সর্বশেষ আপডেট : ৫৭ মিনিট ১৮ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ২০ জুলাই ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের এক সঙ্গীত প্রতিভা কমল দেবনাথ কীর্ত্তনীয়া

আল-হেলাল:: আমি দিবারাত্রি খুজে বেড়াই কামালগীতি। কামালগীতি মানে গানের স¤্রাট বাউল কামাল পাশা (কামাল উদ্দিন) রচিত গান। যার জন্মস্থান সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামে। যিনি বাউল স¤্রাট শাহ আব্দুল করিম ও জ্ঞানসাগর দূর্বীণ শাহের অগ্রজ সিনিয়র গীতিকার ছিলেন। যাকে পালাগানের আসরে কেউ হারাতে পারেনি জীবদ্ধশায়। যার গানের মান ও গুন এর বিচার করা অনেকের পক্ষে সম্ভব হয়না। যিনি সৃষ্টি ¯্রষ্টা থেকে শুরু করে লোকতত্ত্বসহ সর্বতত্ত্বের উপর গান রচনা করেছেন। মাত্র ১০৫০ টি গান সংগ্রহের পর আমি মনে করেছিলাম বাউল কামাল পাশার গান সংগ্রহ করা বোধ হয় শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু না এখনও দিরাই উপজেলার আকাশে বাতাসে কামালগীতি ভেসে বেড়াচ্ছে। আজ ১৮জুন সোমবার বিকেল ৪টায় দিরাই থানা সদরস্থ হাসপাতাল রোডের কালনী ভিউ অনলাইন ওয়েবপোর্টাল অফিসে সঙ্গীত প্রতিভা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বিশিষ্ট কীর্ত্তনীয়া কমল দেবনাথ (মোবাইল ০১৭১৭-৯০৮৪৩৬) আমাকে একটি কামালগীতি উপহার দিলেন। যিনি গানটি তার বাইন ওস্তাদ নিজ গ্রামের শ্রীযুক্ত পতন বৈষ্ণব এর কাছ থেকে প্রাপ্ত হন। তার দীক্ষাগুরু শ্রী অক্ষয় মোহন ব্রজবাসী গোস্বামী যার বাড়ী শাল্লা উপজেলার নাইন্দা হরিপুর গ্রামে।

তাকে আমার সাথে পরিচয় করিয়ে দেন দিরাইয়ের আলোকিত ঐতিহাসিক গবেষক ফারুকুর রহমান চৌধুরী মাজু। এসময় অনলাইনটির সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম সর্দার ও আমার বন্ধু দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার সাবেক প্রতিনিধি দিরাই প্রেসক্লাব সভাপতি সামছুল ইসলাম সরদার খেজুর উপস্থিত ছিলেন। তাদের সামনে শিল্পী কমল দেবনাথ আমাকে শুধু গানটি দিয়েই ক্ষান্ত হননি,সাথে সাথে সুর ও তালও বলে দিলেন। কমল দেবনাথ দিরাই উপজেলার দিরাই সরমঙ্গল ইউনিয়নের শুকুরনগর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা ধরনীকান্ত দেবনাথ এর পুত্র। তার জন্ম ১৯৮৫ সালের ২০ এপ্রিল রোজ সোমবার গ্রামের বাড়ীতে।

তিনি দিরাই উচ্চ বিদ্যালয়ে মাত্র ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। মাত্র ১৫ বছর বয়সে সংসারের অভাবের তাড়নায় মাতাপিতার নির্দেশে পার্শ্ববর্তী রাঙ্গামাটিয়া গ্রামে গোপেশ দেবনাথ এর বাড়ীতে গরু রাখালের চাকরীতে ভর্তি হন। ফাল্গুন মাসের শেষ দিকে হঠাৎ একদিন একটি কীর্ত্তনীয়া দল মাঠের দিকে হেটে যাচ্ছে দেখে তিনি শখের বসে একটি গান ধরেন। গান শুনার পর এই দলটির প্রধান ওস্তাদ অতুল চন্দ্র দাশ তাকে ঢেকে কাছে নিয়ে তার জন্ম ও নাম পরিচয় জানেন। ঘটনার বিস্তারিত শুনার পর কমলকে তার গৃহকর্তার কাছে নিয়ে গিয়ে দাবী করলেন আপনাদের এই রাখাল ছেলেটিকে আমি আমার কাছে নিয়ে যেতে চাই। এর কন্ঠ ভাল আমার বিশ্বাস তাকে দিয়ে আমরা কীর্ত্তন গাওয়াতে পারবো। অতুল চন্দ্র দাস দিরাই থানার চরনারচর ইউনিয়নের ললুয়ারচর গ্রামের সংস্কৃতিসেবী রসময় দাশের পুত্র। অতুল চন্দ্র দাস নামকীর্ত্তন নামক সংগঠনের ব্যানারে কীর্ত্তনীয়া দল গঠণ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সনাতন ধর্মের নাম কীর্ত্তন প্রচার করতেন। প্রথমে ওস্তাদ অতুল চন্দ্র দাশের দলে মন্দিরা বাইনের কাজ করতেন কমল। পরে সুরকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। একপর্যায়ে নিজেই নামকীর্ত্তন গাওয়া শুরু করেন। পরে দিরাই উপজেলার চান্দপুর গ্রামের ওস্তাদ হরিমোহন দাশের কাছ থেকে লীলাকীর্ত্তণ গাওয়ার তালিম নেন। একটানা ৫ বছর দ্বিতীয় ওস্তাদের সাথে জেলায় জেলায় কীর্ত্তন গান গেয়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

২০০৪ সালের কার্তিক মাসে সর্বপ্রথম ভারতের উত্তর প্রদেশের মথুরা বৃন্দাবন দিল্লী পশ্চিমবঙ্গ নবদ্বীপসহ বিভিন্ন জায়গায় কীর্ত্তন গেয়ে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেন। ২০০৫ সালে তিনি নিত্যানন্দ পদাবলী সংঘ নামে ৯ সদস্য বিশিষ্ট একটি পৃথক দল গঠন করেন। বর্তমানে কমল নিজেই তার দলের প্রধান শিল্পী হিসেবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কীর্ত্তন পরিবেশন করছেন। নিজের কর্ম সংস্থানের পাশাপাশি দলের সকলের কর্মসংস্থানেও সহায়ক ভূমিকা পালন করছেন। এখন তিনি নিজেই কীর্ত্তন ওস্তাদ। ছাত্রী সুমিত্রা রানী পাল ও ছাত্র শ্রীবাস দাশ নামে তারও রয়েছে দুজন শিষ্য। এই শিষ্যরাও ওস্তাদ কমলের সহায়তায় নিজেরা দুটি দল গঠন করে নিজেদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি নিজেদেরকে কীর্ত্তনীয়া হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। আমি সঙ্গীত প্রতিভা কমল দেবনাথ এর সাফল্য কামনা করি। আমার বিশ্বাস দিরাইয়ের সংস্কৃতি চর্চা প্রচার ও প্রসারের ইতিহাসে একদিন কমল দেবনাথও উল্লেখযোগ্য স্থানের অধিকারী হবে। নি¤েœ তার কাছ থেকে প্রাপ্ত বাউল কামাল পাশার হরিনাম সংকীর্ত্তন নিয়ে রচিত ভজন ভক্তিমূলক গানটি উপস্থাপন করা হলো।

“হরিনাম নিলে হয় দেহশুদ্ধ,আনন্দে প্রাণ ঢেউ খেলায়
নামের গুনে অকুল সাগরে পাথরও ভাসিয়া যায়।।
জপরে মন নামের সুধা,জপলে যাবে ভবক্ষুধা
যে নামেতে বাধা আছে গৌরনিতাই নদীয়ায়।।
হনুমাণ হইয়াছেন ভক্ত নাম ধইরাছেন খুবিই শক্ত
রাম নাম তার বুকের রক্ত ছিড়িয়া সীতারে দেখায়।।
লতাপাতা পশুপঙ্কি নাম নিতে আর কেউ নাই বাকী
কামালে কয় জ্ঞানে/ধ্যানে রাখি,খুজলে সবি পাওয়া যায়”।।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক: লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: