সর্বশেষ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে
শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বড়লেখায় ভূমির শ্রেণী পরিবর্তন করে রেজিষ্ট্রী : লাখ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকি

আব্দুর রব, বড়লেখা:: মৌলভীবাজারের বড়লেখায় অসাধু দলিল লেখক ও সাব-রেজিষ্ট্রারের যোগসাজসে দলিল রেজিষ্ট্রেশনে লাখ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে। এ সিন্ডিকেট সরকারী রাজস্ব ফাঁকি দিতে ভুয়া নামজারী পর্চা তৈরী করে ভুমির শ্রেণী পরিবর্তন করছে। সরকারকে ঠকিয়ে এ চক্র নিজেরা লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিলেও তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা না নেয়ায় রাজস্ব ফাঁকিতে তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তবে সাব-রেজিষ্ট্রার রফিকুল ইসলাম রাজস্ব ফাঁকির ঘটনায় তার যোগসাজসের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বড়লেখা পৌরশহরের মহুবন্দ মৌজায় বাড়ি শ্রেণীর প্রতি শতাংশ ভুমির সরকার নির্ধারিত মূল্য ৩ লাখ ২৭ হাজার ৮৬৯ টাকা। ছাড়াবাড়ি শ্রেণীর প্রতি শতাংশের মূল্য ৫ হাজার ৫৫৬ টাকা। ভুমির দলিল রেজিষ্ট্রেশনে এ মূল্যের ওপরই ক্রেতাকে রাজস্ব প্রদান করতে হয়। জুড়ী উপজেলার তালতলা গ্রামের মৃত সোনা মিয়ার ছেলে তাজউদ্দিন এ মৌজার আরএস দাগ নং ১৩৪ থেকে ২৪ শতাংশ বাড়ি শ্রেণীর ভুমি প্রায় কোটি টাকায় বড়লেখা উপজেলার বর্নি ইউনিয়নের নোয়াগাও গ্রামের মৃত হাজী আব্দুস সত্তারের ছেলে খান বাবুল ফারুক উদ্দিনের নিকট বিক্রি করেন। সরকারী মুল্য তালিকা অনুযায়ী এ ভুমির মূল্য প্রায় ৭৯ লাখ টাকা। বড়লেখা সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসের তালিকাভুক্ত দলিল লেখক নিপেন্দ্র কুমার নাথ বাড়ি শ্রেণীর এ ভুমিকে ছাড়াবাড়ি শ্রেণী দেখিয়ে গত ৯ মে মাত্র সাড়ে ৩১ লাখ টাকা মূল্য ধরে দলিল রেজিষ্ট্রী করেন (দলিল নং-১৬১৫)। এ ক্ষেত্রে প্রায় পৌনে ৫ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকির ঘটনা ঘটেছে। মাত্র ৫ মাস পূর্বে একই দাগ ও খতিয়ানের ৬ শতাংশ ভুমি বাড়ি শ্রেণী উল্লেখ করে ১৯ লাখ ৬৮ হাজার টাকায় রেজিষ্ট্রী করা হলেও রহস্যজনক কারণে সাব-রেজিষ্ট্রার রফিকুল ইসলাম অপর অংশের ২৪ শতাংশ ভুমি ছাড়াবাড়ি হিসেবে রেজিষ্ট্রেশন করায় দুর্নীতিতে তার যোগসাজস নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

উপজেলা সাব-রেজিষ্ট্রার রফিকুল ইসলাম অনিয়ম-দুর্নীতির সাথে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, বাড়ি শ্রেণীকে জালিয়াতির মাধ্যমে ছাড়াবাড়ি করার বিষয় তিনি জানতেন না। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই রাজস্ব ফাঁকির ঘটনা ঘটেছে। অবগত হওয়ার পরই তিনি দলিল লেখকের বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। অবশ্যই ফাঁকি দেয়া রাজস্ব আদায় করা হবে।

দলিল লেখক নিপেন্দ্র কুমার নাথ জানান, তিনি ভুয়া পর্চা তৈরী করেননি। ভুমি ক্রেতা খান বাবুল ফারুক উদ্দিন যে পর্চা ও দলিলপত্র দেন সেগুলো অনুযায়ী তিনি দলিল লিখে ফি নিয়েছেন মাত্র। কোন অনিয়ম, জাল জালিয়াতি ও রাজস্ব ফাঁকির সাথে তিনি জড়িত নন।




এ বিভাগের অন্যান্য খবর




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: