সর্বশেষ আপডেট : ২ মিনিট ১৬ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ভূত গ্রাম!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: যতদূর চোখ যায় শুধু সবুজ আর সবুজ। ঘরবাড়ি, দালান, উঠান থেকে রাস্তাঘাট সবই ঢেকে গিয়েছে ঘন লতাপাতায়। রাস্তার দু’ধারে মাথা উঁচু করে আছে আঙুরলতা। চীনের শেংশান দ্বীপে অবস্থিত জনমানব শূন্য ওই গ্রামটিকে বলা হয় ‘ভূত গ্রাম’।

সাংহাই উপকূল থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দূরত্বে শেংশান দ্বীপের ছোট্ট গ্রাম হাওটাওয়ান। সাংহাই থেকে জলপথে গ্রামটিতে যেতে সময় লাগে পাঁচ ঘণ্টার মতো। পুরোপুরি সবুজে ছাওয়া গ্রামটি দীর্ঘদিনই ছিল লোকচক্ষুর আড়ালে।

গ্রামটির ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট সবই সবুজ গাছপালায় ঢেকে গিয়েছে। বিশ্ব উষ্ণায়ণ ও মাত্রা ছাড়া দূষণ যখন সবুজ প্রকৃতিকে ধীরে ধীরে গ্রাস করে নিচ্ছে, এই রকম একটা গ্রামের ছবি দেখে বিস্ময়ে হতবাক হয়েছে পুরো বিশ্ব। চারদিকে পাহাড়ে ঘেরা গ্রামটি এক সময় পাহাড় কেটেই তৈরি করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। ছোট ছোট মাটির বাড়িগুলিও পাহাড়ের ঢাল বেয়ে সাজানো।

village

গ্রামটির আয়তন প্রায় ৫শ বর্গ কিলোমিটার। এক সময় প্রায় তিন হাজার মানুষের বাস ছিল এই গ্রামে। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন পেশায় জেলে। কমপক্ষে ৬শ পরিবারের বাস ছিল এই গ্রামে।

১৯৫০ সালে পাহাড় কেটে গ্রামটি তৈরি করা হয়। শহরাঞ্চল থেকে অনেকটাই দূরে প্রান্তিক এই গ্রামটিতে যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল একেবারেই অনুন্নত। সেই সঙ্গে খাবার ও পানীয় জলের জন্যও গ্রামবাসীদের অনেক দূরে পাড়ি দিতে হত।

একদিকে পাহাড়ে ঘেরা রুক্ষ পরিবেশ, অন্যদিকে জীবনধারণের নানা অসুবিধার মুখোমুখি হয়ে একে একে গ্রামবাসীরা তাদের ভিটামাটি ছাড়তে শুরু করেন।কাজের সূত্রেও জেলে পরিবারের অনেকে তাদের বাড়ি-ঘর ছেড়ে শহরে পাড়ি দেন।

village

১৯৯০ সাল নাগাদ হাতেগোনা কয়েকটি পরিবার ছাড়া পুরো গ্রামই প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ে। বেশিরভাগ বাড়িই পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে থাকে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পরিত্যক্ত বাড়িগুলিতে ধীরে ধীরে ডালপালায় বিস্তার করতে শুরু করে গাছগাছালি। সমস্ত বাড়িগুলির গা বেয়ে উঠতে থাকে আঙুর গাছ। এক সময় দেখা যায় গোটা গ্রামটিই সবুজে আবৃত হয়ে গেছে। ঘরবাড়ি, দালান, উঠান কোনও কিছুই বাকি নেই।

গ্রামের আদি বাসিন্দাদের দাবি, উপযুক্ত খাদ্য, পানীয়, যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবেই তারা শহরে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল গ্রামটি। যারা থেকে গিয়েছিলেন তারাও অনেকটা দূরে পাহাড়ের উপর আশ্রয় নিয়েছিলেন। লোকজনের বাস না থাকায় গ্রামটির নাম হয়ে যায় ‘ভূত গ্রাম’।

প্রকৃতির কোলে হারিয়ে গিয়ে গ্রামটিও এক সময় চলে যায় লোকচক্ষুর আড়ালে। ২০১৫ প্রথম এই গ্রামের খোঁজ পান চীনের এক তরুণ ফোটোগ্রাফার কুইং জিয়ান। তিনিই প্রথম এই গ্রামের বেশ কিছু ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করেন। সবুজে ছাওয়া এমন গ্রাম দেখে অবাক হন সবাই।

village

পরবর্তীকালে গবেষণার কাজে বা পর্যটনের জন্য, বহু মানুষের পা পড়ে এই গ্রামে। খোঁজ শুরু হয় এক সময় গ্রামে বসবাস করা পরিবারদের। ছবি এবং সোশ্যাল মিডিয়ার সূত্র ধরে রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে যায় হাওটাওয়ান।

গ্রামটি নিয়ে প্রথম মুখ খোলেন ওয়াং পরিবার। সাতাশ বছর বয়সী ওয়াং জানিয়েছেন, তিনি ও তাঁর পরিবার যখন গ্রাম ছাড়েন তখন তার বয়স ছিল মাত্র পাঁচ বছর। কাজের সন্ধানেই গ্রাম ছেড়ে চলে যায় তার পরিবার। এখন তাদের ছোট্ট বাড়িটি নাকি আঙুরলতায় ছেয়ে গেছে।

একই অভিজ্ঞতা ঝু মান্ডিরও। তিনি জানিয়েছেন, পাহাড়ের ঢালে তাদের তিনতলা বাড়িটি সবুজ লতাপাতায় ভরে গেছে। কাঠের দরজা ভেঙে ডালপালা মেলেছে আঙুর গাছের সারি।

village

তবে, গ্রামটিতে এখনও সামান্য কিছু লোক বাস করেন। তারা পাহাড়ের উপর নিজেদের জন্য আলাদা ঘর বানিয়ে নিয়েছেন। এমনই একজন বাষট্টি বয়সী এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, গ্রামটিতে এক সময় বহু মানুষের বসবাস ছিল। এখন কান পাতলে গাছপালার শব্দ ছাড়া আর কিছুই শোনা যায় না।

তবে, ইদানীং গ্রামটিতে পর্যটকদের আনাগোনা বেড়েছে। এমনই একজন বাইশ বছর বয়সী কলেজ ছাত্রী হুয়াং ডান বলেন, চারদিকে যখন গাছপালা কেটে ঘরবাড়ি গড়ে তুলছে মানুষ, সেই সময়ে এমন একটা জায়গার খোঁজ পাওয়াটা সত্যিই বিস্ময়কর। তার কথায়, এখানে এসে মনে হচ্ছে শুরু থেকেই জায়গাটা প্রকৃতিরই ছিল। মানুষ চলে গিয়েছে, প্রকৃতি আবার তার ঠাঁই ফিরে পেয়েছে।

media

পুরো গ্রামটিরই রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব এখন সরকারের হাতে। পর্যটন স্থল হিসেবেই হাওটাওয়ানের পরিচিতি বেড়েছে। আগে বিনামূল্যে গ্রামে ঘোরার সুযোগ করে দেওয়া হলেও বর্তমানে মাথা পিছু ৫২৬ টাকা টিকিটের দাম ধার্য করেছে কর্তৃপক্ষ।




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: