সর্বশেষ আপডেট : ২৮ মিনিট ৪৩ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ১২ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২৮ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

পানিবন্দি মানুষদের উদ্ধারে সেনাবাহিনীর তৎপরতা, বিভিন্ন স্থানে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ

পিন্টু দেবনাথ, কমলগঞ্জ:: ধলাই ও মনু নদীর একাধিক স্থানে বাঁধ ভেঙে গত পাঁচ দিনে ভয়াবহ বন্যায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। বন্যার পানিতে ডুবে শিশুসহ ৫ জন মারা গেছেন। সহস্রাধিক কাঁচা ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। পাঁচশতাধিক টিবওয়েল অকেজো হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়া প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষ চরম মানবেতরভাবে জীবন ধারণ করছেন। বন্যায় আটকা পড়া লোকদের উদ্ধারে সর্বশেষ কয়েকটি স্থানে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয় সেনাবাহিনী। সরকারি ও বেসরকারি মৎস্য প্রদর্শনী খামারসহ দেড় হাজারেরও বেশি পুকুর তলিয়ে যাওয়ায় প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে। ১৭টি আশ্রয় কেন্দ্রে ১২৫০ টি পরিবারের সদস্যদের আশ্রয় নেয়া প্রায় ছয় হাজার মানুষকে সরকারি ও বেসরকারিভাবে বিভিন্ন সংস্থা রান্নাবান্না করে ও শুকনো খাবার বিতরণ করছে। পানিবন্দি মানুষদের উদ্ধার কার্যক্রমে রোববার থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা তৎপরতা শুরু করেছেন। সোমবার (১৮ জুন) বন্যাক্রান্ত এলাকায় বিশুদ্ধ পানীয় জল, স্যানিটেশন এর যখেষ্ট অভাব রয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধিসহ সরকারি-বেসরকারিভাবে ত্রাণ কার্যক্রম চলছে।

স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ধলাই নদীর ৮টি স্থান দিয়ে ভাঙন দেখা দেয়ায় ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। বনায় কমলগঞ্জ পৌরসভা, রহিমপুর, পতনঊষার, মুন্সীবাজার, শমশেরনগর, কমলগঞ্জ সদর, আলীনগর, আদমপুর, মাধবপুর ও ইসলামপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকায় বাড়িঘরে চার থেকে পাঁচ ফুট পরিমাণ পানিতে নিমজ্জিত হয়। এসব এলাকার প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। চারদিনের বন্যার প্রবল ¯্রােতে কমলগঞ্জ উপজেলার কাঁঠালকান্দি গ্রামের আব্দুল ছত্তার (৫০) ও তার ছেলে আব্দুল করিম (২৫), আলীনগর বস্তির পরিবহন শ্রমিক সেলিম মিয়া (৩৮), শমশেরনগর ভাদাইরদেউলের প্রতিবন্ধি রমজান আলী (৪০) ও রহিমপুর ইউনিয়নের প্রতাপী গ্রামে মিছির মিয়ার দেড় বছর বয়সি শিশু সন্তান ছাদির মিয়া পানিতে ডুবে মারা যান। পানির ¯্রােতে ভারতের কৈলাশহরে যাতায়াতে শমশেরনগর-চাতলাপুর সড়কে কালভার্ট ব্রিজ ধ্বসে পড়ে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়ে। শমশেরনগর-মৌলভীবাজার, শমশেরনগর-কুলাউড়া সড়ক যোগাযোগ তিনদিন বন্ধ ছিল। আদমপুর, পৌরসভা, মুন্সীবাজার, পতনঊষার সহ বিভিন্ন এলাকায় কাঁচা, আধাকাঁচা প্রায় সহ¯্রাধিক ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। শমশেরনগর, পতনঊষার ও মুন্সীবাজার ইউনিয়ন সহ উপজেলায় ১৭টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয় এবং এসব আশ্রয় কেন্দ্রে আসা লোকদের মধ্যে সরকারি, বেসরকারি, বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যক্তি উদ্যোগে রান্না করা খাবার ও শুকনো খাবার বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। বন্যার শুরু থেকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন এলাকায় শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। তবে নৌকা ও স্পিডবোট না থাকায় বেশ কিছু পরিবার বাড়িঘরে পানিতে আটকা পড়ায় উদ্বেগ-উৎকন্ঠা বৃদ্ধি পায়। শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বন্যায় আটকা পড়া লোকদের উদ্ধারে সর্বশেষ কয়েকটি স্থানে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয় সেনাবাহিনী টিম।

এদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য, সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ ড. মো: আব্দুস শহীদ এমপি’র উদ্যোগে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান কমলগঞ্জে বিভিন্ন বন্যা দুর্গত এলাকায় শুকনো খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রাখছেন। এছাড়া কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো: জুয়েল আহমদ ও ৯টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা দুর্গতদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন। ঢাকার ব্যবসায়ী মুহিবুর রহমান, মুন্সীবাজারের ব্যবসায়ী সালাউদ্দিন, জেলা পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ হেলাল উদ্দীন, মুন্সীবাজার-রহিমপুর দরিদ্র কল্যাণ ট্রাষ্ট, কমলগঞ্জ সমাজ কল্যাণ পরিষদ, মীর্জাপুর নবীন সেবা সংঘ, মুন্সীবাজার কয়েকজন ব্যবসায়ী ও ক’জন ব্যক্তিগত উদ্যোগে অনেকেই পানিবন্দি গ্রামে গিয়ে ও আশ্রয় কেন্দ্রে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন। এদিকে উপজেলার নব্বই শতাংশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি মৎস্য প্রদর্শনী খামারসহ প্রায় ১,৫৫০টি পুকুর প্লাবিত হয়। ভেসে যাওয়া মাছ ও পোনার পরিমাণ প্রায় ৪৭০ মে.টন। খামারের অবকাঠামোগত ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা এবং মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় চার কোটি বিশ লক্ষ টাকা বলে মৎস্য অফিস সূত্র নিশ্চিত করে। এছাড়া প্রায় তিন হাজার হেক্টর আউশ ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক পানিতে ডুবে শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ পর্যন্ত উপজেলায় সহ¯্রাধিক কাঁচা ঘর সম্পূর্ণ ও আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের ঘর মেরামতে সরকারিভাবে বরাদ্ধ প্রদান করা হবে। তিনি আরও বলেন, নিহত পরিবারদের ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া সবকটি আশ্রয় কেন্দ্র ও বন্যাপ্লাবিত লোকদের মধ্যে অব্যাহতভাবে শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। সার্বিকভাবে বন্যা পরিস্থিতি ও ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরো জানান, বন্যাক্রান্ত কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের রোববার থেকে মেডিক্যাল টিম পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন উজানে ভারতীয় অংশে বৃষ্টিপাত না হলে বন্যা পরিস্থিতির পর্যায়ক্রমে উন্নতি হবে।




এ বিভাগের অন্যান্য খবর




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: