সর্বশেষ আপডেট : ৫৩ মিনিট ৪৫ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ১২ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২৮ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মৌলভীবাজারে পানি কমলেও কমছে না মানুষের দুর্ভোগ

মৌলভীবাজার সংবাদদাতা:: মৌলভীবাজারে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। কমতে শুরু করেছে পানি। মনু নদের পানি বিপদসীমার ১৮০ সেন্টিমিটার থেকে কমে ৬৮ সেন্টিমিটার উপর ও ধলাই নদীর পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

তবে পানি কমতে শুরু করলেও কমছে না পানিবন্দী ৩ লক্ষাধিক মানুষের দুর্ভোগ। বন্যায় বিধ্বস্ত বাড়ি ঘর মেরামত না করে আশ্রয় কেন্দ্র থেকে ফিরতে পারছে না ক্ষতিগ্রস্ত এসব মানুষ।

বন্যার পানির স্রোতে অনেক যায়গায় রাস্তা-ঘাট ভেঙে গেছে। নিচ থেকে মাটি বের হয়ে গেছে। সেনাবাহিনী, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও স্থানীয় উদ্যোগে রাস্তা মেরামত করে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্য মতে, জেলায় মনু ও ধলাই নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধের ২৫ স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে পাঁচ হাজার ৩৯০ জনকে উদ্ধার করে ৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়া হয়েছে। বন্যা ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করতে ১৬ জুন শনিবার সকাল থেকে সেনাবাহিনীর চারটি টিম কাজ করছে। তারা পানিবন্দীদের উদ্ধারে ১৮টি স্পিডবোট ব্যবহার করছে। পানির স্রোতে এ পর্যন্ত ভেসে গিয়ে ১১ জন মানুষ মারা গেছে।

ইতোমধ্যে জেলায় নগদ নয় লাখ ৪০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। বিতরণের অপেক্ষায় আছে ১০ লাখ ৩৭ হাজার টাকা। এছাড়া ৭৪৩ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। মজুদ আছে ৬৬৮ টন চাল। তিন হাজার শুকনো খাবারের প্যাকেট পাওয়ার আশ্বাস মিলেছে। শহরের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য বিজিবি টহল দিচ্ছে।

সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে ৭৪টি মেডিকেল টিম বন্যাকবলিত এলাকায় কাজ করছে। সেনাবাহিনীর ২১ ইঞ্জিনিয়ার্সের একটি ইউনিট, জেলা পুলিশ, ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়ন, স্বাস্থ্যবিভাগ, ফায়ার সার্ভিস, বিএনসিসি, রেডক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থাও কাজ করছে। দুর্গত এলাকা থেকে জরুরি যোগাযোগের জন্য একটি (০১৭২৪৬৮৫৭৮৪) হটলাইন খোলা হয়েছে।

মৌলভীবাজার প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, নদী ভাঙনের ফলে সৃষ্ট বন্যায় ৯৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ২৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্লাবিত হয়েছে। প্রায় প্রত্যেকটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুই থেকে তিন ফুট পানির নিচে তলিয়ে আছে।

তবে পানি কমায় মৌলভীবাজারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন তিনটি উপজেলার সঙ্গে স্বাভাবিক হয়েছে সড়ক যোগাযোগ। কিন্তু শমশেরনগর-চাতলাপুর চেকপোস্ট সড়কের একটি ব্রিজ দেবে যাওয়ায় ভারতের সাথে বন্ধ রয়েছে সড়ক যোগাযোগ। কমলগঞ্জ উপজেলা এবং সিলেটের সঙ্গে এখনও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। পানি কমে যাওয়ায় দৃশ্যমান হচ্ছে ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কও। চলমান গতিতে পানি কমতে থাকলে ১ থেকে ২ দিনের মধ্যে সড়ক থেকে পানি পুরোপুরি নেমে যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা।




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: