সর্বশেষ আপডেট : ৫৮ মিনিট ১১ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ঈদের ছুটিতেও সরকারি হাসপাতালে সন্তোষজনক সেবা

নিউজ ডেস্ক:: ঈদের দিন শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর মগবাজার এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হন শোভন।সঙ্গে থাকা বন্ধুরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান।ঈদের ছুটিতেও শোভনের জরুরি চিকিৎসা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন তার স্বজনরা।

তারা জানান, ঈদের ছুটিতে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা পাওয়া যাবে কি-না, তা নিয়ে সংশয় ছিল।কিন্তু ঢামেক হাসপাতালে পৌঁছে তাদের ধারণা পাল্টে যায়। একদিন পরই তারা শোভনকে নিয়ে বাসায় ফেরেন।

ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. কিশোর সাহা বলেন, প্রতি বছরই ঈদের সময় ঢাকার রাস্তা ফাঁকা থাকায় সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে যায়।এবারও তার ব্যতিক্রম ছিল না। ঈদের ছুটির তিন দিনে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যত রোগী এসেছে, তার বেশিরভাগই ছিল সড়ক দুর্ঘটনার শিকার।

প্রতি বছরই ঈদের ছুটিতে হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক না থাকার অভিযোগ পাওয়া যায় কম-বেশি।তবে এবারের চিত্র একটু আলাদা।ঈদের ছুটিতে গত শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পঙ্গু হাসপাতালসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালগুলোতে রোগীদের সঙ্গে কথা বলে এ ধরনের অভিযোগ খুব একটা পাওয়া যায়নি।চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকার চলতি বছর ঈদের আগেই ঈদের ছুটিতে চিকিৎসা ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে কিছু নির্দেশনা দিয়েছিল।আর এর প্রভাবেই রোগীদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে।ঢামেক হাসপাতালে সরেজমিন দেখা যায়, জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। আবাসিক চিকিৎসক থেকে শুরু করে জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।

ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের তথ্যানুযায়ী, ঈদের ছুটির তিন দিনে প্রতিদিন গড়ে সহস্রাধিক রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন।ঈদের দিনে হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগে বড় অস্ত্রোপচার হয়েছে দুটি এবং ছোট অস্ত্রোপচার হয়েছে চারটি।বার্ন ইউনিটের তত্ত্বাবধানে থাকা ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, ‘সব সময় ঈদের ছুটিতে অমুসলিম চিকিৎসকদের রোস্টারে রাখা হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে এবার ছুটিতে মুসলিম জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকরাও ছিলেন। সচেতনভাবে সবার চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে।’

তবে হাসপাতালগুলোতে ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ছিল কম।অধিকাংশ রোগীই ঈদের আগে স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করতে হাসপাতাল ছেড়েছেন।ঈদের ছুটি শুরুর আগের দিন বৃহস্পতিবার বাবা সাইফুল ইসলাম এবং মা খাইরুন নেসার সঙ্গে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছে অন্তত ১৭ দিন যাবৎ চিকিৎসাধীন তামিম।মাত্র ২ বছরের শিশু তামিম ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত।

খাইরুন নেসা জানান, সবার সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে শিশু সন্তানকে নিয়ে বাড়ি যাচ্ছেন।ঈদের পর আবার আসবেন।হাসপাতালের চিকিৎসকদের অনুমতি নিয়েই তারা যাচ্ছেন।স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক আবদুর রশীদ বলেন, অনেকেই ঈদের সময়টা স্বজনদের সঙ্গে কাটাতে সাময়িক ছুটি নিয়ে বাড়ি চলে যান।তবে যেসব রোগী থেকে গেছেন তাদের চিকিৎসার কোনো ত্রুটি হচ্ছে না।

পঙ্গু হাসপাতালের সেবিকা সামছুন্নাহার বলেন, ঈদে খুব জরুরি না হলে কেউ হাসপাতালে থাকতে চায় না।প্রতি বছরই তাই ঈদ এলে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা কমে যায়।এবার ঈদের ছুটিতে সরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবা নির্বিঘ্ন রাখতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আগে থেকেই নির্দেশনা জারি করেছিল।স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম রোস্টার পদ্ধতিতে চিকিৎসা সেবা পরিপূর্ণ চালু রাখার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।


নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: