এই কর্মকর্তা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগামী ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটিতে ভোট। কমিশন সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য নিয়ে এসব নির্বাচনে ইভিএমের পরিধি বৃদ্ধি করেছে। এখানে ত্রুটিমুক্ত নির্বাচন করতে পারলে ইভিএমের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরবে; চারদিকে জনমতের ক্ষেত্র তৈরির পর বৃহৎ পরিসরের দিকে পা বাড়াবে কমিশন। এর আগে গত নির্বাচনে বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেট সিটিতে একটি করে ওয়ার্ডে ইভিএমে নির্বাচন করে। তবে, গত নির্বাচনে বুয়েটের তৈরি ইভিএমে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে রাজশাহী সিটির পিটিআই কেন্দ্রে রণক্ষেত্র তৈরি হয়। ইভিএমের কারণে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া বিতর্কিত হয়ে পড়ে। কিন্তু নতুন উদ্ভাবিত ইভিএম সুরক্ষিত হওয়ার কারণে আত্মবিশ্বাসী কমিশন ৬টি করে কেন্দ্রে ইভিএমে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কিন্তু এবার নতুন ইভিএমে ইসির নিয়ন্ত্রণে সুরক্ষিতভাবে তৈরি হচ্ছে এর প্রটোটাইপ। ঝুঁকিমুক্ত হওয়ার কারণে বড় পরিসরের নির্বাচনে এককভাবে ইভিএমে ভোট করা হবে আগামীতে। এর জন্য যত ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া দরকার সব কারিগরি দিক বিবেচনা করে এগোচ্ছে উদ্ভাবনকারী সংস্থাসহ কমিশন। কারণ এই প্রযুক্তিতে সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ব্যবহার উপযোগী ইভিএমের সুবিধাগুলোর মধ্যে ইভিএমকে ব্যবহার-বান্ধব করার লক্ষ্যে ভোটার শনাক্তকরণ মেশিন এবং ভোটিং মেশিন দুটি একত্রিত করে একটি মেশিনে রূপান্তরিত করা, ব্যালট ইউনিট কানসিল বোতামটি বাদ দেওয়া, ব্যালট ইউনিটের ভোট প্রদানের বোতামগুলো বড় আকারের ও ভিন্ন রঙের করা এবং বোতামের পাশের বোতামটি একটু বড় আকারে করা, ভোট সম্পন্ন হওয়ার পর ভোটারের সন্তুষ্টির জন্য ধন্যবাদ শব্দ যুক্ত করা, ইভিএমের কাঠামো, টাচ স্ক্রিন, কি-বোর্ড এবং ভোটদান বোতামগুলোর মান উন্নত করা, ভোটার ভেরিফিকেশন মেশিনের সঙ্গে যুক্ত প্রজেক্টরটি মেশিনের মধ্যে সংযুক্ত (ইন বিল্ট) করা, কিউআর কোড মুদ্রণ বাদ দিয়ে একটি মেশিনের মাধ্যমে ভোটার শনাক্ত করা, ইভিএমের পুরো প্রোটোকল, বিজনেস প্রসেস, সোর্সকোড ইত্যাদির ওপর রাইট আপ প্রস্তুত করা ইসির সার্বিক তত্ত্বাবধানে সংরক্ষণ করা এবং ইভিএম নিরাপদে ব্যবহারের জন্য মেশিন অনুযায়ী, সুরক্ষা বক্স ব্যবহার করা।

এর আগে ১/১১ এ টি এম শামসুল হুদা কমিশন স্থানীয় নির্বাচনে ইভিএমের প্রচলন ঘটায়। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এর সহায়তায় প্রথমে ২০১০ সালে এ প্রযুক্তির ৫৩০টি মেশিন কেনা হয়। নির্বাচনে ব্যবহার করতে গিয়ে দেশের প্রধান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তুত করা ইভিএমে নানা যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ে। পরে ২০১১ সালে বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির (বিএমটিএফ) প্রস্তুত করা ৭০০ ইভিএম কেনা হয়। এগুলো পুরোপুরি ত্রুটিমুক্ত ছিল না।

হুদা কমিশন ২০১১ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে ২১ নং ওর্য়াডে বুয়েটের ইভিএম ব্যবহার করে। পরে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন, নারায়ণগঞ্জ সিটি, টাঙ্গাইল পৌরসভা ও নরসিংদী পৌরসভায় এ প্রযুক্তি ব্যবহার হয়।

পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় ১/১১ কমিশনের স্থলে বিধির নিয়মে নতুন কমিশন হিসেবে ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিদায়ী রকিব উদ্দিন কমিশন দায়িত্ব নেয়। তাদের মেয়াদে রাজশাহী সিটিতে ২০১৩ সালে ইভিএম ব্যবহার করে পুরো বিতর্কের মধ্যে পড়ে যায় ইসি। পরে কমিশনার হিসেবে মেয়াদ পূর্ণের আগে ইভিএম ব্যবহার করেনি। তবে, নতুন ইভিএমের প্রচলন চালু রেখে যায়। আর গত ফেব্রুয়ারিতে খান মো. নুরুল হুদার কমিশন দায়িত্বে এসে কমিটি করে পুরনো ইভিএমকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। নতুন প্রবর্তিত ইভিএমে রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ১৪১ নং কেন্দ্রের ৬টি কক্ষে ব্যবহার করে। কিন্তু পুরোপুরি ত্রুটিমুক্ত হয়নি। পুরনো ইভিএমের মতো ত্রুটি নিয়ে নির্বাচন শেষ করে। পরবর্তীতে সুরক্ষিত ইভিএম তৈরিতে যত ধরনের সম্ভাব্য উপায় রয়েছে তা খতিয়ে দেখে মাঠে নেমে পড়ে ইভিএমের কারিগরি টিম, যা নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দানা বাঁধছে ইভিএমের।


নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: