সর্বশেষ আপডেট : ৩১ মিনিট ৫০ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ২২ অক্টোবর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যন্ত্রণা ভুলতায়

ডেইলি সিলেট ডেস্ক:: ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে চলাচলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জের ভুলতায় কয়েক কিলোমিটার পার হতে, ঈদের আগে এই সমস্যা আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।ভুলতায় ফ্লাইওভারের নির্মাণকাজের কারণে নিয়মিত হচ্ছে এই যানজট। ফ্লাইওভারের নিচের চার লেইনের সড়কের দুই পাশের দুটি লেইন স্থানীয় যানবাহন ও দোকানপাটের দখলে থাকায় সেখান দিয়ে যান চলাচল বন্ধ।

এর উপর ওই এলাকাতেই মহাসড়কের উপর দিয়ে পার হয় ঢাকা বাইপাস সড়কের যানবাহন। বাইপাসের ভারি যানবাহন পার হতে বেশি সময় লাগায় মহাসড়কের দুই পাশে যানবাহনের সারি দীর্ঘ হয়। সড়কের এই সমস্যার সঙ্গে রয়েছে যানজটে পড়ে যানবাহনের উল্টোপথে যাওয়ার প্রবণতা, যাতে যানজট কমাতে গিয়ে দিশা হারাচ্ছেন সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা। বৃহস্পতি ও শুক্রবার সায়েদাবাদ থেকে নরসিংদী পর্যন্ত গিয়ে মহাসড়কের এ চিত্রই পাওয়া গেছে।

নারায়ণঞ্জ জেলা পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার মো. আবদুর রশিদ শুক্রবার বলেন, “ছোট ছোট যানবাহন উল্টো দিকে যাওয়ায় যানজট আরও প্রকট হচ্ছে। বিশেষ করে লেগুনা, প্রাইভেটকারসহ অন্যান্য গাড়ি যত আছে এক মুহূর্তও দেরি করতে চায় না। উল্টোদিকে চলা শুরু করে। এ কারণে সামনে থেকে আসা যানবাহনের মুখোমুখি হয়ে পুরো রাস্তাটাই বন্ধ করে দেয়।”

এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “কোথায় জটলা লাগলো সেটা খুঁজে বের করে ছাড়িয়ে দিতে হয়। আবার এইটা ছাড়িয়ে দিতে দিতে দেখা যায় টেইল আরও লম্বা হতে থাকে, পেছনে আরেক জায়গায় লাগিয়ে দেয়। রোড ডিভাইডার না থাকায় ঝামেলাটা খুবই বেশি। বৃহস্পতিবার বিকালে ভুলতা ফ্লাইওভারের কাছে তীব্র যানজট তৈরি হয়। সিলেটমুখী যানবাহনগুলোর পাঁচ-ছয়টি সারি করা হয়।

ফ্লাইওভারের শুরু থেকে দুই লেইনে যানবাহন চলে। কিন্তু গাউসিয়া মার্কেটের সামনে এসে আবার এক লেইনে যায়। আরেক অংশে বাস, হিউম্যান হলার ও রিকশা রেখে যাত্রী তোলা হয়, যাতে দূরপাল্লার গাড়ি যেতে বাধা পায়।গোলাকান্দাইল মোড়ে মদনপুর থেকে বাইপাস সড়ক ধরে আসা যানবাহনগুলো সোজা পার হতে দেখা যায়। কিন্তু গাজীপুরের দিক থেকে আসা যানবাহনগুলোকে মোড় থেকে প্রায় একশ মিটার সামনে ঘোরাতে হয়। বড় বড় যানবাহন ঘোরাতে সময় বেশি লাগায় পেছনে গাড়ি আটকে যায়।

ভুলতা থেকে নরসিংদীর মাধবদী পর্যন্ত সড়কে কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। মাধবদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দুই লেইন সড়কের এক অংশে হিউম্যান হলার এবং বিভিন্ন পরিবহনের বাস রেখে দেওয়ায় দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল বাধা পায়।

এই পথে ভোগান্তির শুরু যাত্রাবাড়ী থেকে। মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারের নিচের সড়কের কুতুবখালী পর্যন্ত নিষ্কাশন নালা বসানো হচ্ছে। বৃষ্টির পানি জমে সড়ক ভেঙে গেছে অনেক জায়গায়। এতে এক লেইন ধরে যানবাহন চলছে ধীরে।যাত্রাবাড়ী থেকে চিটাগাং রোড পর্যন্ত আট লেইন সড়কে যানবাহন চলে দ্রুত। তবে চিটাগাং রোডে এসে সেই গতি কমে যায়। কাঁচপুর সেতুতে যানবাহন ওঠে দুই লেইন ধরে, অনেক সময় এক লেইনে। এতে চিটাগাং রোড এলাকায় প্রায়ই যানজট হয়।

কাঁচপুর থেকে যাত্রামুড়া পর্যন্ত সিলেট মহাসড়ক চার লেইনের। তবে সিনহা গার্মেন্টসের কর্মীদের ছুটির পর রাস্তা পারাপারের জন্য যানবাহন আটকে দেওয়ায় কাঁচপুরে প্রায়ই যানজট লাগে।বরাব এলাকায় লেগুনা ও আঞ্চলিক বাসগুলো মহাসড়কের দুই পাশে দাঁড় করিয়ে যাত্রী তোলে। এসব যানবাহন সড়কে ঘোরানোর কারণেও যানজট তৈরি হচ্ছে।

এবার রোজার শুরুতেই বরাব বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কমিউনিটি পুলিশ নিয়োগ করেছে তারাব পৌরসভা। এতে সড়কের এই অংশে যানজট অনেকটাই কম বলে জানান কমিউনিটি পুলিশের সদস্য আবুল খায়ের।তিনি বলেন, “লেগুনা আর লোকাল বাসগুলান বেশি ডিস্টার্ব করে। রাস্তায় দাঁড় করাইয়া প্যাসেঞ্জার উডায়-নামায়। কিন্তুক এইবার আমরা তাগোরে দাঁড়াইতে দেই না। দেখেন না, এই কারণে জ্যাম কম। নইলে বিকাল বেলা এইহানে ব্যাপক জ্যাম লাগত।”

রূপগঞ্জ ও মুড়াপাড়া থেকে আসা আঞ্চলিক সড়ক রূপসীতে মহাসড়কে মিলেছে। এই সড়ক দিয়ে বহু পণ্যবাহী ট্রাক মহাসড়কে আসে। এসব ট্রাকের কারণে রূপসীতে যানজট তৈরি হয় বলে জানান কিশোরগঞ্জের অনন্যা সুপার পরিবহনের চালক শরীফ হোসেন।তিনি বলেন, “শুধু সিটি গ্রুপের কারখানায় সকাল থেকে কয়েকশ ট্রাক ঢোকে। মাল বোঝাই করে দুপুরের পর থেকে বাইর হয় ট্রাকগুলা। ওই দিক থেইকা আরও ট্রাক আহে। ট্রাফিক পুলিশ না থাকলে ট্রাক ড্রাইভাররা উল্টাপাল্টা গাড়ি ঢুকাইয়া দেয়।”

বরপা থেকে ভুলতা পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে কয়েকটি তৈরি পোশাক কারখানা। এসব কারখানার কর্মীদের ছুটির পরও মহাসড়কে যানজট তৈরি হচ্ছে।বৃহস্পতিবার বিকালে দেখা যায়, কারখানা ছুটির পর মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়ে শ্রমিকদের পারাপারের সুযোগ করে দিচ্ছেন নিরাপত্তাকর্মীরা। হিউম্যান হলার-মিনিবাস সড়কে রেখে কর্মীদের ওঠানো হচ্ছে। এ সময় দুদিক থেকে আসা যানবাহন আটকা পড়ছে।

তবে সমস্যা সবচেয়ে বেশি হয় ভুলতা ফ্লাইওভার এলাকায় যানজটে। যানবাহনের সারি কয়েক কিলোমিটার চলে আসে। বৃহস্পতিবার বিকেলেও ভুলতার যানজটের প্রভাবে পাঁচ কিলোমিটার বরপা পর্যন্ত যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।এ সময় তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে ছোট বড় অনেক যানবাহন উল্টোদিকে যাওয়ার চেষ্টা করে। এতে কোনোদিকেই যান চলতে না পারায় যানজট আরও তীব্র হয়।

উল্টোদিকে যাওয়ার তালিকায় ছোট ছোট বাহন যেমন আছে, তেমনি আছে বড় পরিবহন কোম্পানির বাসও। আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাস।বৃহস্পতিবার আড়িয়াব এলাকায় সড়কের উল্টো দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছিল শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস। কারণ জানতে চাইলে চালক বলেন, “ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্যামে পইড়া থাকলে আপনেও উল্টা দিকে আসবেন।”

সেখানে কথা হয় সিলেটগামী হানিফ পরিবহনের বাসচালক মো. জাকির হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, বরপা থেকে গাউসিয়া পর্যন্ত আসতে দেড় ঘণ্টা সময় লেগেছে।পৌনে ২টার সময় সায়েদাবাদ থেকে বাস ছাড়ছি। এখন বাজে সাড়ে ৪টা। গাউসিয়া এখন পর্যন্ত পার হইতে পারলাম না। এখন এই অবস্থা, ঈদের আগে কেমন হবে আল্লাহ জানে।”

ব্রাহ্মণবাড়িয়া রুটের সোহাগ পরিবহনের বাসের চালক আল আমিন জানান, তারাবো বিশ্বরোড থেকে ভুলতা পর্যন্ত আসতে তার দেড় ঘণ্টা সময় লেগেছে। তার মতে যানবাহন উল্টোরাস্তায় যাওয়ায় যানজট আরও বেড়েছে।এই সব বাস সুযোগ পাইলেই উল্টা যাওয়া শুরু করে। এ কারণে দুদিক থেকেই গাড়ি আটকে যায়। ঈদের আগে এসব নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে যানজট বাড়তে পারে।”

ঈদযাত্রায় মহাসড়কের ওই অংশে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকবে কি না সে প্রশ্নের জবাবে পুলিশ কর্মকর্তা আবদুর রশিদ বলেন, “সেটা বলা কঠিন। ঈদের সময় আমরা ফ্লাইওভারের কাজ বন্ধ করে দেব। তবে ঈদের আগে সেখানে যানজট পরিস্থিতির উন্নতি হওয়া কঠিন।কারণ সিলেট যেতে ফ্লাইওভারের শেষ মাথায় সড়কের একপাশের কংক্রিট ঢালাই করা হবে। আজ থেকেই কাজ শুরু করার কথা ছিল। সেজন্য এক পাশ দিয়ে যানবাহন আসবে-যাবে। ওই কোণাটায় জায়গা আছে মাত্র ১৪ মিটার। এ কারণে একটা ঝামেলা হতে পারে।”




এ বিভাগের অন্যান্য খবর




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: