সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ওসমানীনগরের রাশেদাকে রাজনগরে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়

ডেইলি সিলেট ডেস্ক:: মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার মাছুয়া নদী থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত যুবতীর লাশের পরিচয় মিলেছে। তার নাম রাশেদা বেগম (৩০)। তাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তিনি ওসমানীনগর উপজেলার পৈলনপুর ইউনিয়নের অইয়া গ্রামের মৃত ফরাশত মিয়ার মেয়ে। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে রাজনগর থানার পুলিশ আবারক মিয়া (২৩) নামের একজনকে গ্রেফতার করেছে।

সে উপজেলার মনসুরনগর ইউনিয়নের ছিককা গ্রামের মজম্মিল মিয়া ওরফে মজু মিয়ার ছেলে। রবিবার দুপুরে মৌলভীবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে স্বীকারুক্তি দিয়েছে গ্রেফতারকৃত আবারক মিয়া।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার আইয়া গ্রামের মৃত ফরাসত মিয়ার মেয়ে রাশেদা বেগমের সাথে মোবাইল ফোনে পরিচয় হয় গ্রেফতারকৃত আবারক মিয়া ও মৌলভীবাজারের অন্য এক যুবকের। পরে তারা ভাই-বোনের সম্পর্ক গড়ে। আবারক রাশেদাকে ধান কিনে ব্যবসা করতে ৭০ হাজার টাকা নিয়ে রাজনগরে আসতে প্রস্তাব দেয়। গত বুধবার বিকালে রাশেদা ওসমানীনগর থেকে মৌলভীবাজারে আসে পূর্ব পরিচিত ওই যুবকের সাথে দেখা করতে। ওইদিন সন্ধ্যায় ওই যুবক রাশেদাকে নিয়ে রাজনগর উপজেলা পরিষদের সামনে এনে ফোনের মাধ্যমে আবারককে রাজনগরে আসতে ডাকে। পরে তারা সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় রাশেদাকে আবারকের বাড়িতে থেকে যাওয়ার প্রস্তাব দেয়।

এদিকে বোনের ফিরতে দেরি হওয়ায় ওসমানীনগর থেকে রাশেদার বড় ভাই আব্দুল খালিদ রাশেদাকে কল করে কথা বললে সে আবারকের বাড়িতে রাতে থাকবে বলে জানায়। রাত ৮টার দিকে ওই যুবকসহ আবারক তার বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছে বলে রাশেদাকে মাছু নদীর পাড় দিয়ে নিয়ে যায়। এসময় উপজেলার সদর ইউনিয়নের দক্ষিন খারপাড়া গ্রামের মোবারক মিয়ার বাড়ির পাশে মাছু নদীর পাড়ে আবারক ও তার সহযোগী রাশেদাকে কু-প্রস্তাব দেয়। এতে রাশেদা রাজী না হওয়ায় উভয়ে মিলে জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করে। ঘটনা জানাজানি হওয়ার ভয়ে তারা রাশেদার মুখ ও গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে লাশ গুম করতে রাশেদার ওড়নায় ইট বেঁধে নদীর অল্প পানিতে মৃতদেহ ফেলে পালিয়ে যায়। শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে স্থানীয় কয়েকজন একটি লাশ পানিতে ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।

এদিকে রাশেদার বড় ভাই আব্দুল খালিদ তার অন্য ছোট বোনকে নিয়ে শনিবার রাজনগর থানায় আসেন। তারা মর্গে গিয়ে লাশ শনাক্ত করে ওইদনিই রাজনগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে রাজনগর থানার এসআই জিয়াউল ইসলাম ও এসআই রাজীব হোসেনের নেতৃত্বে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে শনিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে কমলগঞ্জ উপজেলার পতনউষার এলাকা থেকে আবারক মিয়াকে একদল পুলিশ গ্রেফতার করে। রবিবার বিকালে মৌলভীবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকারুক্তিমূলক জবানবন্দী দেয় গ্রেফতারকৃত আবারক।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জিয়াউল ইসলাম বলেন, একটি ক্লুলেস মামলা ছিল এটি। রহস্য উদঘাটন করে এক আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামীকেও গ্রেফতার করার চেষ্টা করছি।

রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শ্যামল বণিক বলেন, বোন ডেকে আবার তার সাথে এ ধরণের জঘন্য কাজ করা সত্যিই বেদনার। আদালতে আসামী স্বীকারোক্তি দিয়েছে। নিহতের পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক: লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক: কে এ রহিম সাবলু, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪ (নিউজ) ০১৭১২৮৮৬৫০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: