সর্বশেষ আপডেট : ১ মিনিট ৫০ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

দুর্নীতি কমাতে স্বজনপ্রীতি বন্ধে আইন হচ্ছে

নিউজ ডেস্ক:: স্বজনপ্রীতির কারণেই দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি হয়।এটি বন্ধ হলে দুর্নীতিও কমে যাবে।এমন ভাবনা থেকেই সরকারি প্রকল্পসহ অন্যান্য কাজে স্বজনপ্রীতি বন্ধে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, স্বজনপ্রীতি বন্ধে ‘স্বার্থ সংঘাত প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনা আইন’ শিরোনামে আইনের একটি খসড়া যৌথভাবে তৈরি করেছে আইন কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।জনস্বার্থে এটি পাসের সুপারিশ করে খসড়াটি আগামী কিছু দিনের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পেশ করা হবে।

দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ সমকালকে বলেন, স্বজনপ্রীতিই দুর্নীতির ক্ষেত্র তৈরি করে।স্বজনপ্রীতি বন্ধ করা গেলে দুর্নীতির রাস্তাগুলোও বন্ধ হবে।সরকারি কাজে স্বজনপ্রীতি রোধ করার ক্ষেত্রে বর্তমানে কোনো আইন ও বিধি-বিধান নেই।তাই এটাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যায় না।আইনটি প্রণয়ন করা হলে স্বজনপ্রীতিকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে আমলে নেওয়া যাবে।একই সঙ্গে অপরাধীদের আইনের মুখোমুখি দাঁড় করানো সম্ভব হবে।

দুদক মহাপরিচালক (আইন) মঈদুল ইসলাম সমকালকে বলেন, দেশে এ ধরনের আইনের ভাবনাটাই নতুন।দুদকই এর স্বপ্নদ্রষ্টা।আইনটি যাতে দুদকের তফসিলভুক্ত হয়, খসড়ার সুপারিশে সেটি উল্লেখ করা হয়েছে।আইনটি হলে জনগণ ও দেশের স্বার্থ রক্ষা পাবে।জানা গেছে, আইনের খসড়াটি বর্তমানে দুদকের কাছে রয়েছে। এটির বিভিন্ন ধারা-উপধারা সূক্ষ্ণভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দুদক সূত্র জানায়, সরকারের বড় বড় প্রকল্পে ঠিকাদার বাছাই, নিয়োগ ও কার্যাদেশের ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি বন্ধের বিষয়টি খসড়া আইনে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।সরকারের যে কোনো প্রকল্প ও ঠিকাদার বাছাই কমিটি মূলত সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়েই গঠিত হয়। বিশেষ ক্ষেত্রে ওইসব কমিটিতে সরকারের বাইরে এক বা একধিক বিশেষজ্ঞকেও নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে।

খসড়া আইনে বলা হয়, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যদের কোনো বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়-স্বজন বা পরিচিত কেউ সংশ্নিষ্ট প্রকল্পের টেন্ডারে অংশ নিতে পারবে না। এদের মধ্যে কেউ অংশ নিলে স্বজনপ্রীতির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে এই স্বজনপ্রীতিই ভয়াবহ দুর্নীতিতে রূপ নেয়।বর্তমানে প্রকল্প ও সরকারি স্বার্থসংশ্নিষ্ট কাজে স্বজনপ্রীতির ঘটনা ঘটছে অহরহ।এ কারণে অনিয়ম ও দুর্নীতি হচ্ছে অবাধে। এতে জনগণের করের টাকা নয়ছয় হচ্ছে।

আশা করা হচ্ছে, আইনটি হলে সরকারি কাজে স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ হবে।এ ক্ষেত্রে দুর্নীতি বন্ধের ভাবনা থেকে দুদকই প্রথমে আইনের খসড়াটি তৈরির জন্য আইন কমিশনকে অনুরোধ জানিয়েছিল।আইনের খসড়া তৈরির ক্ষেত্রে দুদক চেয়ারম্যান ও দুদকের আইন শাখা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বলে জানা গেছে।

খসড়ায় বলা হয়, স্বজনপ্রীতির কারণে সরকারের বড় বড় প্রকল্পের কাজে কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না।একই কারণে প্রকল্প বা অন্যান্য কাজের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধি-বিধানগুলো প্রয়োগ হয় না।অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাও নেওয়া হয় না।দুর্নীতি রোধ করারও কেউ থাকে না।

দুদক সূত্র জানায়, স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে অযোগ্যরা নিয়োগ ও কাজ পায়। এ কারণে কাজও মানসম্পন্ন হয় না।স্বজনপ্রীতি না হলে যোগ্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান নিয়োগ পাবে, কাজ পাবে।কাজও হবে মানসম্পন্ন।এতে দুর্নীতির সুযোগ সংকুচিত হবে।

সরকারের কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের ঘনিষ্ঠজনরা টেন্ডারে অংশ নিতে পারবে না- এই বিষয়টি খসড়ায় অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বলা হয়েছে।স্বজনদের মধ্যে কেউ অংশ নিলে কমিটি থেকে সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তাকে সরে আসতে হবে।স্বেচ্ছায় কমিটি থেকে সরে না এলে ওই কর্মকর্তা ও টেন্ডারে অংশ নেওয়া ওই ব্যক্তি উভয়েই স্বজনপ্রীতির অভিযোগে অভিযুক্ত হবেন।

দুদকের একজন পদস্থ কর্মকর্তা বলেন, মানুষ যাতে ধারণা করতে না পারে যে,কমিটির কোনো কর্মকর্তার জন্য টেন্ডারে অংশ নেওয়া কেউ ঠিকাদারি বা অন্য কোনো কাজ পেয়েছে।এ ধরনের ধারণা বন্ধ হওয়া দরকার। দুদকের কাজের অভিজ্ঞতাই এ ধরনের আইন প্রণয়নের ভাবনার জন্ম দিয়েছে।স্বজনপ্রীতির সুযোগ একেবারেই বন্ধ করতে এ ধরনের একটি আইন খুবই জরুরি।কারণ স্বজনপ্রীতিও দুর্নীতির অংশ।

খসড়ায় আরও বলা হয়, আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধে মামলা করা হবে।অপরাধ প্রমাণিত হলে ৬-৭ বছরের জেল, অর্থদণ্ড ও কোনো কোনো ক্ষেত্রে উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রাখা হয়েছে।







নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: