সর্বশেষ আপডেট : ৪ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সিলেটে জমেছে ঈদ বাজার: দিনে প্রচন্ড গরম,তাই রাতে ক্রেতাদের ভিড়

জীবন পাল:: দিনে প্রচন্ড গরম আবহাওয়ার কারনে ঈদ বাজারে ক্রেতাদের ভিড়টা তেমন হচ্ছেনা। তবে রাতে আবহাওয়া ঠান্ডা থাকার কারনে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে।

এবারের ঈদ ফ্যাশনে তারুণ্য মজেছে প্রিন্ট শার্ট এবং টু-পার্ট গাউনে। গ্রীষ্মের গরমের কারণে ছেলেদের পোশাক বা ফ্যাশনে এবার বড় কোন পরিবর্তন আসছে না। ছেলেদের জন্য এবার এসেছে নতুন নতুন ডিজাইনের চেক শার্ট। দেশি-বিদেশি জিন্স প্যান্ট। আর মেয়েদের জন্য রয়েছে টু-পার্ট গাউন। এসব গাউনের ঘের রয়েছে বিভিন্ন রকমের। সর্বোচ্চ ৫৬০ ইঞ্চি পর্যন্ত ঘের রয়েছে।

সোমবার সিলেট নগরীর জিন্দাবাজার, বারুতখানা, কুমারপাড়া,নয়াসড়কের বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে হাল ফ্যাশনের এসব তথ্য জানা গেছে।
জিন্দাবাজারের ব্লু-ওয়াটার শপিং সিটি ঘুরে দেখা যায়, এখানে নিচ তলায় জুয়েলারী, জুতার দোকানসহ ভ্যারাইটিস দোকান থাকলেও দ্বিতীয় তলায় মেয়েদের পোশাক, তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় ছেলে, মেয়ে এবং শিশুদের পোশাক নিয়ে সজ্জিত দোকানের সমাহার। সাথে রয়েছে ফুডকোর্ট।
নিচ তলার ক্ল্যাসিক কসমেটিকসের মো. সেলিম আহমেদ বলেন,দুই দিন ধরে কাষ্টমাররা যে হারে ভিড় করছে সেই হারে শেষ রোজা পর্যন্ত ভিড় হলে ইনশাল্লাাহ ব্যবসা খারাপ হবেনা।

তৃতীয় তলার জারা ফ্যাশনের কর্ণধার মো. শাব্বির আহমেদ বলেন, প্রতিবার ভারতীয় সিরিয়ালের নাম ধরে বিভিন্ন পোশাক বাজারে আসে। কিন্তু এবার সেরকম কিছু আসেনি। তবে তরুণীরা এবার বেশি কিনছে গাউন, ইন্ডিয়ান থ্রি-পিস,চায়না পার্টি ফ্রক, লাসা, লং কুটি ও সিঙ্গেল বা ওয়ান পিস জামা। এগুলোর মধ্যে এগিয়ে গাউন,ইন্ডিয়ান থ্রি পিস এবং পার্টি ফ্রক। তবে গাউনের মধ্যে বোটিকসটাই বেশি চলছে বলে জানা গেল। ছোট-বড় বিভিন্ন ঘেরের গাউন রয়েছে। সর্বোচ্চ ৫৬০ ইঞ্চি পর্যন্ত ঘের সম্পন্ন গাউন রয়েছে। এসব গাউন বিক্রি হচ্ছে তিন থেকে ২৫ হাজার টাকায়। অন্যদিকে ইন্ডিয়ান থ্রি পিস,চায়না পার্টি ফ্রক বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকায়।

তৃতীয় তলার চলন্ত সিঁড়ির সঙ্গেই ছেলেদের পোশাকের দোকান ‘নিউ টার্গেট’। দোকানটিকে শার্ট, প্যান্ট ও টি-শার্ট থরে থরে সাজানো। দোকানে কাস্টমারও বেশ চোখে পড়ার মতো।

দোকানের কর্ণধার মো. রুবেল বলেন, এবার টি-শার্টে খুব একটা চলছে না। ছেলে বা তরুণরা মজেছে প্রিন্ট শার্টে। শার্টগুলোর দাম ৫০০-১২০০ টাকা। এছাড়া ভি-গলা,গোল গলা টি শার্টের দাম ৩০০-৫০০ টাকা, প্যান্টের দাম ৮০০- ২০০০ টাকা।

একই তলায় ছেলেদের দোকান ’মোমিনস বাংলাদেশ’র বিক্রয় কর্মী দীপন আহমেদ বলেন, রোজার প্রথম দিকটাতে ছেলেরা মূলত প্যান্ট কিনতে অভস্থ্য। তাই প্রথম দিকে প্যান্টটাই বেশি চলে। আর রোজার শেষে দিকে শার্ট চলে। এবার টি-শার্ট তেমন চলছে না। এখানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রিন্ট শার্ট,চেক শার্ট পাওয়া যায়। প্রিন্ট শার্টের দাম পড়বে সর্বোচ্চ ৯০০-১২০০ টাকা। আর চেক শার্টের দাম পড়বে ৮০০-১০০০টাকা। এর বাইরে পোলো ব্রান্ডের টি-শার্ট পাওয়া যায়, যার দাম পড়বে ৫০০-১০০০ টাকা। জিন্স ষ্টিজ কাপড়ের প্যান্টের দাম পড়বে ১২০০-১৮০০ টাকা। কালার ফুল গেফার্ডিন প্য্যান্টের দাম পড়বে ৭০০-১০০০ টাকা। তবে চায়না প্যান্ট ভাল চলে। যা পাওয়া যায় ২০০০- ২৫০০ টাকায়।

এদিকে চতুর্থ তলার ‘পাঞ্জাবী পয়েন্টে’ রঙ বেরঙের পাঞ্জাবীর সমাহার দেখা গেল। বিক্রেতা শাহিন আহমেদ জানান, আমাদের ব্যবসা ৭ রোজার পর থেকেই ভালই চলছে বলবো। আমাদের এখানে প্রিন্ট,এক কালার পাঞ্জাবীর চাহিদাটাই এবার বেশি । তবে ইন্ডিয়ান, কাজ করা পাঞ্জাবীগুলো ভালই চলছে। ইন্ডিয়ান পাঞ্জাবীগুলোর দাম ৪০০০- ৮০০০ টাকা। প্রিট পাঞ্জাবী ৮০০-১৬০০ টাকা। আর কাজ করা পাঞ্জাবী বিক্রি হচ্ছে ৮০০-১০০০ টাকায়।
তাছাড়া আমাদের এখানে বাচ্চাদের কালেকশনও রয়েছে।

একই ধরনের তথ্য জানা গেল এই মার্কেটের পার্শ্ববর্তী মার্কেট সিলেট সিটি মার্কেটে গিয়ে। যেখানে এখানে ছেলে-মেয়েদের প্রায় সব ধরনের পোশাক ও প্রসাধনী পাওয়া যায়। বিভিন্ন জায়গা থেকে এই মার্কেটে লোকজন চলে আসে কেনাকাটার জন্য। ঈদের জন্য ভিড়ও একটু বেশি।

মার্কেটে প্রবেশ দাড়ের সিঁড়ির দুই পাশেই মেয়েদের পোশাক ও প্রসাধনী। উপরে রয়েছে মেয়েদের পোশাকের প্রাধান্য। ছোট বাচ্চা ও ছেলেদের পোশাকের জুড়ি নেই।
কথা হয় দ্বিতীয় তলার লাবণ্য ফ্যাশনের মো. সাঈদুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, এই মার্কেটে নারী ও বাচ্চাদের বিভিন্ন ধরনের পোশাক পাওয়া যায়। ফলে সবাই এখানে চলে আসে। তবে সকালের দিকে বেচা-বিক্রি ভালো হয়। সন্ধ্যার আগে বেচাকেনা হয় না বললেই চলে। তবে আগের চেয়ে ক্রেতাদের আনাগোনা বেড়েছে। মেয়েদের পোশাকের মধ্যে বেশি চলছে আজা লেইজা,বকুল কথা,জলপরী। তাছাড়া গাউনও ভালই চলছে। যেগুলোর দাম পড়বে ৩০০০-১০০০০ টাকা।

মার্কেটে কথা হয় শপিং করতে আসা সিমরানের সঙ্গে। ভার্সিটি পড়ুয়া এই ছাত্রী বলেন, মার্কেটে দেখতে এসেছি কোন ফ্যাশনের পোশাক এবার বেশি উঠেছে। এখনো কেনাকাটা করেনি। তবে দেখে যাচ্ছি পরে কিনব।

তিনি জানান, এবার একচেটিয়া নামকরা কোন পোশাক বাজারে আসেনি। এজন্য আমি কনফিউস্ড। আসলে কি কিনব। কিছু না পেলে টু-পার্ট জামা (গাউন) কিনে এবার ঈদ করব।

একই কথা জানান নাহিদা বেগম। তিনি বলেন, বাচ্চাদের জন্য কেনাকাটা করেছি। তবে নিজের জন্য করিনি। এখনও পছন্দ হয়নি বলে কেনা হয়নি। তবে দোকানগুলোতে এবার গাউন ও ইন্ডিয়ান পোশাকেরই আধিপত্য।




এ বিভাগের অন্যান্য খবর




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: