সর্বশেষ আপডেট : ৪৪ মিনিট ৯ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মেয়েকে যৌনকাজে বাধ্য করায় মা, রাজি না হলে মারধর করতো বাবা!

অনলাইন ডেস্ক:: বরগুনায় এক তরুণীকে জোরপূর্বক যৌনকাজে বাধ্য করায় মা ও মায়ের দ্বিতীয় স্বামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (৪ জুন) রাতে সদর উপজেলার কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের আঙ্গারপাড়া গ্রাম থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় বরগুনা থানায় একটি মামলা করেছেন ভুক্তভোগী তরুণী।

মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাবার মৃত্যুর পর থেকে মায়ের দ্বিতীয় স্বামীর ঘরে অযত্ন- অবহেলায় বেড়ে ওঠে ওই তরুণী। স্থানীয় একটি মাদরাসায় সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া চললেও এক সময় তা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকেই তাকে জোরপূর্বক যৌনকাজে বাধ্য করা হয়।

নির্যাতিত তরুণী জানায়, শারীরিক অসুস্থতা এবং মানসিক অবস্থা যেমনই থাকুক না কেন নিষ্ঠুর মা আর তার স্বামীর নির্দেশে দিনরাত তাকে বাধ্য করেছে যৌনকাজে। রাজি না হলে চলতো নিষ্ঠুর নির্যাতন। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে এমন নির্মম নির্যাতনের একপর্যায়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে ওই তরুণী।

পরে গর্ভপাত ঘটানোর জন্য বরগুনার বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে তাকে নিয়ে যায় অভিযুক্ত মা ও তার স্বামী। কেউ রাজি না হওয়ায় গর্ভপাতের ওষুধ খাওয়ালে সাত মাসের এক কন্যা শিশুর জন্ম দেয় ওই তরুণী।

জন্মের পর শিশুটির মুখে লবণ দিয়ে হত্যা করে ভুক্তভোগী ওই তরুণীর মা ও সৎ বাবা এবং সৎ বোন। হত্যার পর বাড়ির পাশের এক ঝোঁপের মধ্যে শিশুটিকে মাটিচাপা দেয় তারা।

এ ঘটনার তিন দিনের মাথায় আবারও একাধিক পুরুষের সঙ্গে ওই কিশোরীকে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা হয়।

গত ২ জুন (শনিবার) রাতেও তাকে যৌনকাজে বাধ্য করার পর সর্বশেষ সোমবার রাতে পুনরায় তাকে একই কাজ করতে বাধ্য করা হয়। শারীরিক অসুস্থতার কারণে অপারগতা প্রকাশ করে তাদের কাছে অনুনয়-বিনয় করে ওই তরুণী। কিন্তু কোন কথাতেই মন গলেনি তাদের। তার ওপর নির্মম নির্যাতন চালায় মা ও তার দ্বিতীয় স্বামী। একপর্যায়ে চিৎকার শুরু করে তরণী। চিৎকারের খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে বরগুনা থানায় নিয়ে যায় প্রতিবেশীরা।

বরগুনা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মাসুদুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণী সোমবার রাতে মামলা করেছেন। রাতেই সদর উপজেলার কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের আঙ্গার পাড়া গ্রাম থেকে অভিযুক্ত লাইলী বেগম (৪৫) ও তার দ্বিতীয় স্বামী খালেক মোল্লাকে (৫৫) গ্রেফতার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছি। মঙ্গলবার গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। ওই তরুণীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: