সর্বশেষ আপডেট : ৩০ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ১৫ অগাস্ট ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩১ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

যেখানে লাঠিই নারীদের রক্ষাকবচ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: ইথিওপিয়ার ওরোমো জাতিগোষ্ঠীর নারীদের রক্ষাকবচ হচ্ছে লাঠি। তারা লাঠি হাতে নিয়ে চক্রাকারে ঘুরছে আর নিজেদের ভাষায় গান গাইছে। মুখ দিয়ে বিচিত্র এক শব্দ করছে। মাঝখানে একজন নারী বসে আছেন। এই হচ্ছে তাদের বহু পুরনো ঐতিহ্য। আর এই ঐতিহ্য তাদের নানা রকম নির্যাতন বিশেষ করে ডমেস্টিক ভায়োলেন্স থেকে রক্ষা করেছে।

এই লাঠির পিছনে রয়েছে বহু পুরনো ইতিহাস। ওরোমো নারীদের যখন বিয়ে হয় তখন তারা এই কাঠের লাঠিটা পেয়ে থাকে বাবা-মায়ের কাছ থেকে। সিনকিউ নামের এই লাঠিকে ওই নারী এবং তার পরিবারকে রক্ষার প্রতীক হিসেবে ধরা হয়।

এ সম্পর্কে ওরোমো সংস্কৃতির বিশেষজ্ঞ সারা ডুবে বলেন, ‘এখানকার ঐতিহ্যবাহী যে আইন আছে তাতে বলা হয়েছে, একজন বিবাহিত নারীকে অপমান বা কোন ধরণের নির্যাতন করা যাবে না। এটা একটা অপরাধ।’

ধরুন,একজন পুরুষ লাঠি হাতে একটি ঘরের মধ্যে ঢুকেছে। উদ্দেশ্য তার স্ত্রীকে তিনি মারবেন। ঠিক সেই মুহূর্তে ওই নারীটি তার রক্ষাকবচ সিনকিউ নিয়ে বের হয়ে আসবেন। আর মুখে উচ্চারণ করতে থাকবেন এই শব্দ। এই শব্দ করার উদ্দেশ্য হচ্ছে, যাতে আশেপাশের অন্যান্য নারীরাও জানতে পারে যে তার উপর নির্যাতন হয়েছে বা হতে চলেছে। সাথে সাথে পাড়া-প্রতিবেশী নারীদের মধ্যে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়বে এবং তারাও তাদের সিনকিউ নিয়ে দৌড়ে চলে আসবেন ওই নারীটির কাছে। তখন স্বামীর নির্যাতনের মুখে থাকা নারীটি মাঝখানে বসে পরবেন। আর তাকে ঘিরে অন্য নারীরা ঘুরতে থাকবেন আর গান গাইতে থাকবেন। এই প্রথার অর্থ হচ্ছে, ওই মেয়েটিকে এই বলে সাহস দেয় যে, তার কোনো ভয় নেই। তারা তাকে সব রকমের বিপদ থেকে রক্ষা করবে।

ইথিওপিয়ার ওরোমো নারীদের জন্য প্রাচীন যে গাডা ব্যবস্থা আছে তারই একটি অংশ এই সিনকিউ বা লাঠি প্রথা। ওরোমো সংস্কৃতির বিশেষজ্ঞ সারা ডুবে বলেন, যখন এই গাডা সিস্টেম চালু করা হয় তখন পুরুষদেরকে বিভিন্ন অস্ত্র দেয়া হত যাতে করে তারা পশু শিকার করতে পারে এবং শত্রুর বিরুদ্ধে লড়তে পারে। আর মেয়েদের হাতে দেয়া হয় সিনকিউ, যাতে তারা তাদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য লড়াই করতে পারে।

এদিকে নারীদের এই শব্দ শুনে গ্রামের মুরুব্বিরা চলে আসেন একটা বিচার বসানোর জন্য। চলতে থাকে শুনানি। নারীরা বলেন, ‘মেয়েটিকে মারা ওই পুরুষটির মোটেই উচিত হয় নি। তার স্বামীর বিচার না করা পর্যন্ত আমরা শান্ত হব না।’

শুনানির পর গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠরা তাদের রায় শোনান। রায় অনুযায়ী নারীর স্বামী সবার সামনে তার কাছে ক্ষমা চাইবেন। একই সাথে সবার সামনে প্রতিজ্ঞা করবেন আর কখনো তিনি তার স্ত্রীকে মারবেন না। সালিশিতে আরো বলা হয়, যদি সে এর ব্যতিক্রম করে তাহলে ভবিষ্যতে তাকে আরও কঠিন শাস্তি পেতে হবে।

ওরোমো সমাজের বয়োজ্যেষ্ঠরা মনে করেন, ‘নারীরা কখনো এসব ক্ষেত্রে মিথ্যা বলেন না।’এই সম্প্রদায়েরই এক প্রবীণ ব্যক্তি জি আললাক গুই বলেন,‘ঈশ্বর সব সময় তাদের পাশে থাকে যারা মিথ্যা বলেন না। তারা এই ঐতিহ্যকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম নিয়ে যেতে চান।’

বিয়ের সময় মেয়ের বাবা এই সিনকিউ নামের লাঠিটি তৈরি করেন। আর মেয়ের মা সেটা মেয়ের হাতে তুলে দেন।ওই গোত্রের নারী গারবি তাফিসি বলছেন, ‘এই লাঠিটা আমি আমার মায়ের কাছ থেকে পেয়েছি। আমি বিষয়টি নিশ্চিত করবো যাতে এটা আমি আমার মেয়ের কাছে আমি পৌঁছে দিতে পারি।’

সূত্র: বিবিসি বাংলা

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: