সর্বশেষ আপডেট : ১ মিনিট ৫৭ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ঈদে বেড়ানোর জন্য প্রস্তুতি সিলেট

স্টাফ রিপোর্টার ::
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে পর্যটক বরণে প্রস্তুত সিলেটের পর্যটন স্পটগুলো। প্রকৃতিকন্যা জাফলং, নয়নাভিরাম বিছনাকান্দি, পাহাড়ঘেরা পান্তুমাইর মায়াবতী ঝর্ণা, নীল নদীখ্যাত জৈন্তাপুরের লালাখাল সারী নদী মেঘালয় ঘেঁষা চা বাগানবেষ্টিত শ্রীপুরসহ সবকটি পর্যটন স্পট ঈদে আগত দর্শনার্থী বরণে প্রস্তুত রয়েছে। বরাবরের মতো আসছে ঈদেও এসব স্পটে পর্যটক দর্শনার্থীদের ঢল নামবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে আবাসিক হোটেল, মোটেল, রেস্টহাউস, গেস্টহাউস এবং বিভিন্ন বাংলোর ব্যবসায়ীরা মনে করছেন এবারের ঈদে বৃষ্টির আশঙ্কা বেশি রয়েছে। অতিবৃষ্টি হলে পর্যটকরা সিলেটে কম আসবেন এবং ব্যবসায় ভাটার আশঙ্কা রয়েছে। তবুও পর্যটন স্পটগুলোর সবকটি আবাসিক হোটেল, রিসোর্ট সেজেছে বর্ণিল সাজে। ছিনতাই, ডাকাতি, মাদক, থ্রি-কার্ড জুয়ার দান থেকে সুরক্ষা ও পর্যটকদের ভ্রমণ আনন্দঘন করতে গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর থানা ও ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ। পর্যটন স্পট সমূহে পুলিশি টহল বাড়িয়ে নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সিলেটের জেলা প্রশাসক নূমেরি জামান বলেন, ‘ঈদের প্রথম এক সপ্তাহ পর্যটক সপ্তাহ ষোষণা করা হয়েছে। এই এক সপ্তাহ জাফলং গোয়াইনঘাটসহ বেশ কয়েকটি স্পটে পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকবে। বিভিন্নস্থানে স্বেচ্ছাসেবী দল থাকবে। এছাড়া ছবি তোলা থেকে শুরু করে প্রত্যেকটি ব্যাপারে মূল্য নির্ধারন করে দেওয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে এবার কয়েক লাখ মানুষ সিলেটের পর্যটন কেন্দ্রগুলো ভ্রমণ করবেন। তিনি বলেন, অতিবৃষ্টি হলে বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে না। পানি নেবে যাবে। রাস্তাঘাট এ সময়ের মধ্যে ঠিক করা না গেলেও আমরা পর্যটকদের শতভাগ নিরাপত্তার ব্যাপারে যতেষ্ট উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা আশাবাদী এবার পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ভালো ব্যবসা হবে।’
সিলেট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ মো. মাহবুবুল আলম (ডিএসবি ও গণমাধ্যম) জানান, ‘ঈদে পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে জেলা পুলিশ বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এরমধ্যে যাতায়াতের রাস্তায় বিভিন্নস্থানে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে চেকপোস্ট, পর্যটন এলাকায় সাদা পোশাকে পুলিশ এবং পোশাকধারী পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া ট্যুরিস্ট পুলিশ এবং হাইওয়ে পুলিশ তাদের দায়িত্ব পালন করবেন।’
অপরদিকে, পর্যটনকেন্দ্রে রেস্টুরেন্টগুলোও হরেক রকমের রেসিপি’র ঘোষণা দিচ্ছে এবারের ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে। পর্যটন এলকা সমূহে স্ন্যাকবার, টি-ক্যাফেসহ গড়ে ওঠা দোকানগুলাও উৎসবের পাশাপাশি বিকিকিনির জন্য তৈরি হয়েছে। তবে বল্লাঘাট পিকনিক স্পটের ব্যবসায়ীরা এবারের ঈদে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের ভাঙা চোরা রাস্তার কারণে ঈদকেন্দ্রীক ব্যবসায় থেকে বঞ্চিত হবেন বলে জানিয়েছেন।
গোয়াইনঘাটের ফখরুল ইসলাম জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে উত্তর সিলেটের সবকটি পর্যটন স্পট পর্যটক বরণে এখন প্রস্তুত। জৈন্তাপুরের সাংবাদিক রেজওয়ান সাব্বির জানান ঈদ, পূজাসহ বিভিন্ন উৎসবে উত্তর সিলেটের পর্যটন এলাাকাগুলোতে ঢল নামে পর্যটক দর্শনার্থীদের। কিন্তু এসব পর্যটন স্পটে সরকারের ব্যাপক রাজস্ব সম্ভাবনা থাকলেও এক্ষেত্রে নেই সরকারি প্রয়োজনীয় পৃষ্ট পোষকতা। এখানকার পর্যটনখাতে সরকারি উদ্যোগে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ হলে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা এসব পর্যটন স্পট থেকে সরকারের বছরে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হবে বলে আমি মনে করি।
ঈদে কোথায় যাবেন?
হযরত শাহজালাল (র.) ও হযরত শাহপরাণ (রা.) এর স্মৃতি বিজিড়ত এ পূন্যভুমিতে দেশি বিদেশি অগনিত ভক্তকূলের আগমন ঘটে। মহাপ্রভু শ্রী চৈতন্যদেবের বাড়ি এবং জৈন্তপুরের প্রাচীন রাজবাড়ীর ধংস্বাবিষেশ, জৈন্তারাজার কাহিনী এ অঞ্চলের মানুষের কাছে এক অমূল্য সম্পদ। ধমীর্য় গুরুত্বের দিক হতে সিলেটে যে রকম অন্যন্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ক্ষেত্রেও তেমনি।
সিলেটের পিয়াইন নদীর অববাহিকায় গড়ে ওঠা জাফলং এর অপূর্ব সৌন্দর্য বিমহিত করে পর্যটকদের। সারি নদীর ধার ঘেষে লালাখাল এর স্বচ্ছ জলরাশির প্রেমে পড়তে যেকোন মানুষ বাধ্য। ভোলাগঞ্জ এর পাথরকোয়ারীর অপরূপ রুপে যেকোনো পর্যটক আনন্দ পেতে পারে। উপমহাদেশের প্রথম চা বাগান মালনিছড়া পর্যটকদের কাছে আরেক বিশ্ময়। এছাড়াও সুরমা নদীর উপরে কিন ব্রিজ না দেখলে সিলেট ভ্রমণ অনেকটাই খালি থেকে যায়। সিলেট নাম উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে কিন ব্রিজের নামটি বেশ গর্বের সঙ্গেই উচ্চারিত হয়। সিলেটের প্রবেশদ্বার সিলেটের কিন ব্রিজ । সুরমা নদীর ওপর স্থির দাঁড়িয়ে এই ব্রিজ পথচারীদের জানান দেয় যুগ যুগান্তরের নানা রঙের ইতিহাসের।
কিন ব্রিজ : ইতিহাস থেকে ব্রিজটি সম্পর্কে নানা কথা জানা গেছে। গত শতকের তিরিশের দশকের দিকে আসাম প্রদেশের গভর্ণর ছিলেন মাইকেল কিন। তিনি তখন সিলেট সফরে আসেন। তার স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতেই এ ব্রিজটি নির্মাণ হয়। ইতিহাসবিদদের মতে, সে সময় আসামের সাথে যোগাযোগের মাধ্যম ছিল ট্রেন। সঙ্গত কারণেই সুরমা নদীতে ব্রিজ স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। রেলওয়ে বিভাগ ১৯৩৩ সালে সুরমা নদীর ওপর ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। ১৯৩৬ সালে ব্রিজটি আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হয়। ব্রিজটির নামকরণ করা হয় গভর্ণর মাইকেল কিনের নামে। কিন ব্রিজ লোহা দিয়ে তৈরি। এর আকৃতি ধনুকের ছিলার মত বাঁকানো। ব্রিজটির দৈর্ঘ্য ১১৫০ ফুট। প্রস্থ ১৮ ফুট। ব্রিজ নির্মাণে তখনকার দিনেই ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৫৬ লাখ টাকা।
হজরত শাহজালাল (র:) এর মাজার : হজরত শাহজালাল (র.) ছিলেন উপমহাদেশের একজন বিখ্যাত দরবেশ ও পীর। তিনি ছিলেন ওলিকুল শিরোমণি। সিলেট অঞ্চলে তার মাধ্যমেই ইসলামের প্রসার ঘটে। সিলেটের প্রথম মুসলমান শেখ বুরহান উদ্দিনের ওপর রাজা গৌর গোবিন্দের অত্যাচার এবং এর প্রেক্ষিতে হজরত শাহজালাল (র.) ও তাঁর সফরসঙ্গী ৩৬০ আউলিয়ার সিলেট আগমন ইতিহাসের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এ কারণে সিলেটকে ৩৬০ আউলিয়ার দেশ বলা হয়। কেউ কেউ সিলেটকে পূণ্যভূমি অভিধায়ও অভিহিত করেন।
লালাখাল : স্বচ্চ নীল জল রাশি আর দুধারের অপরূপ সোন্দর্য, দীর্ঘ নৌ পথ ভ্রমনের সাধ যেকোন পর্যটকের কাছে এক দূর্লভ আর্কষণ। তেমনি এক নির্জন মনকাড়া স্থান লালাখাল। বাংলাদেশের সবোর্চ্চ বৃষ্টিপাতের স্থান এবং রাতের সৌন্দর্যে ভরপুর এই লালাখাল সিলেট জেলার জৈন্তাপুর উপজেলার সন্নিকটে অবস্থিত। সারি নদীর স্বচ্চ জলরাশির উপর দিয়ে নৌকা অথবা স্পীডবোটে করে আপনি যেতে পারেন লালা খালে। যাবার পথে আপনির দুচোখ সৌন্দর্য দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়ে যাবেন কিন্ত সৌন্দর্য শেষ হবে না। ৪৫ মিনিট যাত্রা শেষে আপনি পৌছে যাবেন লালখাল চা বাগানের ফ্যাক্টরি ঘাটে। মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকবেন নদীর পানির দিকে। কি সুন্দর নীল, একদম নীচে দেখা যায়। ভারতের চেরাপুঞ্জির ঠিক নিচেই লালাখালের অবস্থান। চেরাপুঞ্জি পাহাড় থেকে উৎপন্ন এই নদী বাংলাদেশের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত।’
জাফলং : সিলেট নগরী থেকে ৬২ কিলোমিটার উত্তর পূর্ব দিকে গোয়াইনঘাট উপজেলায় জাফলংয়ের অবস্থান। জাফলংয়ে শীত ও বর্ষা মওসুমের সৌন্দর্যের রূপ ভিন্ন। বর্ষায় জাফলংয়ের রূপ লাবণ্য যেন ভিন্ন মাত্রায় ফুটে উঠে। ধূলি ধূসরিত পরিবেশ হয়ে উঠে স্বচ্ছ। স্নিগ্ধ পরিবেশে শ্বাস-নিঃশ্বাসে থাকে ফুরফুরে ভাব। খাসিয়া পাহাড়ের সবুজাভ চূড়ায় তুলার মত মেঘরাজির বিচরণ এবং যখন-তখন অঝোরধারায় বৃষ্টি পাহাড়ি পথ হয়ে উঠে যেন এক ভিন্ন শিহরণ। সেই সঙ্গে কয়েক হাজার ফুট উপর থেকে নেমে আসা সফেদ ঝর্ণাধারার দৃশ্য যে কারোরই নয়ন জুড়ায়।
ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, হাজার বছর ধরে জাফলং ছিল খাসিয়া জৈন্তা-রাজার অধীন নির্জন বনভূমি। ১৯৫৪ সালে জমিদারী প্রথা বিলুপ্তির পর খাসিয়া জৈন্তা রাজ্যের অবসান ঘটে। তারপরও বেশ কয়েক বছর জাফলংয়ের বিস্তীর্ণ অঞ্চল পতিত পড়ে রয়েছিল। ব্যবসায়ীরা পাথরের সন্ধানে নৌ পথে জাফলং আসতে শুরু করেন। পাথর ব্যবসার প্রসার ঘটতে থাকায় গড়ে উঠে নতুন জনবসতিও। আশির দশকে সিলেটের সাথে জাফলং এর ৫৫ কিলোমিটার সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে জাফলংয়ের নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের কথা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের পাশাপাশি প্রকৃতিপ্রেমীরাও ভিড় করতে থাকেন জাফলংয়ে। জাফলং এখন দেশের সেরা পর্যটন স্পট।




এ বিভাগের অন্যান্য খবর




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: